করোনাভাইরাস: কেউ হাঁচি-কাশি দিলে কেন দু'মিটার দূরে থাকতে হবে?



সারা বিশ্বে মহামারীর রূপ ধারন করেছে নভেল করোনাভাইরাস। এতে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য গুজব। কোভিড-১৯-এর শুরুর দিকের লক্ষণগুলো হল জ্বর, ক্লান্তি ভাব, শুষ্ক কাশি, শরীর ব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা ইত্যাদি; পাতলা পায়খানাও হতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের তীব্রতা বাড়ে এবং মৃদু থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যে করণীয়গুলো কথা বলা হয়েছে সেগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,  সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়া,  বাড়িতে থাকা, যতটা সম্ভব বাইরে না বের হওয়া। আর যদি বের হতেই হয় তাহলে অন্যদের কাছ থেকে অন্তত দুই মিটার বা ৬ ফিট দূরে থাকা।

বিশেষজ্ঞরা এই দুই মিটার বা ৬ ফিট দূরত্বে থাকার কথাই কেন বলেছেন? কারণ হলো, হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দেহে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায় – যদি আপনি কমপক্ষে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে পারেন।

কীভাবে তা সম্ভব হয়? তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দুটি প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর এবং ঘন ঘন শুকনো কাশি।

হাঁচি-কাশির সাথে একজন মানুষের মুখ দিয়ে সবেগে বেরিয়ে আসে অগণিত পানির বিন্দু মিশ্রিত বাতাস – যে বাতাসটা আসছে তা ফুসফুস থেকে। 

শরীরের আর কোথাও নয়, এই ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রেই করোনাভাইরাস বাসা বাঁধে। সুতরাং যদি এই কাশি দেয়া লোকটি ইতোমধ্যেই সংক্রমিত হয়ে থাকেন – তাহলে জানবেন, তার প্রতিটি কাশির সাথে বাতাসে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য করোনাভাইরাস। এবং এই ভাইরাসের বাহন হলো কাশির সাথে বেরিয়ে আসা অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দুগুলোই – যাকে ইংরেজিতে বলে ড্রপলেটস।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানী নাতালি ম্যাকডারমট বলছেন, কেউ যখন হাঁচি কাশি দিচ্ছে তখন এই ড্রপলেটসগুলোর বেশিরভাগই দু মিটারের বেশি যেতে পারে না। দুই-চারটি অবশ্যই যায় কিন্তু ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হয় – যদি আপনি ড্রপলেটসগুলোর দু’ মিটারের মধ্যে থাকেন।

অনেক বিজ্ঞানী বলেন, সূর্যের আলোয় যে অতিবেগুনী রশ্মি বা আলট্রাভায়োলেট রে থাকে – তা বাতাসে ভাসমান ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে। নাতালি ম্যাকডারমট বলছেন, কথাটা ঠিক কিন্তু বাড়ির বাইরে বা রোদের মধ্যে আছেন বলেই যে আপনি নিরাপদ তা নয়।

তার কথায়, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে ঠিকই কিন্তু এটা কিন্তু এমন নয় যে এ রশ্মি লাগার সাথে সাথে ভাইরাস মারা যায়। সে জন্য করোনাভাইরাসকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদের সংস্পর্শে থাকতে হবে।

কল্পনা করুন, একজন কাশি দিয়ে বাতাসে ড্রপলেট ছড়িয়ে দিলো আর সাথে সাথেই শ্বাস নেবার মাধ্যমে আপনার দেহে তা ঢুকে গেল, তাহলে অতিবেগুনি রশ্মি তো ভাইরাসটাকে মারার যথেষ্ট সময় পেলো না। অতিবেগুনি রশ্মি একটা পানির বিন্দুর বাইরের দিকে থাকা ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে কিন্তু তার ভেতরে থাকা ভাইরাসগুলো জীবিত থাকতে পারে।

সে কারণেই, নাতালি ম্যাকডারমট বলেছেন, লোকে যদি করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে চায় তাহলে তাকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মগুলো গুরুত্বের সাথে মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, বাড়ির ভেতরে আপনার পরিবারের লোকদের সাথে হয়তো দু মিটার দূরত্বে থাকার দরকার নেই। কিন্তু যখন বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন তখন এ নিয়ম মানতে হবে। যদি আপনি বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে যান, তাহলে সেখানে অন্য একটা পরিবারের সাথে পিকনিক করবেন না। অন্য লোকের সংস্পর্শে আসাটা যত কম হবে ততই ভালো। সূত্র: বিবিসি