মিরপুর-১-এর উত্তর টোলারবাগের একটি বহুতল ভবন পুরোপুরি কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে কেউ বের হবেন না, পাশাপাশি ভেতরেও কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনাও নজরদারি করা হচ্ছে। বাড়িটিতে কয়েকজন বিদেশফেরত বাসিন্দা অবস্থান করছেন। শনিবার (২১ মার্চ) ভোর থেকে বাসাটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ভবনে ৩০টি পরিবার বসবাস করে।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, ‘ওই বাসার একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমি এবিষয়ে আর ডিটেইলস বলতে পারছি না।’

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘ওই বাসার এক ব্যক্তি মারা যাবার পর আইইডিসিআর-এর নির্দেশে আমরা সব করেছি। ভবনটির একটি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাসার অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা সীমিতভাবে বের হতে পারবেন।’

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, বাড়িটিতে কয়েকজন প্রবাসী রয়েছে বলে বাসিন্দারা নিজেরাই ভবনটি লকডাউন করে দিয়েছেন। আমরা কিছু করিনি। বাসিন্দারা নিজেরাই সচেতন হয়ে কাজটি করেছে। আমরা কোনও বাড়ি লকডাউন করার এখতিয়ার রাখি না।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাড়ির বাসিন্দারা মেনে চলছেন। আমাদের যদি কোনও সহযোগিতা প্রয়োজন হয় আমরা করবো।

করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ডেল্টা হাসপাতালে মারা গেছেন। ডেল্টা হাসপাতালের জিএম তোফায়েল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ডেল্টা হসপিটালের ফোন অপারেটর এক নারী বলেন, ‘একজন মারা গেছেন। আমাদের এর চেয়ে বেশি বলতে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে তিনি অসুস্থতা নিয়ে এসেছিলেন। এখানে করোনার চিকিৎসা হয় না। মারা যাবার পর স্বজনরা তার মৃতদেহ নিয়ে গেছেন।’

অপর একজন ফোন অপারেটর বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক, বয় ও নার্সদের হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তবে আমাদের কাছে সব তথ্য নেই।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুজন মারা  গেছেন। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।