বাংলাদেশ বুধবার 20, June 2018 - ৬, আষাঢ়, ১৪২৫ বাংলা

নিম্ন আদালতের বিচারকদের মানতে হবে যে ১৫ নীতিমালা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত ০৪ জুন, ২০১৮ ১৯:৪০:১১

 বিচারিক কাজের সময় দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের (বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিম, আমলে গ্রহণকারী হাকিম ও দায়রা জজদের জন্য) জন্য ১৫ দফা নীতিমালা সংক্রান্ত একটি রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া ওই ১৫ দফা নীতিমালায় বলা হয়েছেÍ

দায়রা জজদের জন্য

১. দায়রা আদালতের বিচারকদের ফৌজদারি রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধীনস্ত আদালতের রায় পুনর্বিবেচনায় (রিভিশন) শুধুমাত্র সম্মত বা অসম্মত উল্লেখ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।

২. সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে জড়িত আইনগত প্রশ্নের গভীরে ঢুকে অনুসন্ধান এবং তারপর তাদের মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে তারা কাঠামোগতভাবেই বাধ্য।

৩. তাদেরকে অবশ্যই বিচারিক মনোভাবাপন্ন হতে হবে এবং যেকোনও আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশনাল বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। যাতে করে সাধারণ জনগণ আদালতের দুর্বল ও শ্লথ গতির কারণে কোনও মামলার তদন্ত, অথবা বিচার বিলম্ব হচ্ছে বলে দোষারোপ করতে না পারে।

৪. অবসরে যাওয়ার আগে এদেশের অনেক সরকারি কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব পালনের প্রতি অনীহা দেখানোর প্রবণতা ধারণ করেন এবং ঢিলেঢালাভাবে কাজ করেন। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজদেরকে ওই ধরনের মানসিকতা ধারণ করা যাবে না। উপরন্তু, দায়িত্ব পালনে তাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবেÍ যাতে করে অধস্তন সহকর্মী, সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবীরা এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের চিরদিনের জন্য স্মরণ করে।

৫. সৎ, মেধাবী, সজাগ এবং দক্ষ অফিসারদের দিয়ে পরিচালনার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গতিশীল ও দেশপ্রেমী অঙ্গ হিসেবে জনগণের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

৬. মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এবং মুখ্য বিচারিক হাকিমের (সিজেএম) সহযোগিতায় সব বিচারক এবং হাকিমদের নিয়ে জেলা/মহানগর দায়রা জজের অফিসে মাসে কমপক্ষে একবার জুডিশিয়াল কনফারেন্স (বিচারিক সভা) করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছেÍ দায়িত্ব পালনে তাদের কী ধরনের সমস্যা, সেটা জানা এবং এরপর দেওয়ানি বিধি ও আদেশ এবং ফৌজদারি বিধি ও আদেশ অনুযায়ী তার সমাধান বের করা। ওই সম্মেলনে সিএমএম এবং সিজেএমদের জন্য একটি বিশেষ অধিবেশন রাখতে হবে, যাতে দেশের ব্যবহারিক আইন (প্রসিডিউরাল ল’স), যেটা সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন বিষয়ের ওপর তারা তাদের ব্যাখ্যা শেয়ার করতে পারেন।

বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য

৭. নালিশি /নারাজি পিটিশনে যেসব সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়, তাদের কাছ থেকে বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমের (ম্যাজিস্ট্রেট) প্রাথমিক দায়িত্ব। তবে যেসব সাক্ষীকে প্রাসঙ্গিক মনে হবে, তাদের বক্তব্যও নিতে হবে।

৮. যদি নালিশি/নারাজি পিটিশনে করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মনে হয়, তাহলে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমকে সম্ভব হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে হবে।

৯. বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকালে একজন হাকিমের কাছে যদি কোনও বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে কোনও মতামত বা ফাইন্ডিংস যোগ করতে হয়, তাহলে ওই হাকিমকে বিচারিক সাক্ষীদের আচরণ/মানসিক অবস্থা রেকর্ড করতে হবে।

১০. একজন বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে তার অনুসন্ধান শেষ করতে হবে।

আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য 

১১. আমলে (অভিযোগ) নেওয়ার ক্ষেত্রে একজন হাকিমকে প্রসিকিউশন মেটিরিয়ালস (বিচার্য বিষয়) যেমনÍ এফআইআর, স্কেচ ম্যাপ, ইনডেক্স, সিজার লিস্ট, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট, বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কেস ডায়েরি গভীরভাবে নীরিক্ষা করতে হবে। যদি সেখানে কোনও বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান থাকে, তাহলে আমলে নেওয়া হাকিমকে ওই বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সব বিষয়ে অবশ্যই পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হবে।

১২. একটি সিআর মামলার ক্ষেত্রে যখন একজন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বক্তব্য নেন, তখন তাকে সংক্ষিপ্তভাবে বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করতে হবে, যাতে যে কেউ সহজেই অভিযোগের ধরণ বুঝতে পারেন।

১৩.ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় নেওয়া বক্তব্য থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, তাতে  অপরাধ আমলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রাথমিক উপাদান রয়েছে।

১৪. নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা হলে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই ‘আলেয়া ভার্সেস স্টেট’ মামলায় দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।

১৫. যেকোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়ার আগে একজন হাকিমকে অবশ্যই আমলে নেওয়ার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে হবে। আমলে গ্রহণকারী হাকিমকে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিম বা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তাব বা সুপারিশের মধ্যে আবদ্ধ রাখলে চলবে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিমের প্রতিবেদনে কোনও অভিযুক্তের নাম সুপারিশ না করে থাকলেও আমলে গ্রহণকারী হাকিম উক্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। কোনও আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হলে, অথবা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকারী হাকিম সুপারিশ করলে, আমলে গ্রহণকারী হাকিমের ওই আসামিকে বাদ দেওয়ার কোনও ক্ষমতা থাকবে না।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

ধামরাইয়ে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পায়নি

ধামরাইয়ে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পায়নি

 মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির আলোকে ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে আইএস’এর জঙ্গি হামলার হুমকি

বিশ্বকাপ ফুটবলে আইএস’এর জঙ্গি হামলার হুমকি

সারাবিশ্বের ফুটবল পাগল দর্শকরা যখন গভীর আগ্রহে রাশিয়ায় সমবেত হচ্ছে বা বিভিন্ন দেশের দর্শক টেলিভিশন

বাজেট পাসের আগেই চালের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি

বাজেট পাসের আগেই চালের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে।


সিএমএইচে কেন বিশ্বাস নেই খালেদার : প্রশ্ন কাদেরের

সিএমএইচে কেন বিশ্বাস নেই খালেদার : প্রশ্ন কাদেরের

 কারাগারে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে

ঈদে বড় কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঈদে বড় কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

 জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। ঈদকে

খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে যাবেন বিএনপি নেতারা

খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে যাবেন বিএনপি নেতারা

 দলীয় প্রধান কারাগারে, আর তাই ঈদুল ফিতরের দিনে তাদের নেত্রীকে দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে


হাসিনা যে সুযোগ পেয়েছেন, খালেদা কেন পাবেন না?

হাসিনা যে সুযোগ পেয়েছেন, খালেদা কেন পাবেন না?

 বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে পাঠাবে না সরকার। অথচ এক সময় শেখ হাসিনা

ভারতের নাক গলানোর অধিকার নেই : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ভারতের নাক গলানোর অধিকার নেই : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমরা এমনিতেই দেশের লোকেরা মনে করি বিএনপি জামায়েত

মাদক নির্মুলে বন্দুক যুদ্ধের নামে মানুষ খুন বন্ধ করার দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের

মাদক নির্মুলে বন্দুক যুদ্ধের নামে মানুষ খুন বন্ধ করার দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের

 মাদক নির্মুলে বন্দুক যুদ্ধের নামে মানুষ খুন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার। বৃহস্পতিবার



আরো সংবাদ







১৪ বছরে গ্রেফতার ৭২ হাজার

১৪ বছরে গ্রেফতার ৭২ হাজার

০১ জুন, ২০১৮ ১৪:৩৮







ব্রেকিং নিউজ