করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কিছু শব্দ এখন শোনা যাচ্ছে মানুষের মুখে মুখে। যেমন- কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন বা লকডাউন। এমন কতিপয় কঠিন শব্দই এখন হয়ে গেছে অতি পরিচিত। মূলত করোনার কারণেই এত বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে শব্দগুলো।

আর এর যথাযথ প্রয়োগ করতেও ছাড়ছেন না ক্রিকেটাররা। সম্প্রতি পাকিস্তানের সাবেক লেগস্পিনার দানিশ কানেরিয়া বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাকে লকডাউন করে রেখেছে।’ নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে স্থবিরতা এবং বোর্ডের উদাসীনতা বোঝাতেই লকডাউন শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন কানেরিয়া।

এবার একই শব্দের ব্যবহার ভিন্ন এক কারণে করলেন ভারতের সাবেক মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ কাইফ। নিজের স্ত্রীকে নবম বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে কাইফ লিখেছেন, নয় বছর ধরেই স্ত্রীর সঙ্গে লকডাউন হয়ে আছেন তিনি।

স্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি আপলোড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে কাইফ লিখেছেন, ‘এর (স্ত্রী পূজা) সঙ্গে গত নয় বছর ধরেই লকডাউন আছি। শুভ বিবাহবার্ষিকী পূজা। এটাই আমার জীবনের সেরা জুটি।’

Been locked down with this one for 9 years now#HappyAnniversary, Pooja. This has been my life’s best partnership! pic.twitter.com/m6Mau0uCmJ— Mohammad Kaif (@MohammadKaif) March 25, 2020

মোহাম্মদ কাইফের ব্যাপারে জুটির প্রসঙ্গ এলেই যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমী ফিরে যান ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে। বিখ্যাত লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের দেয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৪৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত।

সেখান থেকে যুবরাজ সিংকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ১২১ রানের জুটি গড়েন কাইফ, দলকে এনে দেন জয়ের আশা। এ জুটিটিকে ধরা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি জুটি। পরে যুবরাজ ৬৯ রান করে ফিরে গেলেও, মাত্র ৭৫ বলে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেই মাঠ ছাড়েন কাইফ।

ছয় বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সন্দেহাতীতভাবেই কাইফের সেরা ম্যাচ ও ইনিংস ছিলো সেটি। ২০০৬ সালে সবশেষা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কাইফ। এর আগে ১৩ টেস্টে ১ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৬২৪ এবং ১২৫ ওয়ানডেতে ২ সেঞ্চুরি ও ১৭ ফিফটির সাহায্যে ২৭৫৩ রান করেছেন এ ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার।