সারা বিশ্বের আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, মাথাব্যথা, হাঁচি, কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে ঘর থেকে বের না হওয়া ভালো। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।

তবে আমরা অনেকেই জানি না যে, শরীরে কীভাবে বাসা বাঁধছে এই ভাইরাস? আর কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এই ভয়াবহ সংক্রমণ। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় একদল গবেষকের দাবি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কোষগুলো ফুলে ওঠে। ভাইরাস অণুগুলো ফেটে চারপাশের অন্য কোষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। সংক্রমণ দ্রুত ব্রঙ্কিওল টিউবে ছড়িয়ে পড়ে।

তারা আরও বলেন, এ সময় শুরু হয় গলাব্যথা আর শুকনো কাশি। সংক্রমণ আরও বাড়লে ভাইরাসের অণুগুলো ক্রমশ ছড়িয়ে ফুসফুসের মিউকাস মেমব্রেনে। ফুসফুসের দুই পাশের পেরিফেরিয়াল অংশ থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শ্বাসনালির ওপরে ট্রাকিয়ার দিকে।

সংক্রমণ ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড অপসারণের কাজটিও সঠিকভাবে হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রমশ দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

আক্রান্তদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসের দুই পাশের পেরিফেরিয়াল অংশে হালকা, পালতা আস্তরণ দেখা যায়। সংক্রমণ যত বাড়ে, ওই আস্তরণ ততই ঘন হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর এক সপ্তাহ কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাত দিন পর থেকে হঠাৎ করেই জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা শুরু হয়।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রত্যেকেরই ভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণগুলো অপেক্ষা না করে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তথ্যসূত্র: জিনিউজ