খেয়াল করে দেখবেন আমাদের সবার মুখের ত্বকেই রয়েছে খুব ছোট ছোট বিন্দুর মত ফোটা। এগুলোকে বলা হয় লোমকূপ। এর মাধ্যমে ত্বক তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা পেয়ে থাকে এবং এখানেই ধুলাবালি জমে ব্রন ও ডার্ক হেডস তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবে লোমকূপের আকৃতি হয় খুবই ছোট। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই লোমকূপের আকৃতি থাকে বেশ বড় ও দৃশ্যমান। সাধারণভাবে এই লোমকূপগুলো খালি চোখে সহজে চোখে পড়ার কথা নয়। কথা হল, কেন কিছু মানুষের মুখের ত্বকের লোমকূপ আকৃতিতে বড় থাকে? এর পেছনের পাঁচটি কারণে তুলে আনা হয়েছে।

আরো পড়ুন : করোনা ও ডায়াবিটিস: সম্পর্কটা ঠিক কেমন? জেনে নিন

তৈলাক্ত ত্বক

অতিরিক্ত কার্যক্ষম সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড (Sebaceous Gland) হল মুখের ত্বকের বড় লোমকূপের প্রধান কারণ। প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের ত্বক থেকে তেল উৎপন্ন হয় ত্বককে আর্দ্রতাপূর্ণ রাখার জন্য। যখনই এই তেল প্রয়োজনের চাইতে বেশি উৎপন্ন হয়, ত্বক তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। ত্বকের অতিরিক্ত তেলে বাইরের ধুলাবালি আটকে ব্রন ও হোয়াইট হেডস ও ব্ল্যাক হেডস তৈরি করে। যা থেকেই মূলত ত্বকের লোমকূপ বড় হয়ে যায়।

রোদের কারণে ত্বকের ক্ষতি

রোদের প্রখর আলো শুধুমাত্র ত্বকে রোদে পোড়াভাবই তৈরি করে না, দীর্ঘ সময় রোদে থাকার ফলেও মুখের ত্বকের লোমকূপ সাধারণ আকৃতির চেয়ে বড় হয়ে যায়। লম্বা সময় রোদের আলোতে থাকার ফলে কোলাজেন তৈরির হার কমে যায় এবং এতে করে ত্বকের টিস্যুর স্তরের লোমকূপের আয়তনকে প্রসারিত করতে শুরু করে।

বয়স বৃদ্ধি

বয়স বৃদ্ধি পাওয়া ত্বকের লোমকূপের বড় হয়ে অন্য আরেকটি বড় কারণ। বয়সের সাথে সাথে ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে যেতে থাকে, যার ফলে একইসাথে কমতে থাকে ত্বকের পুনর্গঠণের ক্ষমতা। এর ফলে ত্বকের লোমকূপগুলো বৃদ্ধি পেতে শুরু করে আকারে।

আরো পড়ুন : করোনা থেকে বাঁচতে থানকুনি: যা বললেন চিকিৎসক

ত্বকে খোঁটার অভ্যাস

skin

যেকোন সমস্যায় কিংবা আনমনে ত্বকে নখের সাহায্যে খোঁটার অভ্যাস থেকে লোমকূপ বড় হয়ে যায় আকারে। সামান্য র‍্যাশ বা ব্রন হলেই অনেকেই নখের সাহায্যে ত্বক খোঁটানো শুরু করেন। এর ফলে ত্বকের খালি স্থান থেকে বড় লোমকূপের সৃষ্টি হয়।

জিনগত বৈশিষ্ট্য

ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়ার পরেও অনেকের মুখের ত্বকের লোমকূপ বেশ বড় ও দৃশ্যমান থাকে। এমনটা হওয়ার পেছনে একটাই কারণ থাকে, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা সমস্যা। এক্ষেত্রে ত্বকের প্রতি বাড়তি যত্ন ও খেয়াল রাখতে হবে আবশ্যিকভাবে।