ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দা কিংবা বাড়ির ছাদে অনেকেই গড়ে তুলেছেন শখের বাগান। বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড়, ফুল-ফল, ভেষজ গাছের সমারোহ থাকে সে বাগানে।

গাছদের নিয়মিত পরিচর্যার একটি বড় অংশ হল সার। নিয়মিত পানি দেওয়া, আলো ও ছায়ায় নিয়ম মেনে রাখা, আগাছা পরিষ্কার করা, মাটি আলগা করে দেওয়াসহ অন্যান্য সকল যত্নের সাথে গাছদের পরিপূর্ণ পুষ্টি ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন হয় সারের।

সাধারণত বিভিন্ন নার্সারিতেও পাওয়া যায় গাছদের জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় সারের খোঁজ। কিন্তু সঙ্গরোধে থাকাকালীন সময়ে একদিকে যেমন নার্সারিতে যাওয়া সম্ভব নয়, অন্যদিকে নার্সারি খোলা থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে খুব কম।

এ সময়ে সারের প্রয়োজন মেটাবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের ফেলনা অংশগুলো। অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস দিয়ে খুব সহজে ঘরেই তৈরি করে নেওয়া সম্ভব উপকারি সার।

ঘরে সার তৈরি করতে কী লাগবে?

আগেই বলা হয়েছে, ঘরে সার তৈরি করতে আলাদাভাবে কোন বাড়তি জিনিসের প্রয়োজন হবে না। প্রতিদিনের খাদ্যের উচ্ছিষ্ট অংশ থেকেই সার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের খোসা, সবজির খোসা, ডিমের খোসা, ঘাস ও গাছের ঝরে যাওয়া পাতা, গাছের শুকনো পাতা, গাছের ডাল, ছেঁড়া খবরের কাগজ ও কফি গুঁড়া প্রয়োজন হবে।

কীভাবে তৈরি করতে হবে?

বড় ও গভীর একটি পাত্রে প্রতিদিন উপোরক্ত জিনিসগুলো অল্প অল্প করে জড়ো করতে হবে। তবে সার তৈরি উদ্দেশ্যে উচ্ছিষ্ট অংশ জড়ো করার আগে প্রতিটি জিনিস যথাসম্ভব ছোট করে কেটে ও গুঁড়া করে নিতে হবে। মোটামুটি পাঁচ ইঞ্চি পরিমাণ জিনিস জমলে এতে পানি দিতে হবে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ পানি দিতে হবে, যেন জিনিসগুলো আর্দ্রতাপূর্ণ থাকে। খুব বেশি পানি একবারে কখনই দেওয়া যাবে না এবং পাত্রসহ জিনিসগুলো গরম ও উষ্ণ স্থানে রাখতে হবে।

তিন-চার দিন পরপর নাড়ানি দিয়ে পাত্রের ভেতরের জিনিসগুলো উল্টেপাল্টে দিতে হবে এবং পানি দিতে হবে। এতে করে সকল অংশ সমানভাবে পানি পাবে ও নরম হবে। এভাবে অন্তত ১০-১৫ দিন যাওয়ার পর গাছে ব্যবহারের মত উপযুক্ত হবে তৈরিকৃত সার।

সার তৈরিতে সবকিছু ব্যবহার করা যাবে?

ঘরোয়া এই সার তৈরিতে উপরে উল্লেখিত জিনিসগুলো ব্যবহার সবচেয়ে ভালো ও উপযুক্ত। অনেকেই এর সাথে পেঁয়াজ ও রসুনের খোসাও ব্যবহার করেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই দুইটি খোসা ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এছাড়া কিছু উপাদান একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। যেকোন ধরনের উচ্ছিষ্ট মাংস, ফ্যাট, রান্নার ঝোল, রোগবাহী গাছের কোন অংশ, গৃহপালিত প্রাণীর মল, দুগ্ধজাত কোন খাদ্যাংস ইত্যাদি।