করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশ সরকার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিজেদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। স্বাভাবিকভাবে সকলের সঙ্গে মেলামেশা করাও অনুচিত। কিন্তু সময় যাবে কী করে? 

আরও পড়ুন :  করোনাভাইরাস : নিরাপদে মুখমণ্ডল স্পর্শ করার উপায়

ক্যাম্পাসের ধরাবাঁধা নিয়মের ক্লাস/ল্যাব নেই, যে দিনের অধিকাংশ সময় সেখানেই কেটে যাবে। চাইলে কিন্তু এই ছুটির সময়টিকেই দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনি- 

১) যাদের সামনে মিডটার্ম অথবা সেমিস্টার ফাইনাল তারা এই ছুটিকেই কাজে লাগাতে পারেন। যে বিষয়গুলো পড়া হয়নি, সেগুলো পড়ুন। প্রয়োজনে নোট করুন আর আগামী পরীক্ষার জন্য ভালো একটি প্রস্তুতি নিন। 

২) যাদের অনার্স শেষ অথবা প্রায় শেষ হতে চলছে তাদের জন্য এই সময়টা চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সময়। ছুটির এই দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় বই পড়তে পারেন। 

৩) সরকারি চাকরির ইচ্ছা না থাকলে অন্য কোনো আত্ম-উন্নয়নমূলক বই পড়ে রাখতে পারেন যেগুলো করপোরেট জবে বেশ কাজে লাগতে পারে। ডেল কার্নেগির ‘হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল’ বা শিব খেরার ‘তুমিও জিতবে’ প্রভৃতি বই রাখতে পারেন তালিকায়। গুগলে সহজেই মিলবে এসব বইয়ের পিডিএফ। 

আরও পড়ুন :  করোনা থেকে বাঁচতে ডায়াবেটিস রোগীরা মেনে চলুন ৭ নিয়ম

৪) এমনিতেই বই পড়ার অভ্যাস থাকলে তো কথাই নাই। বাসার বুকশেলফে সাজানো ধুলোপড়া বইগুলো ঝেড়ে মুছে ডুব দিতে পারেন সেগুলোর মাঝে। একবার পড়া হলেও আবার পড়তে পারেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তা চেতনার ধরন পরিবর্তন হয়। পুরনো বইতেই দেখবেন নতুন উপলব্ধি আর ভিন্ন অনুভূতি পাবেন এবার।

৫) সিনেমা দেখতে ভালোবাসলে দেখতে পারেন সিনেমা। আর সিরিজে আসক্ত হলে তো কথাই নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে পারবেন অনায়াসে। 

৬) বিভিন্ন ডকুমেন্টারিগুলো দেখতে পারেন। বিনোদন আর সাধারণ জ্ঞানের প্যাকেজ একসঙ্গে। এই যেমন দেখতে পারেন ‘বিবিসি আর্থ সিরিজ’। 

৭) এটা অবশ্য আরও আগেই লেখা উচিত ছিল। যাদের ইংরেজিতে দুর্বলতা আছে তারা অবশ্যই এই বন্ধে কিছু প্রাকটিস করে নিতে পারেন। একটা কথা বলে রাখা ভালো, বাইরের দেশে তো দূরের কথা, ইংরেজিতে ভালো করতে না পারলে এখন বাংলাদেশেই ভালো চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি রিক্রুট এক্সামেই ইংলিশ স্কিল যাচাই করা হয়। আর এটা এমন এক দক্ষতা যা শুধু চাকুরি পেতেই নয়, চাকরি করতে হলেও লাগবে।

৮) সাঁতার কাটা, বাইক ড্রাইভিং এসবের মতোই রান্না করতে পারাটা একটা স্কিল। অনেক মেয়েরাই আধুনিকতা দেখাতে গিয়ে এখন রান্না শিখতে চায় না। এই বন্ধে মায়ের কাছ থেকে কিছু সহজ রান্না শিখে নিতে পারেন। আর এটা শুধু মেয়েদের জন্য নয়, প্রত্যেক ছেলেরও কিছু টুকটাক রান্না শিখে রাখা উচিত।

৯) যারা লেখালেখি করতে পারে তাদের জন্য নিরিবিলি এই সুযোগ। ছোটখাটো গল্প, কবিতা, আর্টিকেল, উপন্যাস লেখার চেষ্টা করতে পারেন। ভালো সময় কাটবে আশা করি। হতে পারে, আগামী বইমেলায় আমরা আপনার লেখা বই পড়তে পারব।  

আরও পড়ুন :  করোনা: হোম কোয়ারেন্টিনের যেসব নিয়ম জানা জরুরি

১০) এছাড়াও যাদের টুকটাক অন্যান্য শখ আছে সেগুলোতে মনোনিবেশ করতে পারেন যেমন- ছবি আঁকা, কারুশিল্প, সেলাই করা, মিউজিকাল ইনস্ট্রুমেন্ট বাজানো, ছাদবাগান প্রভৃতি করা যেতে পারে।

এসবের বাইরেও যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এই ছুটিতে করতে পারেন তা হলো পরিবারকে সময় দেওয়া। মোবাইলের স্ক্রিনে কম সময় দিয়ে গল্প, হাসি, আড্ডা আর ঘরের কাজগুলো একসঙ্গে করাটাই হতে পারে জীবনের সেরা স্মৃতি।

সর্বোপরি নিজের ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালোভাবে এই সময় পার করুন।