সাভারে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন


 চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সাভার মডেল থানা প্রাঙ্গণে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান।
আইজিপি বলেন, সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়কে ভিভিআইপিদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদান, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, চোরাই গাড়ি উদ্ধার ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও দমন সম্ভব হবে। সিসি টিভির এসব কার্যক্রম সম্পর্কে সকল শ্রেণি-পেশার লোকজন জানতে পারলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমে আসবে এবং অপরাধীরা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশের এই পালট প্রকল্পকে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি অন্যান্য জেলার মহাসড়কও সিসিটিভির আওতায় আনার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের সভাপতিত্বে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এআইজি মীর শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল গণি, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ১৩ টি নিজস্ব পুলের মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তারমধ্যে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ৮টি এবং নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিংয়ের জন্য সাভার মডেল থানায় বসানো হয়েছে সার্ভার স্টেশন। প্রতিটি ক্যামেরায় নিজস্ব পাওয়ার ব্যাকআপ থাকায় লোডশেডিংয়ে বন্ধ থাকার কোনো আশঙ্ক নেই। ঝর-বৃষ্টি আর রোদে পুড়ে নয় এখন থেকে থানার সাভার স্টেশনে বসেই অবৈধ পার্কিং, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনসহ মহাসড়কের সকল অবপরাধ এবং অপরাধীদের নজরদারি করবে পুলিশ।
বিআরটিএ’র সহযোগিতায় গাড়ির নাম্বার প্লেট শনাক্ত ও গতি নিরূপণ করা যাবে। প্রতিটি ক্যামেরার দুই মাস পর্যন্ত রেকর্ড জমা রাখার সুবিধা রয়েছে। ফলে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদান ছাড়াও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানে সহায়তা করবে। কোনো ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অ্যালার্ম বাজবে।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের  কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি