৫ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত: তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন চাপে ফেসবুক


কিভাবে ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে জনমত প্রভাবিত করা যায়, সে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত ঘটনায় যখন তোলপাড় অবস্থা, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করবে।  স্বাভাবিকভাবেই এতে চাপে পড়েছে আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির কাছে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হওয়া জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা নামের প্রতিষ্ঠানটি ৫কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর  তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। পরে তা ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে। প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান মনে করে, ব্রেক্সিটের আগেও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের হাতিয়ে নেওয়া তথ্য ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছিল। গার্ডিয়ানের পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফেসবুকের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিভাবে ৫ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হয়েছে তার জবাব ফেসবুককে দিতে হবে। থেরেসা মের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘ইনফরমেশন কমিশনারকে’ বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মের এই মন্তব্যের প্রভাবে নাসদাক এক্সচেঞ্জে কয়েক মিনিটের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার ও পরে মোট ৪০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের দরপতন হয়েছে ফেসবুকের শেয়ারের।  ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিয়ো তাজানিও সোমবার বলেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবেন। টুইটার বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের তথ্য অপব্যবহারের ঘটনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন।’ তাছাড়া ভুয়া সংবাদ নিয়ে তদন্তকারী যুক্তরাজ্যের সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রধানও কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা ও ফেসবুককে অভিযুক্ত করেছেন। যুক্তরাজ্যের ‘ডিজিটাল কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্টসের’ প্রধান সংসদ সদস্য ডেমিয়ান কলিন্স বলেছেন, ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গ ও কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকার প্রধান অ্যালেক্সান্ডার নিক্সকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ডাকা হবে। আর বাড়াতে হবে ‘ইনফর্মেশন কমিশনারের’ ক্ষমতা। যাতে করে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য দিতে বাধ্য করতে পারেন। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি কলিন্সের ভাষ্য, ‘ফেসবুকের পক্ষ থেকে এমন কারওর বক্তব্য আমাদের জানতে হবে, ওই প্রতিষ্ঠানটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকার সুবাদে যার প্রকৃত সত্য জানা আছে। কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতে হবে। এবার জাকারবার্গকে তার ফেসবুক পেজের আড়াল থেকে বেরিয়ে সামনে আসতে হবে।’ অন্যদিকে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার  ব্যবহারকারীদের তথ্য কিভাবে ব্যবহার করার হয় সে বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে তলব করার দাবি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের জন্য একজন অ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়িত্ব দিয়েছে। গত মাসে ফেসবুকের প্রতিনিধি এবং কেমব্রিজ অ্যান্যালাইটিক্সের প্রধান নিক্স যুক্তরাজ্যে তদন্ত চলাকালে বলেছিলেন, তারা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য নিয়ে কিছু করেননি। অথচ শুক্রবার কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা এবং উইলিকে নিষিদ্ধ করার কারণ দেখাতে গিয়ে ফেসবুক বলেছে, ওই প্রতিষ্ঠান যে তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত তা তারা ২০১৫ সালেই জানতে পেরেছিল। উল্লেখ্য, কেমব্রিজ অ্যান্যালাইটিকের ক্রিস্টোফার উইলি ফেসবুক ব্যহারকারিদের তথ্য চুরি করে ব্যবহার করার বিষয়টি স্বীকার করে ফেলার পর এবার চারপাশ থেকে আরও চাপ বাড়ছে ফেসবুকের ওপর। এর আগে ফেসবুককে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল। সেখানে তারা ভুয়া সংবাদ ছড়াতে ফেসবুকের ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। নিজেকে ‘সমকামী নিরামিষভোজী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গার্ডিয়ানের কাছে ক্রিস্টোফার উইলি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রধান পরিকল্পনাবিদ ডানপন্থী প[ত্রিকা ব্রেইটবার্টের প্রধান স্টিভ ব্যাননের নেতৃত্বে তিনি কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেসবুক থেকে হাতিয়ে নেওয়া তথ্য দিয়ে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ‘মানসিক চিত্র’ তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে মানসিক অবস্থার সেই বাছাই করা তথ্য ব্যবহার করে ব্যানন নির্বাচনকালীন প্রচারণা চালিয়েছেন। কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকার প্রধান বিনিয়োগকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল দলের দাতা কোটিপতি রবার্ট মারসার্স। তাদের সঙ্গে যোগ দেয়া উইলি বিগ ডাটা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার কাজটি তত্ত্বাবধান করেছেন। ফেসবুক মূলত গবেষণার জন্য তার ব্যহারকারিদের তথ্য কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষককে দিয়েছিল। ওই গবেষকই শর্তভঙ্গ করে তাকে দেওয়া বিশেষ প্রবেশাধিকার কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকাকে দিয়ে দিয়েছিলেন।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি