বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার 21, June 2018 - ৮, আষাঢ়, ১৪২৫ বাংলা

northbangla 24

তাঁদের এ কেমন আচরণ!

০৭ মে, ২০১৬ ১৭:১৩:৫৫

আমাদের দেশের মেয়েরা সত্যিই অভাগী। তাদের কোথাও শান্তি নেই। ঠিকভাবে পড়ালেখা করবে, সে উপায়ও তাদের নেই। কারণ, যেখানে তারা পড়তে যায়, সেখানে আছেন কিছু শিক্ষক, যাঁরা মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়ন করতে ভালোবাসেন এবং তাঁরা তা করেনও। বিবেকবর্জিত এসব শিক্ষকের কারণে মেয়েদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। অনেক মেয়ের পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলাবাগান থানার পুলিশ এমনই একজন যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। আহ্‌ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের নাম মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌস। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন। অনেক দিন ধরেই তিনি কাজটি করেছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের এহেন আচরণে লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করে। কেমন করে পারেন তাঁরা এমন আচরণ করতে?

ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের মর্যাদা। বাবা-মা সন্তানের লালন-পালন করেন। কিন্তু প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন শিক্ষক। শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাঁরা শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন কিছু শিক্ষক আছেন, যাঁরা এসবের ধার ধারেন না। শিক্ষকের মর্যাদার কথা ভুলে গিয়ে যাঁরা শুধু মেয়েদের যৌন হয়রানি করতে ভালোবাসেন। মনে হয় এটাই তাঁদের মূল কাজ। এই চরিত্রের কতিপয় শিক্ষকের কারণে আমাদের গোটা শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা।

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএন-উইমেনের করা এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ৭৬ শতাংশ ছাত্রীই কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। তবে পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার সবচেয়ে বেশি, ৮৭ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে ৭৬ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজে যৌন হয়রানির শিকার হন ৫৪ শতাংশ ছাত্রী। হয়রানিকারীদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষকেরা অন্যতম। এ কেমন সমাজে আমরা বাস করছি, যেখানে মেয়েরা শিক্ষাঙ্গনেও নিরাপদ নয়।

গত কয়েক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা লঘুদণ্ড। সাময়িক বরখাস্ত, ছুটিতে পাঠানো, চাকরিচ্যুত করা—এই হচ্ছে শাস্তি। আহ্‌ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফেরদৌসকেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাও আবার ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে। এসব শাস্তিকে কে ভয় পায়? তাই তো মহা উৎসাহে শিক্ষকরূপী নরপশুরা ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কোনো ভয়-ডর নেই।

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অভিভাবকেরা অনেক দিন তাঁদের মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি। কারণ, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন করতেন। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া কলেজের এক শিক্ষকের প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার ও মুঠোফোনে আপত্তিকর কথা বলার জের ধরে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এক ছাত্রী। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক বিদ্যালয়ের ছাত্রীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষকের যৌন হয়রানির কারণে। ওই মেয়ের মা-বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। এ রকম ঘটনা হরহামেশা ঘটেই চলেছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই যেন।

যৌন হয়রানি রোধে আমাদের দেশে কোনো আইন বা নীতিমালা কখনো ছিল না এবং এখনো এ বিষয়ে কোনো আইন নেই। তবে হাইকোর্টের কিছু দিকনির্দেশনা আছে, যা বাস্তবায়িত হতে দেখা যায় না। এ নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকের মাথাব্যথা আছে, এমনটা কখনো মনে হয়নি। এখন সময় হয়েছে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করার। তা না হলে মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হতেই থাকবে। কোনো কিছু দিয়েই তা রোধ করা যাবে না। আর ধিক্কার জানাই সেসব শিক্ষককে, যাঁরা মেয়েদের যৌন হয়রানি করেন।

রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

ধামরাইয়ে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পায়নি

ধামরাইয়ে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পায়নি

 মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির আলোকে ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদির মৃত্যু

কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদির মৃত্যু

 ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সোহেল (২৪) নামে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে

বিশ্বকাপ ফুটবলে আইএস’এর জঙ্গি হামলার হুমকি

বিশ্বকাপ ফুটবলে আইএস’এর জঙ্গি হামলার হুমকি

সারাবিশ্বের ফুটবল পাগল দর্শকরা যখন গভীর আগ্রহে রাশিয়ায় সমবেত হচ্ছে বা বিভিন্ন দেশের দর্শক টেলিভিশন


বাজেট পাসের আগেই চালের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি

বাজেট পাসের আগেই চালের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে।

সিএমএইচে কেন বিশ্বাস নেই খালেদার : প্রশ্ন কাদেরের

সিএমএইচে কেন বিশ্বাস নেই খালেদার : প্রশ্ন কাদেরের

 কারাগারে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে

ঈদে বড় কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঈদে বড় কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

 জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। ঈদকে


মুসার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ জুলাই

মুসার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ জুলাই

শুল্ক ফাঁকি ও সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখার অস্বচ্ছ হিসাব দাখিলের অভিযোগে ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা

খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে যাবেন বিএনপি নেতারা

খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে যাবেন বিএনপি নেতারা

 দলীয় প্রধান কারাগারে, আর তাই ঈদুল ফিতরের দিনে তাদের নেত্রীকে দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে জেলগেটে

হাসিনা যে সুযোগ পেয়েছেন, খালেদা কেন পাবেন না?

হাসিনা যে সুযোগ পেয়েছেন, খালেদা কেন পাবেন না?

 বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে পাঠাবে না সরকার। অথচ এক সময় শেখ হাসিনা



আরো সংবাদ








১৪ বছরে গ্রেফতার ৭২ হাজার

১৪ বছরে গ্রেফতার ৭২ হাজার

০১ জুন, ২০১৮ ১৪:৩৮






ব্রেকিং নিউজ