দেশের বিভিন্ন বিচারিক আদালতের ৩০ জন বিচারককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে গত ১৫ মার্চ তারা দেশে ফিরেছেন। সেদিন থেকেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন (গৃহ অন্তরীণ) রাখার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম জানান, গত ১৫ মার্চ ওই বিচারকরা দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে দিন থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে চীন

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ফেরত ৩০ জন বিচারককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেনেছি। আইন মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের কোনও আদেশ আমাদের কাছে এখনও এসে পৌঁছায়নি।

এদিকে বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্র জানায়, বরিশালের জেলা ও দায়রা জজসহ সারা দেশের ৩০ জন বিচারক গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ট্রেনিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি যান। ট্রেনিং শেষে গত ১৫ মার্চ রাতে জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলামসহ অপর বিচারকরা দেশে ফিরে আসেন। বরিশালে ফিরে বুধবার সকাল ১০টায় এজলাসে ওঠেন জেলা জজ। ঘণ্টাখানেক বিচার কাজ সম্পাদনের পর শরীরটা ভালো লাগছে না বলে এজলাস থেকে নেমে যান। এ সময় আগামী ১৪দিন তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন এবং এই সময়ে প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ তার আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে ঘোষণা করেন ও তার সরকারি বাসায় চলে যান।

আরো পড়ুন : পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটের সিদ্ধান্ত : ইসি রফিকুল

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর একেএম জাহাঙ্গীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলামসহ ওই সফরে থাকা সারা দেশের ৩০ জন বিচারক একযোগে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন বলেও জানান তিনি।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও হোম কোয়ারেন্টাইনে

এদিকে ভারত থেকে দুদিন আগে (১৬ মার্চ) দেশে ফেরা বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাসও হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ভারত থেকে দু্ই দিন আগে দেশে ফেরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রশান্ত কুমার দাসকে অফিসের কাজ থেকে বিরত থেকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি তার বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।