রাজশাহী সংবাদদাতা : রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে ১০ মাস। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে মেয়রের অব্যবস্থাপনায় বেতন হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই অব্যবস্থাপনা। এতে ক্ষুদ্ধ কর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, বার বার তাগাদা দিয়েও তারা বেতন পাচ্ছেন না। ফলে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারের সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। আসছে রমজান নিয়েও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

অভিযোগ উঠেছে, মেয়র আবদুল মজিদ মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। পরিবার নিয়ে বাস করনে রাজশাহী শহরে। পরিষদের খোঁজ খবর রাখেন দায়সারাভাবে। প্রয়োজনে তাকে পাশে পান না পৌরবাসী।

কর্মী বলছেন, কর্মীদের বেতন বকেয়া প্রায় এক কোটি টাকার মতো। সম্প্রতি হাট ইজারা দিয়ে এক কোটি ২২ লাখ টাকা পেয়েছে পৌরসভা। কিন্তু কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে গতি আসছে না নাগরিক সেবা কার্যক্রমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা প্রায় ১৯ বছর মেয়র রয়েছেন আবদুল মজিদ। দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিকরা সেবা পাচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার মতো।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পৌর ট্যাক্স থেকে শুরু করে সব ধরনের কর দিচ্ছেন প্রথম শ্রেণির। কিন্তু সেবার বেলায় তৃতীয় শ্রেণির। এনিয়ে তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই।

প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষের বাস। একেবারেই গ্রামীন এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পৌরসভা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে জনদুর্ভোগ শুধু বাড়ছেই। রাস্তা, ড্রেন, ডাস্টবিন নেই প্রয়োজনমাফিক। পানীয় জল সরবরাহেও গতি নেই। রয়েছে বৈদ্যুতিক বাতির স্বল্পতা।

এতো কিছুর পরও স্বস্তির ঢেকুর পৌর মেয়র আবদুল মজিদের। তিনি বলেন, পৌরসভা গড়ে উঠেছে মাত্র ১৯ বছর হলো। এতো কম সময়ে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পেয়েছে। নাগরিক সেবার দিক দিয়ে রাজশাহীর অন্য কোনো পৌরসভা কাঁকনহাটের ধারেকাছেও নেই।

কর্মীদের বেতন বকেয়ার বিষয়ে চানতে চাইলে মেয়র বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত পৌরসভার কোনো দেনা ছিলো না। আপাতত বাজেট ঘাটতি রয়েছে। অন্য কোনো দায়-দেনা না থাকলেও কর্মীতে বেতন বকেয়া রয়েছে এক কোটির মতো। আগামী জুনের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন মেয়র।

হাট ইজারা থেকে পাওয়া অর্থে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করার বিষয়ে মেয়র বলেন, এই টাকার পুরোটা পৌরসভা পায় না। নানান খাতে কেটে নেয়ার পর পৌরসভা যা পায় তা দিয়ে পৌর সভার সারা বছরের খরচ চলে।

নাগরিক সেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মেয়র বলেন, পৌরবাসীর নাগরিক সেবায় বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছিলো। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে দুদক সেগেুলো বন্ধ করে দেয়। এরপর সেই প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন বন্ধ করে দাতা সংস্থাগুলো। ফলে থমকে গেছে এসব প্রকল্পের কাজ। গত দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। ফলে এতদিন দক্ষ মেয়র হিসেবে তিনি যে সুমান অর্জন করেছিলেন সেটি রাতারাতি নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে পৌরসভায় সময় না দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মেয়র বলেন, পৌরসভার কাজগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব কাজের তদবির করতে তাকে ঢাকায় যাওয়া আসা করতে হয়। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক। সমিতির কাজেও তাকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সময় দিতে হয়। তার মানে জনগণ আমার কাছ থেকে সেবা পাননা এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।