করোনাভাইরাস: কী করবেন আর কী করবেন না



সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস এমন মহামারি আকার ধারণ করছে যে, প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে আতঙ্ক, ভীতি, ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা। 

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মানুষের জীবন যেমন হুমকির মুখে তেমনি বিশ্বের অর্থনীতিও নেমে গেছে। পতন হয়েছে শেয়ার বাজারের। করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who)। পাশাপাশি এই ভাইরাস থেকে বাঁচার এমনই কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who)-এর বিশেষজ্ঞরা। 

একইসঙ্গে কোবিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে অবশ্যই মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো। এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে সচেতন হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই।  ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন। 

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৮ এবং মারা গেছে ১৬ হাজার ৫১৪ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২ হাজার ৬৯ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে চীনে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। ইউরোপের এই দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৬০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মৃত্যু ৬ হাজার ৭৭।

আমাদের সচেতনতাই পারে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। আর তাই জেনে নিন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে কী করবেন আর কী করবেন না।

কী করবেন

. প্রতিটি মানুষের থেকে ১ মিটারের দূরত্ব বজায় রাখুন। 

. কাশির আদবকেতা বা রেসপিরেটরি হাইজিন মেনে চলুন, অন্যকেও উৎসাহিত করুন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢাকুন। টিস্যুটি ঠিক জায়গায় ফেলুন।

. নিয়মিত এবং ভালো করে বারবার হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবৎ)। কেন? এ কথা প্রমাণিত যে সাবান–পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুলে এই ভাইরাসটি হাত থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতে ময়লা বা নোংরা দেখা না গেলেও বারবার হাত ধুতে পারেন।  

. হাসপাতাল, শপিং মল, বাজার, রোস্তোরাঁ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলুন।

. অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া আবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘর থেকে যাবতীয় কাজ করুন।

. কারও সঙ্গে হাত মেলানো (হ্যান্ড শেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।

. মিটিং, কোচিং, ওয়ার্কশপ এড়িয়ে চলুন।

. কোনো কারণে অসুস্থ বোধ করলে, জ্বর হলে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন। তিনি বিষয়টি গোচরে আনতে ও ভাইরাস ছড়ানো বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অথবা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১।

. সঠিক তথ্য-উপাত্ত পেতে নিজেকে আপডেট রাখুন। গুজবে কান দেবেন না। আপনার স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকের কাছে তথ্য জানতে চান।

যা করবেন না

হাত দিয়ে আমরা সারা দিন নানা কিছু স্পর্শ করি। সেই বস্তু থেকে ভাইরাস হাতে লেগে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।

ভীড় বা জনবহুল জায়গায় যাবেন না।

সাংস্কৃতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন না।

কাঁচা মাছ–মাংস আর রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা চপিং বোর্ড, ছুরি ব্যবহার করুন। কাঁচা মাছ–মাংস ধরার পর ভালো করে সাবান–পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার গ্রহণ করুন।