এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে বেঙ্গালুরু শহর পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও সোমবার বলেছেন, শরীরে হোম কোয়ারেন্টিন সিল দেয়া ব্যক্তিদের যদি জনবহুল এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

জনস্বার্থে তারা ঘরে থাকুক তা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার বিদেশফেরত যাত্রীর শরীরে হোম কোয়ারেন্টিন সিল লাগানো হয়েছে বলে এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘শরীরে হোম কোয়ারেন্টিন সিল আছে এমন কয়েকজন বিএমটিসি (বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন) বাসে চলাচল করছে এবং রেস্তোঁরাগুলিতে বসে আছে এমন তথ্য পেয়েছি। দয়া করে ১০০ নম্বরে ফোন করুন, এই ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে যাওয়া হবে, গ্রেপ্তার করে সরকারী কোয়ারেন্টিনে প্রেরণ করা হবে।’

কর্মকর্তাদের মতে, কোয়ারেন্টিন সিলযুক্ত লোকদের নিজ ঘরে কমপক্ষে ১৪ দিন আলাদা থাকতে হবে।

রোববার কর্ণাটকে ৬জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এটাই সেখানে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। এই নিয়ে রাজ্যটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ জনে।

এদিকে করোনায় আক্রান্তদের সহায়তার কথা বিবেচনা করে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীরা বাড়িতে থেকেও আংশিক কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যের ৭ কোটি ৯০ লাখ মানুষ রেশনে প্রতি মাসে ২ টাকা কেজি দরে চাল পেতেন; এখন সেটি বিনামূল্যে দেয়া হবে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও সমাজের বিশালসংখ্যক মানুষের সমস্যা লাঘবে এ দুই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতি, কলকারখানা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মন্দার শঙ্কা নিয়ে দেশটিতে ভয়াবহ একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে মমতা বলেন, রাজ্য সরকার আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দরিদ্রদের বিনামূল্যে চাল দেবে। আগে দরিদ্ররা চাল প্রতি কেজি ২ রুপি এবং গম প্রতি কেজি তিন রুপিতে পেতেন। এখন তারা সেগুলো একদন বিনামূল্যেই পাবেন। মাসে একজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল এবং পাঁচ কেজি গম পাবেন।

পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন অফিস সূচি তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সূচি অনুযায়ী ৫০ শতাংশ সরকারি কর্মী তাদের বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করতে পারবেন। সোমবার থেকে এই ডিউটি রোস্টার চালু হয়ে মার্চের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মমতা বলেছেন, আমাদের ই-অফিস প্রস্তুত আছে। আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি একেবারে শাটডাউন করার কথা বলছি না। সুপারশপ এবং মার্কেটগুলো চালু থাকবে। রেস্টুরেন্টগুলো চালু থাকতে পারে; তবে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।