ব্যস্ত জীবনের অবসরে যখন বাড়ির সবাইকে নিয়ে ঘুরার প্ল্যান করবেন তখন কিন্তু বড়দের সাথে সাথে শিশুরাও চলে আসে। অনেকেই শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে যেতে ভয় পান, নানা বিপদ-আপদের আশঙ্কা কিংবা বাড়তি ঝামেলার কারণে শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়াকেই ভালো বলে মনে করেন তারা।

যদিও শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ হতে পারে অনেক বেশি মানসিক চাপমুক্ত ও মজার অভিজ্ঞতা। তবে শিশুদের বেড়ানোর জন্য কিছু বাড়তি সতর্কতার দরকার হয়। তাই শিশুদের নিয়ে যান বেড়াতে তবে তার আগে জেনে নিন যা যা মাথায় রাখতেই হবে!

সবার আগে আপনার শিশুর স্বভাব চিনুন

আপনার ছোট্ট শিশু ঠিক কী পছন্দ করে, তা ঘুরতে যাওয়ার আগে ভালো করে জেনে নিন। কারণ বেড়াতে গিয়ে সে কী কী ভাবতে পারে, এবং কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা বুঝে যাবেন ওকে ভালো করে চেনা থাকলে। বেড়াতে যাওয়ার আগে ওর সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটান। যেখানে যাবেন, সেই জায়গাটা কেমন, সে বিষয়ে বাবুকে একটা ধারণা দিয়ে রাখুন।

যাতায়াত বা ট্রান্সপোর্ট যে যানবাহনেই চাপুন না কেন বিমান বা ট্রেন— বাচ্চাদের জন্য কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখতেই হবে তা হলো-

ধারের সিট কখনও নয়ঃ ট্রেনেই হোক বা প্লেনে, বাচ্চাকে কখনও ধারের সিটে বসাবেন না। যাতায়াতের সময় অসাবধান কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে যেতে পারে, ওর আঘাত লাগতে পারে। বিমানে বা ট্রেনে ওর নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখুন। বিমানে সব সময় সিটবেল্ট আটকে রাখুন। গাড়িতে যাতায়াত করলেও সিটবেল্ট লাগিয়ে রাখতেই হবে। ট্রেনে বা গাড়িতে ওর সামনে আঘাত পাওয়ার মতো বস্তু রাখবেন না। কোথাও গিয়ে পানিতে নামতে হলে লাইফ-জ্যাকেট অবশ্যই পরিয়ে দিন।

কিছু বাড়তি সতর্কতা-

১. পানির বিষয়ে সাবধান হোনঃ খাবার পানি তো বটেই, ছোট্ট বাবুর গোসলের পানিও যেনো পরিষ্কার হয়। যেখানেই যান না কেন, ওকে ভালো করে ফিল্টার করা পানি ছাড়া অন্য কোনও পানি পান করাবেন না।

২. কী জটিলতা হতে পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকুনঃ কোথাও বেড়তে গেলে ঠিক কী ধরনের সমস্যা বা বিপদ হতে পারে, তা ভালো করে জেনে রাখুন। ধরুন যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে, অথবা যখন তখন বৃষ্টি নামে। এটা আগে থেকে জানা থাকলে, আপনার ছোট্ট শিশুর যাতে সেই সময় অসুবিধা না হয়, তার ব্যবস্থা করে রাখতে পারবেন।

৩. ঔষধের বাক্সে নজরঃ শুধু দু’জনে বেড়াতে গিয়ে  যা যা ঔষধ নিতেন তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মনে রাখবেন আপনার ঔষধ আর ছোট্ট সোনার ঔষধ আলাদা। তাছাড়া বিদেশে বা দেশে কিছু জায়গায় গেলে ঔষধ না-ও পেতে পারেন। তাই আগে থেকে সেই সব ঔষধ গুছিয়ে নিন, যা দরকার পড়লেও পড়তে পারে।

৪. পরিচয় লেখা কাগজপত্রঃ আপনার বাচ্চার ব্যাগে বা ব্রেসলেটের মধ্যে ছোট কাগজে লিখে রাখুন ওর নাম, ওর ঠিকানা। আপনার কাছে স্থানীয় ফোন নম্বর থাকলে, সেটাও লিখে রাখুন। পাশাপাশি আপদকালীন বা ইমারজেন্সি নম্বরও দিয়ে রাখুন। ও আপনার থেকে আলাদা হয়ে গেলে, যাতে সহজে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন, এটা তার ব্যবস্থা।

৫. অতিরিক্ত সময় রাখুনঃ প্রাপ্তবয়স্করা যেমন ঝটপট কাজ সেরে নিতে পারেন, বাচ্চারা মোটেই তা পারে না। তাই হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় রাখুন। যাতে আপনার বাচ্চার উপর চাপ না পরে, তাকে তাড়া না-দিতে হয়। হাতে একটা বা দুটো অতিরিক্ত দিনও রাখতে পারেন। যদি ওর শরীরটা খারাপ লাগে, তা হলে এক বা দু’দিন যাতে বিশ্রাম নিতে পারে।

৬.বাথরুমে একা নয়ঃ ট্রেন এবং প্লেন— দুটোতেই বাচ্চাকে একা টয়লেটে যেতে দেবেন না। ছোটখাটো যন্ত্রে ওর হাত আটকে যেতে পারে, বা গুরুতর ব্যথা পেতে পরে।

৭.ওর মাপের নিরাপত্তা সামগ্রীঃ বিশেষ করে বিমানে যে নিরাপত্তা-সামগ্রী দেওয়া হয়, তা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এক মাপের, বাচ্চাদের জন্য অন্য মাপের। খেয়াল রাখুন যেন আপনার খোকা বা খুকুর হাতে যেন ছোটদেরটাই পড়ে।

হোটেলে পৌঁছে বাচ্চার সুরক্ষার জন্য কোন কোন দিকে খেয়াল রাখতে হবে, সেটাও মাথায় রাখা দরকার।

৮.ঘর দেখে নিন ভালো করেঃ ঘরে এমন কোনও জিনিস নেই তো যা আপনার ছোট্ট সোনার ক্ষতি করতে পারে? ধারালো কিছু বা কোনও রাসায়নিক? ভালো করে দেখে তবেই ওকে ঘরে খেলা করতে দিন।

৯.দরজা খুলতে দেবেন নাঃ কেউ দরজায় টোকা দিলে বা বাইরে থেকে ডাকলে, আপনার বাচ্চা যেন দরজা না খোলে। অচেনা জায়গায় এটা একেবারেই ঠিক না।

১০.নাগালের বাইরে যা যা রাখবেনঃ শ্যাম্পু, অ্যাসট্রে, দেশলাই, কফিমেকারের মতো জিনিস হোটেলে আপনার বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখুন।

১১.কোনটা ওর বয়সের উপযোগীঃ হোটেল লাগোয়া খেলার মাঠ বা বাচ্চাদের খেলার ঘরে নানা বয়সের বাচ্চাদের জন্য খেলার সামগ্রী থাকে। দেখে নিন  কোনটা ওর জন্য আদর্শ। বেশি বয়সি বাচ্চাদের সামগ্রী নিয়ে খেলা করতে গেলে ওর আঘাত লাগতে পারে।