বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত দুই লাখ ১৯ হাজার ৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে। এতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো সম্পর্কে অনেকই কমবেশি জেনে থাকবেন! এসময় আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, জ্বর, মাথা ব্যথা, হাঁচি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে ঠাণ্ডা-জ্বরের পাশাপাশি করোনাভাইরাসে শ্বাসকষ্ট হয় কেন, এ বিষয়ে জানেন কি? কারণ করোনা বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যাক্তির ফুসফুসে আঘাত হানে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসের কোষগুলো ফুলে ওঠে। এসময় ভাইরাসের অণুগুলো ফেটে গিয়ে দ্রুত অন্যান্য কোষেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সংক্রমণ বেড়ে যায়। ভাইরাসটি দ্রুত ব্রঙ্কিওল টিউবে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শুরু হয় গলাব্যথা আর খুশখুশে কাশি। 

আরো পড়ুন : চিরতরে পিঠের যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ দূর করার পাঁচ উপায়

সংক্রমণ আরো তীব্রতর হলে ভাইরাসের অণুগুলো ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে ফুসফুসের মিউকাস মেমব্রেনে। এরপর ফুসফুসের দুই পা‌শের পেরিফেরিয়াল অংশ থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শ্বাসনালির উপরে ট্রাকিয়ার দিকে। এভাবে ফুসফুসে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ক্রমশ দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

গবেষকরা আক্রান্তদের পরীক্ষা করে দেখেছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসে দুই পা‌শের পেরিফেরিয়াল অংশে পালতা আস্তরণ দেখা যায়। সংক্রমণ যত বাড়ে, ওই আস্তরণ ততই ঘন হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধার পরও প্রায় এক সপ্তাহ কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। 

আরো পড়ুন : চেষ্টা করেও ওজন কমছে না? কারণ হয়তো বাস্তুদোষ! প্রতিকার জেনে নিন…

সংক্রমণের সপ্তাহখানেক পর থেকে হঠাৎ করেই জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথা শুরু হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রত্যেকেরই ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলোর অপেক্ষা না করে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত।