বাংলাদেশ সোমবার 25, March 2019 - ১১, চৈত্র, ১৪২৫ বাংলা

উৎপাদন ৩০ গুণ বেশি

ঘরে ভেতরে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মাছ চাষ

অনলান ডেস্ক: | প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৫:২৯

আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ঘরের ভেতর মাছ চাষ করে পুকুরের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি উৎপাদন সম্ভব। অর্থাৎ এক ঘনমিটার পুকুরে দুই কেজি মাছ হলে আরএএস (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম) পদ্ধতিতে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে এ প্রযুক্তিতে প্রথম মাছ চাষ শুরু করেন ‘ফিশ হ্যাচারি ও কালচার ফার্ম অ্যাগ্রো থ্রি’র স্বত্বাধিকারী এবিএম শামসুল আলম বাদল। তিনি এ দাবি করেন।বাংলাদেশে একেবারে নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয়। দেরিতে হলেও দেশে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহের মৎস্য চাষি এ বি এম শামছুল আলম বাদল ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরএএস পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন শুরু করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানান, উন্নতমান ও স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে এটি সারা বিশ্বেই সমাদৃত। এ প্রযুক্তিতে তিনি শহরের বিসিক শিল্পনগরীর একটি টিনশেড প্লটে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ট্যাঙ্ক স্থাপন করেন।

প্রতিটি ট্যাঙ্কে পাইপ দিয়ে মেকানিক্যাল ফিল্টার সংযুক্ত করা হয়। এ মেকানিক্যাল ফিল্টার প্রতিটি ট্যাঙ্কের মাছ ও মৎস্য খাদ্যের বর্জ্য পরিষ্কার করে। পরে এ পরিষ্কার পানি পাম্প দিয়ে বায়োফিল্টারে উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া মাছের বৃদ্ধি যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি পরিশোধন করা হয়। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত মাছের গুণগতমান উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাদল জানান, ২০ বছর ধরে মাছ চাষ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে আসছেন তিনি। এ ব্যবসার সূত্র ধরে তিনি বেশ কয়েকবার বিদেশ সফর করেন। বিভিন্ন দেশে গিয়ে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতরে মাছ চাষ করার প্রযুক্তি।
‘আরএএস’ প্রযুক্তি দেখে তিনি ময়মনসিংহ বিসিক শিল্পনগরীতে কাজ শুরু করেন। বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ আগস্ট ৫০ শতাংশ জমিতে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ট্যাঙ্ক স্থাপন করেন। এ পদ্ধতিতে ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ (পাবদা, গোলসা, শিং, মাগুর) চাষ করা হয়। ৮টি ট্যাঙ্কে তিনি পাবদা ও গোলসা মাছ চাষ করছেন। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, চার মাসে প্রতিটি ট্যাঙ্কে আনুমানিক ৬শ’ কেজি মাছ উৎপন্ন হবে। প্রতি কেজির উৎপাদন খরচ হবে দুইশ’ টাকা। প্রতি কেজি চারশ’ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে তার ধারণা। এ পদ্ধতিতে মাছের খাদ্য কম লাগে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত মাছ আকারে বড় হয়। রোগবালাই ও মড়কের আশঙ্কা নেই। ফলে এই মাছ উচ্চ মানসম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচারের জনক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ লাভজনক হয়ে উঠছে। ময়মনসিংহে অ্যাগ্রো থ্রির স্বত্বাধিকারী এবিএম শামসুল আলম বাদল দেশে প্রথম এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। এটি পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে। আগামী ডিসেম্বরে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ ও খরচ দেখে এর সফলতা সম্পর্কে মতামত দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, তবে মাছ চাষের এ পদ্ধতিতে পানি পরিশোধন করে তা ব্যবহার করা হয়। অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন, কোনো ধরনের সংক্রমণ না হওয়া এবং শতভাগ নিরাপদ হওয়ায় বিশ্বে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

নির্মাণাধীন ভবনে ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ

নির্মাণাধীন ভবনে ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি লিমন মজুমদারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে

স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন

রাজধানীতে হেলে পড়েছে ছয়তলা ভবন

রাজধানীতে হেলে পড়েছে ছয়তলা ভবন

 রাজধানীর বালুরঘাট এলাকায় রোববার রাতে একটি ছয়তলা ভবন আরেকটি ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। হেলে পড়া


আতিয়া মহলের অভিযান : দুই বছরেও আসেনি চার্জশিট

আতিয়া মহলের অভিযান : দুই বছরেও আসেনি চার্জশিট

দেশে-বিদেশে আলোচিত সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী সেনা অভিযান ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ এর দুই বছর

জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আটক

জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আটক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে পোস্ট ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের

বাড়ছে দূতাবাস, গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি

বাড়ছে দূতাবাস, গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনীতির প্রাধান্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। এখন রাজনৈতিক কূটনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে


যুদ্ধাপরাধীর বিচারে সাফল্যের ৯ বছর

যুদ্ধাপরাধীর বিচারে সাফল্যের ৯ বছর

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, দেশান্তর, ধর্মান্তরিতকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

 ভয়াল ২৫ মার্চ কালরাত আজ ।জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির জীবনে

প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আগামীকাল ২৬শে মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। আর তাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রস্তুত



আরো সংবাদ


ভুয়া ওয়েবসাইট কিভাবে চিনবেন

ভুয়া ওয়েবসাইট কিভাবে চিনবেন

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:০০

যে কারণে জনপ্রিয় হবে কম দামি আইফোন

যে কারণে জনপ্রিয় হবে কম দামি আইফোন

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:০১



ফোর জি সেবা কতটা পাচ্ছেন গ্রাহকরা?

ফোর জি সেবা কতটা পাচ্ছেন গ্রাহকরা?

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:১০


ফোন রিস্টার্ট না করা কতটা খারাপ?

ফোন রিস্টার্ট না করা কতটা খারাপ?

২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:২০






ব্রেকিং নিউজ






আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১১:০০

প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১০:৫৮