Tuesday, March 31, 2020

আমাদের মিডিয়াসমূহ


আক্রান্ত-বাংলাদেশ: ৪৯, বিশ্ব: ৭,৮৬,২৯১
সুস্থ-বাংলাদেশ: ১৯, বিশ্ব: ১,৬৬,০৮৮
মৃত্যু-বাংলাদেশ: ৫, বিশ্ব: ৩৭,৮২০

টক অফ বাংলাদেশ

Home Blog

হার্ট ও ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে মিষ্টি আলু

0



গোল আলুর সকল স্বাস্থ্য উপকারিতাই মিষ্টি আলুতে রয়েছে এবং এছাড়াও মিষ্টি আলু আরো কিছু উপকার করে। মিষ্টি আলু বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে এবং তা পুষ্টিতে ভরপুর। এটি আপনার হার্ট ও ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

মিষ্টি আলুর পুষ্টি উপকারিতা কী?
সকল আলু পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর, বলেন নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বিজেড নিউট্রিশনের স্বত্ত্বাধিকারী ও ডায়েটিশিয়ান ব্রিজিটি জিটলিন। কিন্তু মিষ্টি আলুতে (কমলা, হলুদ ও পার্পল রঙের মিষ্টি আলু) গোল আলুর তুলনায় কম ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। মিষ্টি আলুতে উচ্চ মাত্রায় ‘ভিটামিন এ’ থাকে। ‘ভিটামিন এ’ হচ্ছে একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ ত্বক ও দৃষ্টি বজায় রাখতে সাহায্য করে। একটি মিষ্টি আলু আপনাকে দৈনিক সুপারিশকৃত ১০০ শতাংশের বেশি ভিটামিন এ সরবরাহ করে, ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার অনুসারে।

মিষ্টি আলুতে প্রচুর ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬ থাকে, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামেরও ভালো উৎস, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া একটি মিষ্টি আলুতে প্রায় চার গ্রাম উদ্ভিজ্জ ফাইবার রয়েছে, যা আপনাকে স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমায়, যেমন- টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল।

মিষ্টি আলুতে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকে?
স্টার্চি রুট ভেজিটেবল হিসেবে মিষ্টি আলুতে নন-স্টার্চি ভেজিটেবলের (যেমন- ব্রকলি) চেয়ে বেশি কার্বোহাইড্রেট থাকে। অর্ধ বাটি মিষ্টি আলুতে প্রায় ১৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যেখানে সমপরিমাণ ব্রকলিতে থাকে প্রায় ৩ গ্রাম। কিন্তু এটি হতে পারে মিষ্টি আলু খাওয়ার অন্যতম কারণ, ভয় পাওয়ার নয়। নন-স্টার্চি সবজির তুলনায় মিষ্টি আলু বেশি শক্তির যোগান দেয়, যে কারণে এটি দৈনন্দিন কার্যক্রম ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সের জন্য একটি ব্যতিক্রমী জ্বালানি উৎস। সারকথা হচ্ছে, সকল শাকসবজিই আপনার ডায়েটে যুক্ত করার মতো স্বাস্থ্যকর অপশন এবং তারা বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সরবরাহ করে থাকে, বলেন জিটলিন।

মিষ্টি আলু খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায় কি?
কেনার সময় গাঢ় রঙের মিষ্টি আলু কিনুন। কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে, মিষ্টি আলুর রঙ (এটি কমলা, হলুদ অথবা পার্পল যে রঙেরই হোক না কেন) যত বেশি গাঢ় হবে, পুষ্টিগুণ তত বেশি হবে। খোসা ছাড়িয়ে মিষ্টি আলু খাবেন না। সব ধরনের আলু খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হচ্ছে খোসাসহ খাওয়া, কারণ এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, বলেন জিটলিন। খোসায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও থাকে।

মিষ্টি আলু রান্নার সর্বোত্তম উপায়?
আপনি স্টিমিং, রোস্টিং, বেকিং অথবা বয়েলিং যেভাবেই মিষ্টি আলু খান না কেন, পুষ্টি পাবেন। তাই মিষ্টি আলু প্রস্তুতের সকল পদ্ধতিই পুষ্টিকর। আপনি সয়ামিল্ক, প্রোটিন পাউডার ও দারুচিনিসহ স্মুদিতে মিষ্টি আলু মেশাতে পারেন অথবা মিষ্টি আলু ব্লেন্ড করে স্যূপে যোগ করতে পারেন। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ডেজার্ট হিসেবে মিষ্টি আলুর ভর্তা চমৎকার: এতে মধু যোগ করুন এবং আখরোট ছিটান। মিষ্টি আলুকে বেশিক্ষণ রান্না করবেন না, কারণ দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়। ফ্যাটের কথা ভুলে যাবেন না। ভিটামিন এ এর মতো ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন ফ্যাট সোর্সের সঙ্গে ভালোভাবে শোষিত হয়, তাই মিষ্টি আলুর সঙ্গে অল্প পরিমাণে ফ্যাট খান। মিষ্টি আলুর সঙ্গে ফ্যাট সমন্বয়ের একটি স্বাস্থ্যসম্মত অপশন হচ্ছে অলিভ অয়েল- বেকিংয়ের পূর্বে মিষ্টি আলুর ওপর অল্প পরিমাণে অলিভ অয়েল ছিটাতে পারেন। অন্য একটি উপায় হচ্ছে অ্যাভোক্যাডো, পিক্যান অথবা আখরোটের পাশাপাশি মিষ্টি আলু খাওয়া।



চকলেটের ইতিহাস

0

অতীতের চকলেটের সঙ্গে আজকের দিনের চকলেটের মিল খুবই কম। ইতিহাস জানান দেয়, অতীতে চকলেট কোনো মিষ্টি ও ভক্ষণযোগ্য নয়, বরং ছিল তিতা স্বাদের খুবই সম্মানজনক পানীয়!

প্রাচীন মায়া সভ্যতার যুগেও ছিল চকলেটের অস্ত্বিত্ব। এমনকি তারও আগে, দক্ষিণ-পূর্ব মেক্সিকোর প্রাচীন ওলমেক সভ্যতায়ও এর প্রচলন খুঁজে পেয়েছেন ইতিহাসবিদরা। ‘চকলেট’ শব্দটা শুনলেই মিষ্টি ক্যান্ডি বার ও মনোরম মিষ্টান্নের ছবি চোখে ভেসে ওঠে; তবে সুদূর অতীতের চকলেটের সঙ্গে আজকের দিনের চকলেটের মিল খুবই কম। ইতিহাস জানান দেয়, অতীতে চকলেট কোনো মিষ্টি ও ভক্ষণযোগ্য নয়, বরং ছিল তিতা স্বাদের খুবই সম্মানজনক পানীয়!

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে বসে কাটানো দিনগুলোতে, চলুন পাঠক, হিস্টোরি ডটকমের সূত্র ধরে জানি চকলেটের ইতিহাস…


কোকো গাছ যেভাবে এলো

কোকো গাছের ফল থেকে তৈরি হয় চকলেট। সেন্ট্রাল ও দক্ষিণ আমেরিকায়  পাওয়া যায় এ গাছ। গুটি গুটি ফলগুলোর একেকটিতে ৪০টির মতো বিন বা শুটি থাকে। শুটিগুলো শুকিয়ে, তারপর পুড়িয়ে বানানো হয় কোকো বিন। 

কে কখন কীভাবে প্রথম এই উপায় আবিষ্কার করেছিলেন, জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়ামের কালচারাল আর্ট কিউরেটর হায়েস লেভিস জানান, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকেই প্রাচীন ওলমেক সভ্যতার মানুষেরা নৌযান ভরে কোকো ফল নিয়ে আসতেন।

ধারণা করা হয়, ওলমেকরা কোকো দিয়ে তাদের উৎসব-আয়োজনের বিশেষ পানীয় বানান। অবশ্য ইতিহাসে যেহেতু এ কথা স্পষ্টভাবে লেখা নেই, ফলে এ সম্পর্কে দ্বিমত রয়েছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদ মনে করেন, ওলমেকরা স্রেফ তরল পদার্থ হিসেবেই কোকো বিনগুলো ব্যবহার করতেন কিংবা গুটিগুলো সাজিয়ে রাখতেন।


মায়া সভ্যতায় চকলেটকে সম্মানজনক পানীয় হিসেবে গণ্য করা হতো। মায়া সভ্যতায় ওলমেকরাই যে কোকো সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান সেন্ট্রাল আমেরিকান মায়া সভ্যতায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের সন্দেহ নেই। মায়া সভ্যতার লোকেরা চকলেট শুধু পানই করতেন না, একে খুব সমীহও করতেন।
মায়ার লিখিত ইতিহাসে উল্লেখ আছে, বিশেষ বিশেষ লেনদেন চূড়ান্ত করার অনুষ্ঠানে চকলেট পানীয় পরিবেশন করা হতো।

যদিও মায়া সংস্কৃতিতে চকলেটের গুরুত্ব ছিল, তবে এটি শুধু সম্পদশালী ও ক্ষমতাধরদের জন্য সংরক্ষণ করা হতো না, বরং প্রায় সবাই স্বাদ নিতে পারার মতোই সহজলভ্য ছিল। অনেক মায়া পরিবারই প্রতি বেলার আহারে চকলেটের স্বাদ নিতেন। মায়া সভ্যতার সময়কালের চকলেট ছিল ঘন ও ফেনাময়; এমনকি তার সঙ্গে লাল মরিচ, মধু কিংবা পানি মেশানো হতো।


মুদ্রা হিসেবে কোকো বিন

১৪২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত  আজটেক সভ্যতার লোকেরা চকলেটকে আরেকটি স্তরে নিয়ে গেছেন। তারা বিশ্বাস করতেন, এটি স্বয়ং ঐশ্বরিক উপহার। মায়াদের মতোই তারাও সুসজ্জিত পাত্রে গরম ও ঠাণ্ডা ক্যাফেইন, স্পাইসড চকলেট পানীয় পান করতেন; তবে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতে তারা মুদ্রা হিসেবেও কোকো বিন ব্যবহার করতেন। আজটেক সংস্কৃতিতে কোকো বিনকে স্বর্ণের চেয়ে দামি হিসেবে গণ্য করা হতো।

আজটেক চকলেট ছিল মূলত উচ্চবিত্তের বিলাসিতা; যদিও বিয়ে কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মাঝে মধ্যে নিম্নবিত্তরাও এর স্বাদ উপভোগ করতেন।

আজটেক চকলেটের খাদক হিসেবে সবচেয়ে কুখ্যাতি আছে দাপুটে শাসক দ্বিতীয় মন্টেজুমার। ১৪৬৬ সালে জন্ম নেওয়া এই আজটেক শাসক বেঁচে ছিলেন ১৫২০ সাল পর্যন্ত। ধারণা করা হয়, শক্তিমান ও বীর্যবান হতে তিনি প্রতিদিন গ্যালন ভর্তি চকলেট পান করতেন। আরও বলা হয়ে থাকে, নিজের সামরিক বাহিনীর জন্যও কোকো বিন সংরক্ষণ করতেন তিনি।


ইউরোপে প্রথম চকলেট আসে স্পেনে; সেই হট চকলেটের বেশ কদর ছিল

ইউরোপে চকলেটের আবির্ভাব কখন ঘটেছে— এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তারা একমত, ইউরোপীয় দেশের মধ্যে প্রথমে স্পেনেই এসেছিল এটি। একদল মনে করেন, আমেরিকা পাড়ি দেওয়ার পথে কোকো বিন আবিষ্কার করেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস; ফেরার পথে সেগুলো স্পেনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। এটি ১৫০২ সালের কথা।

আরেক দল মনে করেন, আজটেকে মন্টেজুমার দরবারে চকলেটের খোঁজ প্রথম পেয়েছিলেন স্প্যানিশ বীর হারনান কার্টেজ। দেশে ফেরার সময় সঙ্গে করে কোকো বিন নিয়ে এসেছিলেন তিনি। চকলেট সম্পর্কে নিজের জ্ঞান তিনি কঠোরভাবে গোপন রেখেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। 

অন্য একদলের ভাষ্য, ১৫৪৪ সালে স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ গুয়াতেমালান মায়া ভীক্ষুদের কাছ থেকে কোকো বিন উপহার পেয়েছিলেন।

স্পেনে চকলেট যেভাবেই আসুক, ১৫০০-এর দশকের শেষভাগে স্প্যানিশ দরবারে এটি বেশ সমাদৃত হয়। অন্যদিকে স্পেন চকলেট আমদানি শুরু করে ১৫৮৫ সালে। ইতালি ও ফ্রান্সসহ অন্য যেসব ইউরোপীয় দেশের অভিযাত্রীরা সেন্ট্রাল আমেরিকায় ভ্রমণ করতেন, তারাও সেখানে চকলেটের খোঁজ পান এবং নিজ নিজ দেশে নিয়ে আসেন।

সহসাই ইউরোপজুড়ে চকলেট ম্যানিয়া ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদা হু-হু করে বাড়তে থাকায় কোকোর চাষাবাদ ও চকলেট উৎপাদনে খাটতে থাকেন হাজারও ক্রিতদাস।

আজটেকদের চকলেট ইউরোপিয়ানদের তৃপ্ত করতে পারেনি। আখের রস, দারুচিনি ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে নিজেদের পছন্দমতো হট চকলেট বানাতে শুরু করেন তারা।

সহসাই লন্ডন, আমস্টারডম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় শহরে চকলেটের দোকান গড়ে উঠতে থাকে।


১৬৪১ সালে একটি স্প্যানিশ জাহাজে করে ফ্লোরিডায় চকলেট আনা হয়। ধারণা করা হয়, ১৬৮২ সালে বোস্টনে প্রথম আমেরিকান চকলেট হাউস চালু হয়। ১৭৭৩ সালের দিকে একটি বড় আমেরিকান উপনিবেশে কোকো বিন আমদানি করা হয়। সেখানকার সব শ্রেণির মানুষ উপভোগ করতে থাকেন চকলেটের স্বাদ।

১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ সাল, আমেরিকান বিপ্লবের দিনগুলোতে সামরিক বাহিনির রেশন তালিকায় যুক্ত হয় চকলেট; কখনো কখনো সৈনিকদের বেতন হিসেবে টাকার বলে এটি দেওয়া হতো। বলে রাখি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও সৈনিকদের রেশন হিসেবে চকলেট দেওয়া হয়েছে।


ইউরোপে যখন প্রথম চকলেট এলো, তখন এটি এতই দামি ও বিলাসী জিনিস ছিল, শুধু বড়লোকেরাই এর স্বাদ নিতে পারতেন। তবে ১৮২৮ সালে ডাচ রসায়নবিদ কোয়েনরাড জোহানেস ভ্যান হাউটেন লবণের ক্ষারের সঙ্গে কোকো বিন মিশিয়ে এক ধরনের পাউডার চকলেট উদ্ভাবন করেন, যেটি খুব সহজেই পানিতে মিশিয়ে পান করা যেত।

প্রক্রিয়াটি ‘ডাচ প্রসেসিং’ নামে খ্যাতি পায়; অন্যদিকে, এভাবে বানানো চকলেটকে ডাকা হয় কোকো পাউডার বা ‘ডাচ কোকো’।

ধারণা করা হয়, কোকো প্রেসেরও উদ্ভাবন করেছিলেন ভ্যান হাউটেন; যদিও কেউ কেউ মনে করেন সেই যন্ত্রের উদ্ভাবক আসলে ভ্যানের বাবা। কোকো প্রেসের মাধ্যমে রোস্টেড কোকো বিনগুলো থেকে কোকো বাটার আলাদা করা হতো। ফলে কোকো পাউডার বানানো সহজ হয়ে ওঠে। এভাবে নানা স্বাদের, নানা ধরনের চকলেট তৈরি হতে থাকে।

ডাচ প্রসেসিং ও চকলেট প্রেস— দুটোই  চকলেটকে সব শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসে। চকলেটের বহুল উৎপাদনকেও ত্বরাণ্বিত করে এগুলো।


উনবিংশ শতকের বেশির ভাগ সময় পর্যন্ত চকলেটকে পানীয় হিসেবেই উপভোগ করা হতো; কখনো কখনো তাতে পানির বদলে মেশানো হতো দুধ। ১৮৪৭ সালে ব্রিটিশ চকলেট কোম্পানি জে. এস. ফ্রাই অ্যান্ড সনস প্রথমবার চিনি, তরল চকলেট ও কোকো বাটার মিশিয়ে চকলেট বার উৎপাদন করে।

১৮৭৬ সালে সুইস চকলেট ব্যবসায়ী ড্যানিয়েল পিটার প্রথম চকলেটের সঙ্গে দুধের গুড়ো মিশিয়ে মিল্ক চকলেট উৎপাদন করেন। এর কয়েক বছর পরই বন্ধু হেনরি নেসলের সঙ্গে তিনি নেসলে কোম্পানি গড়ে তোলেন এবং মিল্ক চকলেটকে বড় পরিসরে বাজারে ছড়িয়ে দেন।

উনবিংশ শতক ধরেই বাজারে চকলেট বেশ দাপট দেখালেও তখনো সেটি ছিল শক্ত, এবং চুষে খাওয়ার অনুপযুক্ত। ১৮৭৯ সালে, আরেক সুইস চকলেট ব্যবসায়ী রুডলফ লিন্ড এমন এক মেশিন উদ্ভাবন করেন, যেটি এমনভাবে মিশ্রণ ঘটাতে সক্ষম, যার ফলে চকলেট হয়ে ওঠে মসৃণ ও কোমল।

উনবিংশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের প্রথমভাগে ক্যাডবুরি, মার্স, নেসলে ও হার্সলের মতো কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ মিষ্টি চকলেট উৎপাদন ও বাজারজাত করতে থাকে।


আধুনিক সময়ের চকলেট খুবই মসৃণ ও সুস্বাদু। অবশ্য কিছু কোম্পানি এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখে শক্ত চকলেটও উৎপাদন করছে। এখন একদিকে যেমন পানীয় চকলেট পাওয়া যায়, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন ধরন ও স্বাদের ভক্ষণযোগ্য চকলেটও। এর মধ্যে শেষোক্ত ধরনের চকলেটের চাহিদাই বেশি।

অবশ্য খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে চকলেট বার খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়; তাই দিন দিন সেটির জায়গা দখল করে নিচ্ছে ডার্ক চকলেট। এটি হৃদপিণ্ডের জন্য ভালো এবং উদ্বেগ কাটাতেও সাহায্য করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনায় রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে যা করবেন

0

পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে। খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষুদ্র এই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ কথা নয়। তাই প্রতিটি মুহূর্তে থাকতে হচ্ছে সতর্ক।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরনো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বারবার হাত ধোয়া, সবকিছু পরিষ্কার রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সারাদিন বাড়িতে থাকার কারণে চাপ বাড়ছে রান্নাঘরেও। এই সময় আপনার রান্নাঘরকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখবেন, তারই সহজ উপায় জেনে নিন-

১. রান্নার আগে আপনার হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে ভুলবেন না। না হলে আপনার হাত থেকেই ব্যাকটেরিয়া খাবারে মিশে যেতে পারে।

২. রান্নাঘরের নোংরা বা সবজির খোসা যেকোনো জায়গায় ফেলে ছড়িয়ে রাখবেন না। মুখবন্ধ ডাস্টবিনেই সেটা রাখুন। প্রতিদিন এই নোংরা বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে অবশ্যই ফেলে দিয়ে আসুন।

৩. বেঁচে যাওয়া খাবার এয়ার টাইট বক্সে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজের তাপমাত্রা যেন সঠিক ভাবে সেট করা থাকে। না হলে খাবারে জীবাণু সৃষ্টি হতে পারে।

৪. খাবার ভালো করে সেদ্ধ করে তবেই খান। বিশেষত আমিষ খাবার ভালো সেদ্ধ না হলে সেখান থেকে নানা জীবাণু আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

আরও পড়ুন : ঘুমেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

৫. সবজি কাটার কাজে যে বটি বা ছুরি ব্যবহার করেন, সেটি প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন। সবজি কেটে ছুরি না ধুয়ে রেখে দিলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেবেই।

৬. খাবার পরিবেশন হাত দিয়ে করবেন না। হাতা বা চামচ ব্যবহার করুন। নয়তো আপনার হাতের নোংরা খাবারে ঢুকে যাবে। খেতে বসার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নেবেন।করোনায় রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে যা করবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক

পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে। খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষুদ্র এই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ কথা নয়। তাই প্রতিটি মুহূর্তে থাকতে হচ্ছে সতর্ক।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরনো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বারবার হাত ধোয়া, সবকিছু পরিষ্কার রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সারাদিন বাড়িতে থাকার কারণে চাপ বাড়ছে রান্নাঘরেও। এই সময় আপনার রান্নাঘরকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখবেন, তারই সহজ উপায় জেনে নিন-

১. রান্নার আগে আপনার হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে ভুলবেন না। না হলে আপনার হাত থেকেই ব্যাকটেরিয়া খাবারে মিশে যেতে পারে।

২. রান্নাঘরের নোংরা বা সবজির খোসা যেকোনো জায়গায় ফেলে ছড়িয়ে রাখবেন না। মুখবন্ধ ডাস্টবিনেই সেটা রাখুন। প্রতিদিন এই নোংরা বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে অবশ্যই ফেলে দিয়ে আসুন।

৩. বেঁচে যাওয়া খাবার এয়ার টাইট বক্সে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজের তাপমাত্রা যেন সঠিক ভাবে সেট করা থাকে। না হলে খাবারে জীবাণু সৃষ্টি হতে পারে।

৪. খাবার ভালো করে সেদ্ধ করে তবেই খান। বিশেষত আমিষ খাবার ভালো সেদ্ধ না হলে সেখান থেকে নানা জীবাণু আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

৫. সবজি কাটার কাজে যে বটি বা ছুরি ব্যবহার করেন, সেটি প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন। সবজি কেটে ছুরি না ধুয়ে রেখে দিলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেবেই।

৬. খাবার পরিবেশন হাত দিয়ে করবেন না। হাতা বা চামচ ব্যবহার করুন। নয়তো আপনার হাতের নোংরা খাবারে ঢুকে যাবে। খেতে বসার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নেবেন।

করোনায় নিজেকে ভালো রাখবেন যেভাবে

0



সুস্থ থাকতে কিছুদিনের জন্য একা হয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই এই সময়ে। কিন্তু এটি বলা সহজ হলেও করা বেশ কঠিন। কিন্তু কিছু করারও নেই। আপনি একা নন, পুরো পৃথিবী আজ এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এই সময়ে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য সংক্রমণ থেকে বাঁচা, এবং তার পাশাপাশি নিজেকে সবদিক থেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা। ফলে এমন কাজ থেকে বিরত থাকবেন যাতে আপনার শরীর বা মন খারাপ হয়। মেনে চলুন কিছু সহজ নিয়ম। ঘরে বন্দি থাকলেও তাতে দিনগুলো সুন্দর হয়ে উঠবে।

পরিচ্ছন্ন থাকুন: বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই বলে বাসায় যেমন ইচ্ছা অগোছালো থাকছেন? এটি একদমই উচিত নয়। ত্বকের যত্ন নিন, নিয়মিত শ্যাম্পু করে চুলটা সুন্দর রাখুন। যতটুকু সাজলে মন ভালো থাকে, ততটুকু সাজুন।

জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকুন: চিপস, চানাচুর বা এজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। এ সময় প্রয়োজন পুষ্টিকর হালকা খাবার খাওয়া যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার হয়। শাকসবজি, ডাল খান বেশি করে, দিনে অন্তত একটা ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রচুর পানি খেতে ভুলবেন না।

কখন হাত ধোবেন: বাথরুমে গেলে, বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে, খাওয়ার আগে আর পরে, বাইরের লোকের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ হলে আর ঘরের কাজ করার পরে- এই পাঁচ ক্ষেত্রে সাবানপানিতে হাত ধুয়ে ফেলতেই হবে। তবে অকারণে বারবার হাত ধোয়ার দরকার নেই।

সব সময় খবর দেখবেন না: সবসময় করোনার খবর নিয়ে মাথা খারাপ করার দরকার নেই। বরং সময়টা বাড়ির লোকের সঙ্গে কাটান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, নিরাপদে থাকার জন্য যা যা করা দরকার তা করুন, তা হলেই সুস্থ থাকবেন।

ত্বকের যত্ন: বাড়িতে আছেন বলেই কি ত্বকের যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দেবেন? বরং বাড়িতে থেকেই ত্বকের ভালো করে যত্ন নিন। সানস্ক্রিন কোনোভাবেই বাদ দেবেন না।

ওজনে বাড়তে দেবেন না: হাঁটাচলা কম হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে উঠে ঘরের মধ্যেই খানিক হেঁটে বেড়ান, ছাদ বা ব্যালকনিতে হাঁটার সুযোগ থাকলে তো কথাই নেই! ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। স্পট জগিং করলেও ফিটনেস বজায় থাকবে।

প্রফুল্লতা ধরে রাখুন: একটানা ঘরে বসে একঘেয়েমি যেন না আসে। ভালো বই পড়ুন, ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে পছন্দের কিছু একটা শিখুন, গান শুনুন। দেখবেন মন ভালো লাগছে! আর মন ভালো থাকলেই ঘরবন্দি বাকি দিনগুলো ভালোভাবেই কেটে যাবে।



যে বিষয়গুলো গুগলে খুঁজবেন না

0



প্রথমেই খটকা লাগতে পারে। মানে কি? গুগল তাহলে কিসের জন্য? সার্চ ইঞ্জিনে যদি খুঁজতেই না পারলাম তাহলে এই সার্চ ইঞ্জিনের সার্থকতা কই রইল? কিন্তু না সার্চ ইঞ্জিনে সব কিছুই সার্চ করতে হবে এমন কোন নিয়ম নীতি নেই। তবে কিছু জিনিস খোঁজা থেকে বিরত থাকাটাই মঙ্গলজনক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

১. যে বিজ্ঞাপনগুলো আপনি পপ আপে দেখতে চান না: বন্ধুর বাচ্চার ডায়াপার এলার্জির বিষয়ে আপনার কাছে হয়ত বিদঘুটে প্রশ্ন থেকেই থাকে। কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করতে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

কিন্তু যদি আপনি ভুলে একবার সার্চ করেই ফেলেন তাহলে আপনাকে আর কে বাঁচাবে! এরপর থেকে যতবারই আপনি নতুন কোন অনলাইন পেজ ওপেন করবেন ততবারই ডায়াপার র‍্যাশ নির্মূলের ওয়েন্টমেন্ট বা মলম বিজ্ঞাপন আপনার সামনে ভেসে উঠবে। কি ব্যাপার টা ভাবতে পারছেন তো?

২. বিব্রতকর বিষয়: অজানা অচেনা কিংবা নিষিদ্ধ বা বিব্রতকর বিষয়ে আমাদের সকলেরই জিজ্ঞাসা থেকে থাকে। কিন্তু আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়গুলোকে আপনার বিপক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব তাহলে এসব সম্পর্কে গুগলে সার্চ করা থেকে বিরত থাকুন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা অবাঞ্ছনীয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এসভিয়া এক্কার্ট এবং আন্দ্রেজ ডিউয়েজ এর মতে, আপনি যদি ব্রাউজিং এর পর পুরো হিস্টোরি কিংবা ইতিহাস ও মুছে দেন তারপরেও আপনি রেহাই পাবেন না। তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ জার্মান নাগরিকের ব্রাউজিং হিস্টোরি তাদের অজান্তেই সংগ্রহ করেছেন। এমনকি তাঁরা বিখ্যাত সেলিব্রেটি ও বিচারকদের প্রাইভেট ব্রাউজিং হিস্টোরিও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি আপনি কিন্তু কখনোই চাইবেন না আপনার কাজের সময়ে এসব বিষয় সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দায় ভেসে আসুক।

৩. যেসব কারণে আপনি দোষী হতে পারেন: আপনি যদি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে আইনের বিপরীতে থাকা কোন কাজ বা বিষয়ে গুগলে সার্চ না করাটাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। 

ক্রিমিনাল ডিফেন্সের একজন আইনজীবী ব্রায়ান ম্যাককোনি কিউসি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে টেলিফোনের পাশাপাশি কম্পিউটারের যাবতীয় বিষয় তথ্যও যাচাই বাছাই করা হয়’।

তিনি এও বলেন, ‘যদি আপনার খোঁজা এমন কোন বিষয় এখানে থেকে যায় তাহলে সেটা আপনাকে চরম শাস্তির বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করতে যথেষ্ট’।

৪. চর্মরোগ বা ত্বকের অবস্থা: মুখে বা গালে নতুন করে বেড়ে উঠা ব্রণের মত জিনিসটা আসলে কি? এমন জিজ্ঞাসা আমাদের সকলের মনে হরহামেশাই চলে আসে। কিন্তু এর জন্য কি আপনি গুগলের সার্চবারে যেতে চাচ্ছেন? তাহলে এখনি থেমে যান। আপনি যখন গুগলে গোলাকার লাল বৃত্তাকার বস্তু কি লিখে সার্চ করবেন তখন সেটি আপনাকে বিব্রতকর কিছু ছবি তথ্যের সামনে নিয়ে যাবে।

৫. ওয়ার্মস/ কেঁচো: আপনার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কর্মযোগ নিশ্চিতে কোন ধরণের কেঁচো বা ওয়ার্ম প্রয়োজন সে ব্যাপারে আপনার পরিষ্কার ধারণা ও তথ্য জানা থাকতে হবে। তা না হলে আপনি যখন গুগলে ওয়ার্মস লিখে সার্চ দিবেন তখন আপনি কিছু ভয়ংকর চেহারার কিংবা মুটিয়ে থাকা অদ্ভুতুড়ে কিছু ছবি ও তথ্য দেখতে পাবেন যা আপনাকে আরও অস্থির করে তুলবে।

৬. পণ্যের গুণগত মান: নিত্যদিনের ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স বস্তুর ব্যাপারে কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ এর যাচাই বাছাইয়ে আমরা সবাই ই কম-বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একে জিজ্ঞাসা করি ওকে জিজ্ঞাসা করি। ইন্টারনেট বিস্তৃত মাধ্যম। তাই একেকজনের মতামত একেকরকম হবে। এটাই স্বাভাবিক।

উদাহরণস্বরূপ: কোন কসমেটিক্স আপনার ত্বকের জন্য ভালো আর কোনটি খারাপ এ ব্যাপারে একেক পক্ষের একেক রকম মতামত থাকবে। কেউ হ্যাঁ বলবে কেউ বলবে না। এই দুই পক্ষের মতামতে আপনি বিভ্রান্তিতে পড়বেন। যদি সঠিক ও কার্যকর তথ্য জানতে চান তাহলে আপনার ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করুন এবং পণ্যের ব্যাপারে জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করাটাই ভালো।

৭. শারীরিক ভাবভঙ্গি/ বা প্রদাহের লক্ষণ: জ্বর বেশী হওয়ার কারণ কি? কেন মাথা ব্যথা করে? ব্রণ দূর করার উপায়, পেটে ব্যথার কারণ, এসব বিষয়ে গুগলে সার্চ করা থেকে বিরত থাকাটাই ইতিবাচক। কারণ এর ফলাফলে যা আসবে তা আপনাকে আরও অসুস্থ করে তুলবে। এর থেকে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো।

৮. আপনার পছন্দের জিনিস ও ক্যান্সার: ক্যান্সার মারাত্মক ব্যাধি। এবং এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত। কিন্তু আপনি জানেন কি পোষা কুকুর থাকাকেও ক্যান্সারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? হ্যাঁ এ ব্যাপারে রিসার্চও রয়েছে। যেখানে আপনার আদরের কুকুরকে এই রোগের সংক্রমণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এর জন্য আপনি আপনার পোষা কুকুরকে যে পরিত্যাগ করবেন সেটা বলা হচ্ছে না। কেন এ রোগ হয় বা কি কারণে হয় এ সংক্রান্ত তথ্য খোঁজার পরিবর্তে আপনার পাপ্স এর জন্য সুন্দর বাড়ির খোঁজ করুন। এতে আপনার আদরের বন্ধুর সুন্দর ঘরও হয়ে যাবে আর আপনিও চিন্তামুক্ত হবেন।



যে লক্ষণগুলোতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন

0



জীবনের মোড় ঘুরাতে থেরাপি কার্যকর। তবে সবসময় সেটা আপনার জন্য ইতিবাচক বা মঙ্গলজনক হবে কিনা তা বলা মুশকিল। চলুন তাহলে আজকে আমরা জেনে নেই কি কি লক্ষণ দেখা দিলে আপনার জন্য থেরাপি নেওয়া আবশ্যক বা দরকারি।

১. চরম বিষণ্ণতা কিংবা রাগ: নিজের আবেগ অনুভূতির উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা ভালো কোন লক্ষণ নয়। তবে এর পরিত্রাণে পেশাদার চিকিৎসা বা সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাইকোলজি টুডেতে প্রকাশিত এক লেখায় মনোবিজ্ঞানী ডেভিড স্যাক বলেন, ‘আপনার খাওয়া, ঘুম এবং নিত্যদিনের কাজকর্ম যদি স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে চলে যায়, কিংবা পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের সাহচর্য থেকে নিজেকে বিরত রাখতেই পছন্দ করেন তাহলে এর থেকে বেশী কোন প্রভাব বিস্তার করার আগেই দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন’।

তিনি এও বলেন, ‘যদি এই মানসিক পরিস্থিতি থেকে আপনি বেঁচে থেকে কি হবে কিংবা সুইসাইড করার মত কথা চিন্তা করতে শুরু করেন তাহলে এই মুহূর্তেই আপনার একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্যের প্রয়োজন’।

২. পছন্দে অপছন্দ: নিউ ইয়র্ক সিটির এক প্রাইভেট ক্লিনিকের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মারিশা আল্টার বলেন, ‘যখন আপনি অনুভব করেন যে আপনার পছন্দের কাজগুলো এখন আর আগ্রহের সৃষ্টি করছে না তখন এর কারণ বের করতে আপনার উচিত একজন থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করা’।

তিনি আরও বলেন, ‘হতে পারে ঐ ব্যক্তি কোন সীমাবদ্ধতার জালে আটকে আছেন, কিংবা তিনি গভীর হতাশায় ভুগছেন’। একজন থেরাপিস্ট আপনার সমস্যার প্রেক্ষিতে আপনাকে থেরাপি দিবেন, আপনার সমস্যার মূল্যায়ন করবেন। সেই সাথে কি কারণে আপনি আবদ্ধ হয়ে রয়েছেন সেই কারণ নির্ধারণের সাথে সমস্যা সমাধানের রাস্তা বা উপায় ও নির্ধারণ করে দিবেন।

৩. সামাজিক সংস্পর্শতা থেকে বিরত: আশেপাশের মানুষের মধ্যে থেকে যখন নিজের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয় তখনি একজন মানুষ থেরাপি গ্রহণ করেন। 

ড. আল্টার এর মতে, ‘যদি আপনি নিজেকে কোলাহলপূর্ণ জায়গা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলেন, জাঁকজমক কিংবা উৎসব অপছন্দ করেন এমনকি নিজের পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের সংস্পর্শে আসতেও দ্বিধা বোধ করেন তাহলে হয় আপনি নিজের উপস্থিতি নিয়ে ভীত কিংবা অপ্রাচুর্যতার শূন্যতায় ভুগছেন’। যখন উদ্বিগ্নতা আপনার প্রাত্যহিক কাজ কর্ম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাঁধার সৃষ্টি করে তখন থেরাপি প্রথম কার্যকরী ধাপ হিসেবে কাজ করে।

৪. খামখেয়ালি জীবনযাপন ও আচরণ: মাঝে মাঝে স্বাভাবিক জীবনের বাইরে যেয়ে নিজেরে উপভোগ করা খারাপ কিছুনা। তবে এই উপভোগ করতে যেয়ে নিজের সামগ্রিক সত্তাকে বিলিয়ে দেওয়াটাও ভালো কাজ না। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার এক প্রাইভেট ক্লিনিকের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রায়ান হোয়েস বলেন, ‘যখন আপনি আপনার সামর্থ্যের বাইরে যেয়ে অ্যালকোহল ও ড্রাগস সেবনের দিকে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকে যাবেন ও খরচ করবেন, ঘন ঘন পাগলামি সম্পর্কে জড়াবেন, কিংবা অন্য মানুষের সাথে উগ্র বা বাজে আচরণ করবেন তখন সেটা গভীর কোন সমস্যার ইঙ্গিত দেয়’।

কঠিন পরিস্থিতি বা আবেগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কিংবা সেটিকে এড়িয়ে চলার কারণ হিসেবেই আপনি এই আচরণ করেন। প্রফেশনাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ কিংবা থেরাপিস্টের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যা সৃষ্টির মূল কারণ খুঁজে বের করা ও সমাধান করা সম্ভব।

৫. সম্পর্কে অনীহা: প্রতিনিয়ত বন্ধুদের সাথে কলহ লেগে যাওয়া কিংবা অন্যের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া যদি আপনার অভ্যাসের অন্তর্গত হয়ে থাকে তাহলে এখনি একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নিন। ভালোবাসার সম্পর্ককেও যখন কঠিন মনে হয় কিংবা সম্পর্ক ধরে রাখতে ইচ্ছে হয়না তখন পেশাদার থেরাপিস্ট এর সাথে কথা বলার উত্তম সময়।

ড. আল্টার বলেন, ‘জীবনের প্রথম দিকেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়’। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি থেরাপিস্টের সাথে আপনার সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন তাহলে সেটা বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে’।

ড. হোয়েস এর মতে, ‘অন্যদের সাথে আপনি কিভাবে কথা বলবেন বা যোগাযোগ করবেন সে ব্যাপারে আপনি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। অথবা থেরাপিস্টের সাথে আপনার বউ, বন্ধু, বস কিংবা ভালোবাসার মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলেন সেটার রোল প্লে বা চর্চা করে দেখতে পারেন। এটি আপনার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে’।

৬. মানসিক আঘাত বা অসুস্থতা: ড. আল্টার বলেন, ‘কিছু মানসিক কারণে দুঃখ-দুর্দশা কাটিয়ে উঠার জন্য মানুষ থেরাপি গ্রহণ করে থাকে। যেমন- ভালোবাসার মানুষের বা পরিবারের কোন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু, সম্পর্কে দুর্দশা, গর্ভপাত বা সন্তান হারানো, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি শৈশবে যৌন হয়রানির মত দুষ্কর্মের শিকার হয়ে সেই স্মৃতি ভুলার জন্য ও অনেকে জীবনের কোন এক মুহূর্তে এসেও থেরাপির আশ্রয় নেন’। যদি কোনো ঘটনা আপনার স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা প্রদান করে, ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে, পরিবার পরিজন ও সম্পর্কে দূরত্বের সৃষ্টি করে তাহলে এখনি একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৭. নিজেকে অনুধাবন: ড. হোয়েসের মতে, ‘কোন কোন ব্যক্তির কাছে থেরাপি হল নিজের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার উপায়’।

আপনি কেন পছন্দের ক্যারিয়ার এ যোগ করলেন? কেন আপনি অপরিচিত লোকজনের সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন? আপনি কেন কোন বিষয়ে গড়িমসি করছেন বা পাত্তা দিচ্ছেন না? যারা বেশি জোরে কথা বলে তাদের কে আপনার বিরক্ত লাগার কারণ কী? 

হোয়েস বলেন, ‘আমরা কীভাবে কথা বলি বা চিন্তা করি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারাটা খুবই শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করে’।

৮. অধিক সহযোগিতা প্রয়োজন: স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সমস্যায় পড়ার পরেই সমস্যা সমাধানে সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু সময়ে মানুষ কোন কারণ ছাড়াই থেরাপি নিতে চায়। তাঁর কোন অসুস্থতা চিকিৎসা গ্রহণ এর প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও সে সেটা অনুভব করে। মূলত তাঁরা চায় যে তাদের পরিচিত সার্কেলের বাইরের কেউ তাদের কথাগুলো শুনুক।

ড. হোয়েস বলেন, ‘যখন আপনি বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পর্কে ভাঙ্গন, চাকরি হারানো, প্রিয় কারো মৃত্যুতে শোকে মলিন তখন থেরাপির থেকে উত্তম আর কিছু হয় না। কারণ এখানে কেউ আপনার চাহিদা বা সমস্যা নিয়ে আপনাকে জ্ঞান দিবে না বা কথা শুনাবে না। কিংবা আপনার অসুবিধাকে কেউ তাদের স্বার্থের কাজে ব্যবহার করবে না।

৯. ব্যর্থ প্রচেষ্টা: সাইক সেন্ট্রাল (Central) নামের এক মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সামাজিক মাধ্যমের উদ্ভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা জন এম গ্রহল (John M Grohol) বলেন, ‘কখনো কখনো পরিস্থিতি সামলাতে আমরা যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি সেটা ব্যর্থ হয়’।

তিনি বলেন, ‘যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি নিজের কোন একটি বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করেছেন, আপনার বন্ধুর সাথে আলোচনা করেছেন, আত্ম-সহযোগিতার বিভিন্ন ধাপ ও চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোনো সন্তোষজনক ফল পান নি তখনই আপনাকে একজন থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।



লম্বা নখেও কি করোনার ঝুঁকি আছে?

0



দাবানলের মতো দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। এরই মধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশেও। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হচ্ছে জরুরি পদক্ষেপ। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পারসোনাল হাইজিন তথা নিজস্ব পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার ওপর। এজন্য মুখে হাত না দেওয়া, হাত সাবান-পানি বা স্যানিটাইজারের সাহায্যে বারবার ধোয়াসহ অন্যদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে।

এমনকি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাজার কিংবা সুপার শপে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নজর দিয়েছেন লম্বা নখের দিকেও। যারা নখ লম্বা রাখতে ও নেইল এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন এবং রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি?

বিজনেস ইনসাইডারের স্বাস্থ্য বিভাগের ইন্টারভিউতে ওয়েবএমডি মেডিক্যাল এডিটর এবং বোর্ড-সার্টিফাইড প্রাইমারি কেয়ার ফিজিশিয়ান ড. নেহা পাঠক বলেন, ‘করোনা ভাইরাস বিস্তারের এই সময়টাতে সবকিছুর সঙ্গে নখের দিকেও খেয়াল দেওয়া প্রয়োজন। এটা পুরনো তথ্য যে লম্বা নখের ভেতরে জীবাণু জন্মায়, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে আমরা সদ্য পরিচিত হতে পেরেছি। মাত্র চার মাস সময় পেয়েছি এই ভাইরাসটি সম্পর্কে গবেষণা করার। তাই এখনও আমরা জানি না, মানুষের ত্বকে ও নখের ওপর করোনা ভাইরাস কতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।’

ইন্টারনাল ও লাইফস্টাইল মেডিসিন নিয়ে কাজ করা নেহা আরও বলেন, ‘লম্বা নখের নিচের অংশে যেকোনো ধরনের জীবাণুই থাকতে পারে, যদি হাত ও নখ সঠিক পদ্ধতিতে ধোয়া না হয়। এ সময়ে কোনো ঝুঁকি না নেওয়াই শ্রেয়। তাই নখকে একেবারে ছোট করে রাখতে হবে, যেন আঙ্গুলের ত্বককে নখ স্পর্শ করতে না পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নেইল এক্সটেনশন ব্যবহার করা এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ সুস্থ জীবনের গুরুত্ব সবার আগে।’



ঘরবন্দি সময়ে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করবেন যেভাবে

0

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে ঘর থেকে না বের হওয়াটাই এখন একমাত্র সমাধান ও সুস্থ থাকার উপায়। ঘরে বসে সব মিললেও রোদ কীভাবে মিলবে? টানা এভাবে গায়ে রোদ একদমই না লাগালে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই আসবে ভিটামিন ডি এর অভাব।

ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান, এর অভাবে হাড়ের স্বাস্থ্যক্ষয় হতে পারে। ফলে কোমরে বা হাঁটুতে প্রবল ব্যথা অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে ভিটামিন ডি এর অভাবে ডিপ্রেশন বাড়ে। তার চেয়েও বড়ো সমস্যা হলো, এই ভিটামিনের অভাবে কমবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ফলে ঠান্ডা লাগবে বারবার, সর্দি-কাশিতে ভুগবেন। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না আপনার শরীর।

তবে সুবিধের দিকটা হচ্ছে, এই সমস্যার সমাধানের উপায়টাও আমাদের হাতেই আছে। আমাদের শরীর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করে নেয়। তাছাড়া মাছ, বিশেষ করে যেসব মাছে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি এবং দুধজাতীয় খাবার থেকেও তা পাওয়া যায়।

শুধু ডায়েট থেকে আপনার প্রয়োজনের সবটুকু মিলবে না। তার জন্য দরকার রোদে অন্তত কিছুটা সময় কাটানো। নানা কাজে আমরা যখন বাড়ির বাইরে যাই, তখনই সে প্রয়োজন মিটে যায়। কিন্তু ঘরবন্দি অবস্থায় তো তা সম্ভব নয়। তার উপর এখন খেতে হচ্ছে একেবারে হিসেব করে। এই পরিস্থিতিতে দিনের শুরুতে আর শেষে অবশ্যই খানিকক্ষণ খোলা জানলার ধারে বা বারান্দায় কাটান।

বয়স্কদেরও শরীরে একটু রোদ লাগাতে হবে। ঘরে রোদ না এলে ভোরে আর বিকালে ছাদে খানিক হাঁটাহাঁটি করুন। মিনিট ১৫ এমন করলেই দেখবেন বাড়তি শক্তি পাচ্ছেন, চনমনে লাগছে ভেতর থেকে, কেটে যাচ্ছে মনখারাপও। তবে এই সময়টায় সানস্ক্রিন লাগাবেন না।

যদি মনে হয়, এই রুটিন মানার পরেও খুব ক্লান্ত লাগছে বা কোনো কাজ করার উৎসাহ পাচ্ছেন না, বেজায় মন খারাপ হচ্ছে, পেশিতে ব্যথা হচ্ছে তা হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। তবে ভিটামিন ডি ফ্যাটে দ্রবীভূত হয়, তাই দুপুর বা রাতের খাবার খাওয়ার পরে খাওয়া উচিত।

এখনো বিশ্বের যেসব অঞ্চল করোনামুক্ত

0

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক দেশের ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি। তবে এখনও পৃথিবীর দুর্গম কিছু অঞ্চলে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়নি একজনও।

এর মধ্যে একটি হলো উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ। এর জনসংখ্যা মাত্র ১৮ হাজার। সেখানকার একজনও কোভিড-১৯ টেস্টে ইতিবাচক হননি।

নিকটতম প্রতিবেশী থেকেও কয়েকশ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত পালাউ দ্বীপের জন্য সমুদ্র নিজেই যেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, টঙ্গা, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও মাইক্রোনেশিয়াসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রকে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি থেকে নিরাপদ রাখতে সহায়ক হয়েছে।

এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাবে এখনও আক্রান্ত হয়নি সামোয়া, তুর্কমেনিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও এন্টার্কটিকা মহাদেশ।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জ

দুর্গম হলেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এমন নয়। উত্তর মেরিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের (পালাউয়ের উত্তরে) ভাইরাসটিতে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তিকে গত সপ্তাহের শেষে শনাক্ত করা হয়, সোমবার তার মৃত্যু হয়েছে।

পালাউয়ের বাসিন্দা শিল্পী ক্ল্যামিয়োকল টিউলপ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, পালাউতেও ক্রমশ উত্তেজনা ও উদ্বেগ টের পাচ্ছি। উহান, নিউইয়র্ক ও মাদ্রিদের মতো দুর্দশা পালাউয়ের ভাগ্যে ঘটবে না বলে আমি আশাবাদী।

আক্রান্ত সন্দেহে পালাউয়ের এক বাসিন্দাকে কর্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত সঙ্গরোধে রেখেছিল। এ ঘটনায় বেশ ভীতির সঞ্চার করে ছোট্ট দ্বীপটিতে। রোগটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি।

দেশের বৃহত্তম শহর করোরের সুপারমার্কেটে আতঙ্কিত জনতা ব্যাপকহারে কেনাকাটা করায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও অ্যালকোহলের সংকট সৃষ্টি হয়।

দ্বীপটি পণ্যসামাগ্রীর জন্য জাহাজ ও প্লেন চলাচলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বভাবতই দ্বীপটিতে পণ্য সরবরাহ কমে গেছে।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনস নিকটবর্তী গুয়াম থেকে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করত। গুয়ামে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ৫০ জন। এখন সেখান থেকে সপ্তাহে একটি মাত্র ফ্লাইট পালাউ দ্বীপে চলাচল করছে।

দ্বীপবাসীর অনেকেই পর্যটনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন, ইতোমধ্যে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অনেক বাসিন্দা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।

দ্বীপটির চিকিৎকরা তাইওয়ান থেকে করোনা পরীক্ষার কিট আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকার পাঁচটি আইসোলেশন কক্ষ নির্মাণ করেছে, যাতে ১৪ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে।

আজকের দুনিয়ায় করোনাভাইরাসমুক্ত একমাত্র মহাদেশ এন্টার্কটিকা, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনই নেই। সেখানে উপস্থিত অভিযানকারীরা নিরাপদ রয়েছেন, তবে তারা কিভাবে প্রিয়জনদের কাছে ফিরবেন সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।

কোথাও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি মানে এই নয় যে, সেখানে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও ভাইরাসটি থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে সফল দাবি করছে উত্তর কোরিয়া। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তথ্য গোপনকারী সরকার প্রকৃত সত্য বলছে কি না তা নিয় সন্দেহ থেকে যায়।

বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার শঙ্কা, সরবরাহ ঠিক রাখার তাগিদ

0



করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে এখনও পর্যন্ত বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ঠিকই আছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ ছুটি দীর্ঘায়িত হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে কোনও মনিটরিংই কাজে আসবে না। এ জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখায় গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিকে পণ্যের সংকট দেখা দেবে, অপরদিকে সংকটের অজুহাতে বাড়বে দাম। তেমনটা হলে নিম্ন আয়ের মানুষের দিন পার করা কঠিন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

অবশ্য নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচুর পরিমাণে পণ্য উৎপাদন করছে। তবে পরিবহন ও শ্রমিক সংকটে পণ্য কারখানার বাইরে নিতে পারছে না। এতে বাজারে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। আর এই সুযোগটি নিচ্ছে সুযোগসন্ধানী অসাধু ব্যবসায়ীরা।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ছুটি ঘোষণায় অনেকে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। যারা আছেন, তারাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ট্রাক চালাতে চাইছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে বাজারে শিশুখাদ্যের (বিভিন্ন ব্রান্ডের দুধ) সরবরাহ কমে গেছে। কারণ, একদিকে পরিবহন সংকট, অপরদিকে শ্রমিক সংকট। এই দুই সংকটে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন ও মজুত থাকার পরও মোকাম হিসেবে খ্যাত নওগাঁ, নাটোর ও কুষ্টিয়া থেকে রাজধানীতে চাল আসছে না। এতে করে রাজধানীর বাজারগুলোয় চাল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে দাম। সরকারের লোকজন মাঠে নামিয়েও চালের দাম আগের জায়গায় নামানো যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া চালের দাম কমানো সম্ভব নয়।

জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে এবার সবজি উৎপাদন হয়েছে প্রচুর। করোনার প্রভাবে সব কিছুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানীতে সবজি আসাও। এতে একদিকে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অপরদিকে সবজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দাম। এভাবে চলতে থাকলে দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কাজেই কৃষক ও ভোক্তা বাঁচাতে যেকোনও মূল্যে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

তারা বলছেন, ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। জমানো পুঁজি কিছুদিন হয়তো চলতে পারবেন তারা। কিন্তু ছুটি দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনায় তারা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। এ অবস্থায় যদি নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, দাম বাড়ে তাহলে এই শ্রেণির মানুষদের দিন পার করাই কঠিন হবে।

পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি বিক্রির জন্য পাইকার বা ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। আগে ছোট খামারিরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মুরগি বিক্রি করলেও এখন খুচরা ক্রেতাও পাচ্ছেন না। একদিকে ক্রেতা নেই, অপরদিকে কমেছে চাহিদাও। একই অবস্থা ডেইরি খাতেরও। চাহিদার সঙ্গে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারিরা।

পরিবহন সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি হানিফ খোকন বলেন, ‘করোনা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস। তাই ভাইরাস বহনকারী যে কারও ছোঁয়ায় এটি সংক্রমিত হতে পারে। মৃত্যুভয় সবারই আছে। যেকোনও জিনিসের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজন পরিবহনব্যবস্থা। পরিবহনববস্থা এখন প্রায় পুরোপুরি অচল।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধের ঘোষণা পেয়েই পরিবহন শ্রমিকরা বাড়ি চলে গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই রাজধানীতে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক সংকট দেখা দিয়েছে। এর বাইরে নিরাপত্তার অভাব তো রয়েছেই।’

এই শ্রমিক নেতা বলেন, বিআরটিসির অনেক ট্রাক রয়েছে। এসব ট্রাক রাস্তায় নামানো গেলে জরুরি প্রয়োজনের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন অনেকটাই সম্ভব। বিষয়টি ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। 

বাংলাদেশ ট্রাক শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ট্রাক চালানো একপ্রকার বন্ধ রেখেছি। করোনা পরিস্থিতিতে রাস্তায় নিরাপত্তা নেই। গ্যারেজ খোলা নেই। খাবার হোটেল বন্ধ। দীর্ঘসময় গাড়িতে অবস্থানকালে ট্রাকের চালক ও হেলপাররা খাবেন কোথায়? এর ওপর রয়েছে পুলিশের নানা রকমের হয়রানি। এসব কারণে আমরা গাড়ি চালাচ্ছি না। এসবের নিশ্চয়তা পেলে ভেবে দেখা যাবে, ট্রাক চালানো সম্ভব কিনা।’ 

তিনি বলেন, ‘এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় তো রয়েছেই। নানা কারণেই রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সংকটের কারণেই পণ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।’  

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় পণ্যের সরবরাহ সিস্টেম ধরে রাখতে হবে। এই মুহূর্তে যেকোনও উপায়ে সাপ্লাই চেইনের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বাজারে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়লে বাজার ব্যবস্থাপনা গুঁড়িয়ে যাবে। তখন কঠিন সমস্যা দেখা দেবে।’

তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘যেকোনও মূল্যে বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। এ জন্য আমরা কাজ করছি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতেও কাজ চলছে।’