আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের অবহেলিত একটি গ্রাম দাসপাড়া। এ গ্রামের মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখে যে মৃত্যুর আগে হয়তো গ্রামে ঢোকার একটা ভাল রাস্তা দেখে যেতে পারবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি স্বপ্নই থাকবে ? নাকি বাস্তবে পরিণত হবে এমন শংকা নিয়েই দিনাতিপাত করছেন এখানকার বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় পায়ে হাটার জন্য একটি সরু পথ থাকে। তবে বর্ষায় ওই গ্রামে ঢুকতে বা বের হতে হলে একমাত্র পন্থা নৌকা। বছরের পর বছর ধরে এ গ্রামের মানুষগুলো এ ভোগান্তি নিয়েই অবহেলিত জনপদে বসবাস করছেন।

আরো পড়ুন : সাভারে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, মূর‌্যাল উদ্বোধন


এর আগে গ্রামবাসি শিমুলিয়ার চাঙ্গিরদিয়া ডিপমেশিন পাড় থেকে দাসপাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদ পর্যন্ত ১৫ফুটের একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও বাঁধার মুখে তা আর করতে পারেনি। রাস্তার উভয় পাশের অধিকাংশ জমির মালিক রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে দিলেও মাত্র ২জন জমির মালিকের বাঁধার কারণে রাস্তাটি স্বপ্নই থেকে যায় গ্রামবাসিদের। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও আর ওই রাস্তার কাজ করতে পারেনি এলাকাবাসি।

আরো পড়ুন : সাভার সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন


স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন দাসপাড়ার এ গ্রামে উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগেনি। তবে শিমুলিয়ার অধিকাংশ এলাকাতেই লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। শুধু এ গ্রামটি রয়েছে অবহেলিতভাবে। গ্রামটিতে প্রায় সহ¯্রাধিক লোকের বসবাস। রয়েছে শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থী। বর্ষা মৌসুমে গ্রাম থেকে বের হতে হলে একমাত্র চলাচলের বাহন থাকে নৌকা। কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে খাটিয়ায় করে মৃতদেহ কবরস্থানে নেওয়ার উপায় থাকেনা ওই গ্রামের লোকজনের। এছাড়া শিক্ষার্থীরাও ঠিকমত পাঠগ্রহণ করতে পারে না।

আরো পড়ুন : সাভার কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত


এলাকাবাসি জানান, সাভার উপজেলার অবহেলিত একটি গ্রাম হচ্ছে শিমুলিয়ার এই দাসপাড়া। এ গ্রামে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। অথচ এ ইউনিয়নের প্রত্যেকটি এলাকায় কোন না কোন উন্নয়নের কাজ হয়েছে। গ্রামের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ খাঁটিয়ায় করে কবরস্থানে নিতে অনেক কষ্ট হয়। যাওয়াই দুস্কর হয়ে পড়ে। আর বর্ষার দিনেতো নৌকা ছাড়া কোন উপায় থাকে না গ্রাম থেকে বের হতে হলে। গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হয়। এ গ্রামে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


এলাকাবাসি আরো জানান, দাসপাড়া এলাকায় দুটি পাড়া রয়েছে। একটি পশ্চিম অন্যটি পূর্ব। উভয় পাড়ায় ঢুকতে কোন রাস্তা নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্ধ দিয়ে কাছৈর ব্রীজের পশ্চিমপাশের অংশ থেকে দাসপাড়া এলাকায় ঢোকার জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন লোকজনের বাধার জন্য এবং মামলা করার কারণে রাস্তাটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।


পরবর্তীতে চাঙ্গিরদিয়া ডিপমেশিন পাড় থেকে দাসপাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণ করতে গ্রামবাসি উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় কাছৈর এলাকার সহিদুল ইসলাম ওরফে সহি এবং চাঙ্গিরদিয়া এলাকার আক্কাস আলীর বাধার মুখে রাস্তাটি করা হয়নি। কারণ ওই দুই ব্যক্তির জমি রাস্তার উভয় পাশে বেশী। এছাড়া অন্যান্য লোকজনের খন্ড খন্ড জমি থাকলেও তারা কোন বাঁধা না দিয়ে রাস্তা নির্মাণে সহযোগীতা করেছেন।


এব্যাপারে সহিদুল ইসলাম ওরফে সহির ছেলে হারুন মোঠোফোনে জানান, রাস্তা নির্মাণ করতে আমরা কোন বাঁধা দেয়নি। দশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে সকলেই যদি রাস্তা নির্মাণ করতে জমি দেন তাহলে আমরাও দিব।
এ ব্যাপারে আক্কাস আলী মোঠোফোনে জানান, ওইখানেতো কোন রাস্তা নাই প্রথমে বললেও পরবর্তীতে তিনিই নাকি রাস্তাটি নির্মাণ করার জন্য প্রথমে উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সহিদুল ইসলাম সহি জমি দিতে চায়নি এবং রাস্তা শুরুর স্থান থেকে মফিজ নামের একজন জমি দিতে চায়নি তাই রাস্তাটি আর নির্মাণ করা হয়নি।


এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো: খলিলুর রহমান জানান, একটি রাস্তার অভাবে দাসপাড়া গ্রামের মানুষগুলো খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। তবে গেল বছর ওই গ্রামের একটি রাস্তার জন্য কাজ পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু লোকের বাধার মুখে কাজটি করা যায়নি। কিছুদিন পরেই প্রজেক্ট আসবে। গ্রামবাসি সকলে মিলে একটা আবেদন করলে পরবর্তীতে কাজ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান এবিএম আজাহারুল ইসলাম সুরুজ জানান, আমার শিমুলিয়ার এই একটি মাত্র গ্রামই রাস্তা ছাড়া। তবে এর আগে রাস্তা করার জন্য বরাদ্ধ দিয়েছিলাম। কিন্তু দুই/তিনজন লোকের বাধার কারণে রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি। সকলের সহযোগিতা পেলে রাস্তার কাজ শুরু করা যেতে পারে।