মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদী খননের মাটি অবাধে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে ট্রলিযোগে এবং সার্বক্ষণিক পাইপ লাইনের মাধ্যমে চলছে এ মাটি বিক্রি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা তাদের এ অবৈধ বাণিজ্য।

আরো পড়ুন : সাভারে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৮ জন, বিদেশ প্রত্যাগতদের তথ্য জানানোর আহবান


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬৪ জেলার নদী,খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মানিকগঞ্জ ডব্লিও-০৬ প্যাকেজে ২১ কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬ টাকা ব্যয়ে ধলেশ্বরী নদীর সাড়ে ১০ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ এসএসইসিএল-এইচবি-জেভি’র কাছ থেকে সরকার দলীয় লুৎফর রহমান যুবায়েরসহ একাধিক নেতা সাব-কন্ট্রাকে এনে নদীর খনন কাজ চালিয়ে অবাধে মাটি বিক্রি করছেন।

আরো পড়ুন : মানিকগঞ্জে এবার ইরাকপ্রবাসীকে জরিমানা


সরেজমিনে গত সোমবার সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চর জামালপুর গিয়ে দেখা যায়, নদী খননরত ড্রেজার থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বসতবাড়ি সংলগ্ন পুকুর,ডোবা ও নিচু জমি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই গ্রামের কহিনুর মোল্লার ২০ শতাংশ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, মধু বেপারীর ১০ শতাংশ ৮০ হাজার, জাহাঙ্গীর আলমের ৬ শতাংশ ৯০ হাজার, ফরিদ হোসেন ও তার ভাইয়ের ৬ শতাংশ ৫০ হাজার , বজলুর রহমানের ১০ শতাংশ ৫০ হাজার, রাহেজুদ্দিনের ২০ শতাংশ ১ লাখ ৫০ হাজার ও আবুল বাশারের ৩০ শতাংশ ২ লাখ টাকায় মাটি ভরাট করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : সিংগাইরে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতায় চলছে ব্যাপক কার্যক্রম


অনুরুপ, তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর কবরস্থান ও সংলগ্ন চাঁন মিয়া, ছলিমউদ্দিনের বাড়ির নিচু জায়গা নদী খননের মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের একাধিক বাড়িতে চলছে এ মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ। এ ছাড়া রাতের আঁধারে ট্রলিযোগেও চলছে দেদারসে মাটি বিক্রি।
এ প্রসঙ্গে নদী খনন ও মাটি বিক্রির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় রিপন হোসেন বলেন, সাব-কন্ট্রাকটর যুবায়ের মামার হয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছি। যে সমস্ত জায়গায় মাটি বিক্রি করা হয়েছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষ্ণপুর ভূমি অফিসের লোকজন এসে পরিমাপ করে গেছেন। সাব-কন্ট্রাকটর লুৎফর রহমান যুবায়েরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, কোনো কথা থাকলে সামনা-সামনি আসেন বলেই লাইন কেটে দেন।
সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত কোনো মাটি বিক্রি করা হয়নি। যারা মাটি কেনার জন্য আবেদন করেছেন, সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডার দিয়ে মাটি বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।


মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাইনুদ্দিন বলেন, মাটি মজুদ ও বিক্রির বিষয়টি আমাদের নয়। এর জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি রয়েছে। তাদের তদারকিতেই মাটি বিক্রির টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। কমিটির অনুমতি ছাড়া কোথাও মাটি বিক্রি হলে ইউএনও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, সম্প্রতি রাতের আঁধারে মাটি বিক্রির অভিযোগে একজনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাইপ লাইনে মাটি বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেসেজ দিয়ে তালিকা পাঠিয়ে দিন ব্যবস্থা নিব।