বাংলাদেশে সব ধরনের ক্রিকেট তো বন্ধ। ক্রিকেটারদের বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যাবার পরামর্শও দেয়া হয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে। তাই শুধু মাঠের ক্রিকেটই বন্ধ নয়। ক্লাব ক্রিকেটের ১২ প্রতিযোগি দলের সবরকম অনুশীলন আর প্রস্তুতি বন্ধ।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও স রকম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ। তাই হোম অফ ক্রিকেট নীরব, নিথর। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাসহ ক্লাব ক্রিকেটে যে সব ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন, তারা প্রায় সবাই ব্যক্তিগতভাবে ঘরে বসেই ফ্রি হ্যান্ড প্র্যাকটিস করছেন। হাতে গোনা দু’ একজন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় নিজ উদ্যোগে শেরে বাংলায় এসে রানিং ও ফিজিক্যাল ট্রেনিংও করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে কাল ২২ মার্চ রোববার থেকে বিসিবির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ দুপুরে এসেছে সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও।

এখন প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন আর ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জিসহ সব বিদেশি কোচিং স্টাফরা কে কি করছেন? তারা কি বাংলাদেশে? নাকি ছুটিতে?

প্রসঙ্গত, এখন টিম বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার দায়িত্বে আছেন ৮ জন কোচিং স্টাফ। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা একজনও বাংলাদেশের নন, সবাই বিদেশি।

জাতীয় দলের ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার সাব্বির খান জাগো নিউজের সাথে আলাপে জানান, বাংলাদেশের সব বিদেশি কোচিং স্টাফই ছুটিতে। সবাই এখন নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন।

তার মানে দক্ষিণ আফ্রিকান হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি, কিউই স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, কিউই পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন, তিন ইংলিশ- ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, ফিজিও জুলিয়ান ক্যালাফাতে এবং ট্রেনার ও নিকোলাস ট্রেভর লি এবং ভারতীয় কম্পিউটার এনালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর সবাই যার যার দেশে অবস্থান করছেন।

গোটা বিশ্ব করোনার ভয়াল থাবায়। ভাবছেন সবাই বুঝি করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ দেশে পাড়ি জমিয়েছেন? বিষটি আসলে অমন নয়। যেহেতু জাতীয় দলের মার্চে কোনই সফর বা সিরিজ নেই, তাই সব বিদেশি কোচিং স্টাফ চুক্তি অনুযায়ীই ছুটিতে।

বাংলাদেশের প্রায় সব কোচিং স্টাফের সাথেই জাতীয় দলের কার্যক্রমকেন্দ্রিক চুক্তি হয়। অর্থাৎ কোন সফর, সিরিজ বা টুর্নামেন্টের একটি নির্দিষ্ট সময় আগে তারা সবাই এসে জাতীয় দলের অনুশীলনে ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করেন। আবার জাতীয় দলের যখন কোন কার্যক্রম থাকে না, তখন তারা ছুটিতে দেশে ফেরত যান। এখনকার ছুটিও ঠিক সেরকম।

এর মধ্যে সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সাথে বছরে ১০০ দিন কাজ করার চুক্তি আছে বোর্ডের। কাজেই তার বাংলাদেশে থাকা হয় অন্য সাত জনের চেয়ে অনেক কম সময়।