চারিদিকে এখন করোনা আতঙ্ক। মহামারি এই ভাইরাস থমকে দিয়েছে মানুষের জীবন। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এখন পর্যন্ত ১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ (বুধবার) একজন মারাও গেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানালেন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে এক ভিডিও আপলোড করেছেন তিনি।

ওই ভিডিওতে ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য পরামর্শ দিয়ে সবাইকে সচেতন করেছেন এই তারকা। সঙ্গে প্রবাসী যে ভাই-বোনরা দেশে ফিরেছেন, তাদের উদ্দেশ্যেও অনেকটা সময় কথা বলেছেন মুশফিক।

মুশফিক বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২ লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সব খেলাধুলা বন্ধ করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কয়েকজনকে বাংলাদেশেও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজনের মৃত্যুও হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত ব্যক্তিগিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হাত ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। দ্বিতীয়ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অর্থাৎ খুব জরুরি না হলে ভিড় বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা।’

বাংলাদেশে এখনও ভয়াবহ অবস্থা হয়নি। তবে আস্তে আস্তে প্রকোপ বাড়ছে। যে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই বিদেশ ফেরত। তাই প্রবাসী ভাইদের প্রতি ভিডিও বার্তায় মুশফিক বলেন, ‘বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী ভাইদের প্রতি একটি অনুরোধ। আপনারা নিজের পরিবার এবং দেশের সবার সুস্থতার জন্য কমপক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। মনে রাখবেন আপনি শুধু আপনার জন্য নয়, আপনার সন্তান, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী এবং দেশের সকল মানুষের জন্য নিজেকে সচেতন রাখবেন। আর দয়া করে এখন কেউ এক সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বের হবেন না।’

বাংলাদেশে যে কোনো পরিস্থিতিতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুশফিক, ‘এই সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোনো তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। অনেকেই বিভিন্নভাবে ভুল অথবা মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। গুজবে কান দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজের এবং পরিবারের সচেতনতার জন্য এখন বাসায় অবস্থান করছি। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছি না। যতটুকু সম্ভব সচেতন থাকার চেষ্টা করছি। নিজে সুস্থ থাকুন এবং অন্যকে সুস্থ রাখার সহযোগিতা করুন। মনে রাখবেন আমার হাতেই আমার সুরক্ষা।’