মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ইমাম পরিষদের কমিটি গঠন নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। উভয়পক্ষই পাল্টা-পাল্টি কমিটি ঘোষণা করেছেন। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন-আজিমপুর কবরস্থান মাদরাসার মোহতামিম হাফেজ জয়নাল আবেদীন ও থানা জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান। অপরপক্ষের নেতৃত্বে আছেন-পৌরসভার ইমাম মাওলানা নাজমুল হক ও আঙ্গারিয়া হাজী শরিয়ত উল্লাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সাইফুল ইসলাম। ইমাম পরিষদের এ নেতৃত্ব নিয়ে পুরো উপজেলার ইমামগণ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

আরো পড়ুন : সিংগাইরে কোচিং সেন্টার চালানোর অভিযোগে ৫ শিক্ষকের জেল-জরিমানা


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে স্বল্প পরিসরে ইমাম পরিষদ গঠিত হয়। বর্তমানে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার সাড়ে ৬ শতাধিক ইমাম ও কিছুসংখ্যক মুয়াজ্জিন এ সংগঠনের সদস্য। ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে তাদের কমিটি। কিন্তু নেই কোনো ব্যাংক হিসাব ও নীতিমালা। গত ৩ বছর ধরে সংগঠনটির ব্যনারে উপজেলা সদরে বৃহদাকারে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মসজিদ ভিত্তিক প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা তোলা হয়। এ ছাড়া রমজান মাসেও সংগঠনটির ফান্ডে মোটা অংকের যাকাতের টাকা জমা পড়ে। এ সময় বিত্তবানরাও ইমাম পরিষদকে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন। এসব দান-অনুদান ও যাকাতের টাকার হিসেব নিয়ে ইমামদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে চলে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। এক পর্যায়ে গত ৭ মার্চ থানা জামে মসজিদে উপজেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সভায় ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আরো পড়ুন : সিংগাইরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ধলেশ্বরী নদী খননের মাটি


সূত্র আরো জানায়, ওই সভায় ভোটের মাধ্যমে মুফতি মিজানুর রহমান সভাপতি ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক মনোপুত না হওয়ায় নব নির্বাচিত সভাপতি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে উপস্থিত ইমামগণ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েন। পরে গত ১৩ মার্চ দু’পক্ষ পৃথক পৃথক সভা করে নতুন করে কমিটি ঘোষণা দেন। এতে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সভায় মাওলানা নাজমুল হককে সভাপতি এবং মাওলানা সাইফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান মামুনকে কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে, আঙ্গারিয়াস্থ দারুল হিকমাহ ওয়াল ইরফান মাদরাসায় হাফেজ জয়নাল আবেদীনকে সভাপতি ও মুফতি মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে আরো একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই জের ধরে প্রত্যেকটি ইউনিয়নেও চলছে পাল্টা-পাল্টি কমিটি গঠন।


মধ্য সিংগাইর আল-মদিনা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১০ বছর ধরে মুষ্টিমেয় ২-৩ জন লোক সংগঠনের দান-অনুদান, যাকাত ও শিল্পপতি সাত্তার খানের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের টাকার কোনো হিসেব দেন না। আমরা শুধু এ বছর অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলের আয়-ব্যয়ের হিসেব চাওয়ায় তারা নাখোশ হয়। এ কারণেই সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে তারা মেনে নিতে পারছেন না। নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও একপক্ষের নেতৃত্বদানকারী মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইমামদের মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বের কমিটি বিগত সময়ের প্রাপ্ত দান-অনুদান ও ওয়াজ মাহফিলের টাকার হিসেব দিতে পারবে না বলেই আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না।

এ প্রসঙ্গে অপরপক্ষের নেতৃত্বদানকারী মুফতি মিজানুর রহমান সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ব্যক্তি দায়িত্বশীল পদে আসায় আমি সভাপতি নির্বাচিত হয়েও পদত্যাগ করেছি। দান-অনুদান ও যাকাতের টাকা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে সমভাবে বন্টন করা হয়। দ্রুত এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, এরকম কোনো তথ্য আমি পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।