ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলে অবিহিত করলেন এরদোগান


ডেস্ক রিপোর্ট: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ইসরায়েলকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশটি কর্তৃক পরিচালিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলে অবিহিত করেন। সেইসাথে ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার তুর্কি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে তেল আবিবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেয় তুরস্ক। এরদোয়ান সরকারের পক্ষ থেকে জেরুজালেমে নিযুক্ত কনসালকেও তুরস্কে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েল সরকার এরপর তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উপেক্ষা করে সোমবার জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ভূমি দিবসের কর্মসূচি চলমান থাকা অবস্থায় জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে জোরালো হওয়া বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হয় ৬০ ফিলিস্তিনি। আহত হয় ২৭০০ মানুষ। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় তুরস্কের পক্ষ থেকে।
এদিকে ইসরায়েলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে তুরস্কে সংঘটিত হয় বিক্ষোভ। 

এদিন তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগও সোমবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘হত্যাযজ্ঞ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেও দায় নিতে হবে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর শান্তির সুযোগ ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা এমন এক আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে যাতে আরও মানুষ মারা যাবে ও আহত হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ধ্বংস ও বিপর্যয় ডেকে আনবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তুরস্ক।’

আনাদুলু এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে জেরুজালেম থেকে তুর্কি কনসাল জেনারেলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি