দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। এ ব্যাপারে তিনি ফিফা ও এএফসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন।

রাতে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমি চাচ্ছি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে। ইতিমধ্যে ফিফা ও এএফসির সাথে আমি কথাও বলেছি। আশা করছি, তারা আমাদের দেশের অবস্থা বিবেচনা করে নির্বাচন পরে করার অনুমতি দেবে।’

কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা আগামী শুক্রবার বিকেলে জরুরি সভা ডেকেছি। এই সভায় নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি অনুমোদন নিয়ে তারপর ফিফা ও এএফসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবো। আমাদের জরুরি সভা একটি এজেন্ডা নিয়ে। তাই পরিস্থিত বুঝে সভাটা টেলিকনফারেন্স বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও হতে পারে। কারণ, সভা হলে ২৫-৩০ জন মানুষের সমাগমের বিষয় আছে।’

নির্বাচন পেছানে সেটা কতদিনের জন্য হতে পারে? জবাবে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘সেটা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে ফিফা ও এএফসির। তারা কোনো সিদ্ধান্ত দিলে সেভাবেই দেবে।’

২০ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করতে বদ্ধ পরিকর ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গত শনিবার নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশন প্রথম সভা করে আগামী ৩ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে; কিন্তু সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাফুফের নির্বাচন।

একদিন আগেও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগ বলেছিলেন, তারা ২০ এপ্রিল নির্বাচনের দিন ধরেই সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে একদিন পর সরকার অফিস বন্ধ ঘোষণা করায় বাফুফেকে এখন নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। বাফুফের নির্বাচন ২০ এপ্রিল হবে নাকি, স্থগিত হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাহী কমিটির। যে কারণে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন আগামী ২৭ মার্চ শুক্রবার জরুরি সভা ডেকেছেন।

আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে বাফুফের বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ। ফিফা ও এএফসির নির্দেশনা আছে ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার। এখন করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হবে নাকি পিছিয়ে নতুন তারিখ দেয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফের নির্বাহী কমিটি। ওই সভাতেই নির্ধারণ হবে বাফুফের নির্বাচনের ভাগ্য। তবে নির্বাচন পেছানোর চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে হবে ফিফা ও এএফসি থেকে।

টানা তিন মেয়াদে বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। চতুর্থবারের মতো তিনি এই পদে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যেতে পারে এই কমিটিরই সহসভাপতি বাদল রায়কে। এর আগে দুই বছরের অধিক সময় সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রচারণা চালালেও কিছুদিন আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন। তারপরই বাদল রায় ঘোষণা দেন, কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন প্রার্থী না থাকলে তিনি নিজেই দাঁড়াবেন।