আন্তর্জাতিক আঙিনায় অভিষেক ২০১৪ সালের শেষ দিকে। ওয়ানডেতেও অভিষেক হয়েছে তখনই। কিন্তু এই সাড়ে পাঁচ বছরে মাত্র ৯টি ওয়ানডে খেলেছেন তাইজুল। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২টি।

মূলত টেস্ট বোলার হিসেবেই পরিচিতি হয়েছে তাইজুলের। টেস্ট খেলে ফেলেছেন অনেকগুলো। পরিসংখ্যানও ভালো, ২৯ টেস্টে উইকেট ১১৪টি। তার মানে কি ওয়ানডেতে ব্যর্থ বাঁহাতি এই স্পিনার?

তেমনটাও কিন্তু বলার উপায় নেই। ৯টি ওয়ানডে খেলেছেন, উইকেট ১২টি। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। তারপরও সাদা বলের ফরমেটে নিয়মিত হতে পারেননি।

কেন রঙিন পোশাকে সেভাবে সুযোগ দেওয়া হয়নি তাকে? তাইজুল বলেন, ‘আমি কারণটা জানি না। তবে এটা তো আমার সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। হয়তো তারা (ম্যানেজম্যান্ট) তখন ভেবেছেন আমি এটা পারব না অথবা ওয়ানডের জন্য আমি প্রস্তুত নই। অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেছিলাম, তবে সেটা বড় দলের বিপক্ষে নয়। হয়তো সেটা তেমন গুরুত্ব বহন করে না। হয়তো আমি বড় দলের বিপক্ষে তেমন ভালো করতে পারিনি। তারা হয়তো ভেবেছেন যখন প্রস্তুত হব, তখনই দলে নেবেন। এটা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

ভাগ্যে যা লেখা আছে, সেটা এক সময় না এক সময় পাওয়া যাবে-বিশ্বাস করেন তাইজুল। তার ভাষায়, ‘দেখুন আমি কখনও এসব ভেবে হতাশায় ভুগিনি। খারাপ লাগেনি এমনটা বলব না। তবে কষ্ট নিয়ে বসে থাকিনি। কারণ আমি জানি, ভাগ্যে যা আছে তা পাবই। হ্যাঁ, আমাকে এর সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমও করতে হবে। আমার মাথা আরও কাজে লাগাতে হবে। যা শুনছি তা করে দেখাতে হবে।’

মাঝে টেস্ট স্পেশালিস্টের তকমা লেগে গেলেও আবার সাদা বলের ফরমেটে জায়গা করে নিয়েছেন তাইজুল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে সব কটি ম্যাচ খেলেছেন, ঢুকে পড়েছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বোর্ডের চুক্তিতেও। বোর্ডের এমন ঘোষণা শুনে কি কিছুটা অবাক হয়েছিলেন?

তাইজুল জানালেন, ‘আমি বিস্মিত হইনি। আমি এখন বিশ্বাস করি ওয়ানডেতে ভালো করতে পারব। যখন প্রথম ওয়ানডে খেলেছিলাম, ভালোই করেছিলাম। পরে বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ খেলি (২০১৫ সালে), সেখানে হয়তো বেশি ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই আমার মধ্যে ঘাটতি ছিল। যারা দল বানান তারা তো বোঝেনই। তারা অবশ্যই আমার চেয়ে ভালো বুঝেন। এখন তারা আমাকে বিবেচনা করেছেন, আমি অবশ্যই খুশি।’