২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে প্রথম সংক্রমিত হওয়া করোনাভাইরাস এরইমধ্যে বিশ্বের ১৫৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। ভাইরাস সংক্রমণে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার ৪৫৫ জনের।

মহামারী এই করোনাভাইরাস ঠেকাতে যেকোনো দেশে প্রবেশ করলেই ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়াও সুস্থ হয়ে ফেরা এবং আক্রান্তদের জন্য বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরইমধ্যে বাংলাদেশে আটজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।

অনেকেই বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনের সঠিক নির্দেশনা জানেন না। বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কি করতে হবে? চলুন জেনে নেই-

বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার অর্থ হল ১৪ দিন সব ধরনের মেলামেশা এড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘরে অবস্থান করা। কোনো অবস্থাতেই কর্মস্থল, স্কুল বা জনসমাগমে যাওয়া যাবে না। ধর্মীয় বা সামাজিক (সমবেত প্রার্থনা, বিয়ে, জন্মদিন, শেষকৃত্য) যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গণপরিবহন বা ভাড়ায় চালিত যানবাহন (ট্যাক্সি, অটোরিকশা) ব্যবহার করা যাবে না। বাড়িতে অবস্থানের সময় পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। আলাদা ঘরে থাকতে হবে। একই ঘরে অন্য কেউ থাকলে মাস্ক ব্যবহার ও তিনফুট দুরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বাজার করা, কেনাকাটাসহ যেকোনো প্রয়োজনে অন্য কারো সহায়তা নিতে হবে। ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে, গামছা, খাবারের পাত্র ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় ব্যবহৃত জিনিসগুলো দিয়েও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তাই কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা করুন। 

কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা সবাইকে হাত ধোঁয়া, হাঁচি-কাশি ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আইইডিসিআর’র নির্দেশনা অনুসারে তৈরি।