বেশিরভাগ শিশুর বাবা-মায়েদের একটি কমন অভিযোগ থাকে- কোন খাবারই খেতে চায় না শিশু। খাবার খাওয়াতে হয় জোর করে, অনেক সময় নিয়ে, মন ভুলিয়ে।

সঙ্গরোধে থাকাকালীন এ সময়ে শিশুদের খাবার না খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে আরও বেশি। ঘরের মাঝে লম্বা সময়ের জন্য থাকা, বাইরে বের না হওয়া, খুব বেশি ছোটাছুটি করতে না পারার জন্য ক্ষুধাভাব কমে যেতে পারে আগের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে।

কিন্তু পরিস্থিত যেটাই হোক আর শিশুরা খাবার খেতে যতই অনীহা প্রকাশ করুক না কেন, নিয়ম অনুযায়ী খাবার তাদের খাওয়াতে হবেই। কিন্তু কীভাবে সেটা করা যাবে সহজে সেটাই তুলে আনা হয়েছে আজকের ফিচারে।

খাবার হোক রঙিন

শিশুরা বর্ণীল ও রঙিন জিনিস পছন্দ করে। হোক সেটা খেলনা কিংবা খাবার। রেস্টুরেন্টে গেলে বিভিন্ন রঙয়ের খাবার দেখেই তারা সেটা খাওয়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই শিশুদের জন্য আলাদা রান্না করা হোক কিংবা বাসার সবার সাথে একসাথে, চেষ্টা করতে হবে খাবারগুলো বর্ণীল রাখা এবং রঙিনভাবে খাবারের প্লেট সাজানোর জন্য। এতে করে প্রতিদিনের সাধারণ খাবার হলেও তার প্রতি সহজেই শিশুরা আকৃষ্ট হবে।

রান্নার প্রক্রিয়ায় শিশুদের যুক্ত করুন

এখন যেহেতু সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, শিশুরা বাসাতেই আছে সবসময়। রান্নার প্রক্রিয়া তথা সবজি নির্বাচন, সবজি কাটা, সবজি পরিষ্কার করার মত সহজ বিষয়গুলোতে শিশুকে সাথে রাখুন। কোন রঙয়ের সবজিতে কী গুন রয়েছে, কোন সবজির রঙ কেন কমলা, কেন লাল কিংবা সবুজ হল এই বিষয়গুলো খেলাচ্ছলে তাদের কাছে তুলে ধরুন। গৎবাঁধা নিয়মে সবজি না কেটে বিভিন্ন জিনিসের আদলে সবজি কাটুন। এতে করে সাধারণ সবজিও দেখতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। রান্নার সময় জানান এই সবজিগুলো কেন খাওয়া প্রয়োজন। এইভাবে মাছ-মাংস, ফলসহ অন্যান্য খাবারের বিষয়ে তাদেরকে যত বেশি জানাতে পারবেন, তারা সেগুলো খাওয়ার প্রতি তত আগ্রহী হয়ে উঠবে।

পরিবেশন করুন নতুনভাবে

বেশিরভাগ শিশুরাই ফল খেতে চায় না একদম। জোর করেও তাদের মুখে ফল তোলা সম্ভব হয় না। কিন্তু জোর না করে একটু কৌশল অবলম্বন করলেই তাঁরা সহজেই ফলসহ অন্যান্য খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে ও খেতে চাইবে। ইন্টারনেটে ফল পরিবেশনের বিভিন্ন সুন্দর ও সহজ ছবি রয়েছে। যেগুলো শিশুদেরকে দেখান ও গল্পের মত করে তার বিবরণ দিন। এরপর কয়েক ধরনের ফল দিয়ে ছবির মত করে ফল পরিবেশনের চেষ্টা করুন। দেখবেন শিশুরা নিজ থেকেই খাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে।

একসাথে খেতে বসুন

মায়েরা সাধারণত শিশুদের খাবার খাইয়ে এরপর নিজেরা খেতে বসেন। এই নিয়মের থেকে বের হয়ে এসে বাসার সবার সাথে শিশুদেরও খেতে বসাতে হবে। দেড়-দুই বছর হলেই পরিবারের সবার সাথে খাবার টেবিলে শিশুদের বসানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তার সামনে প্লেটে অল্প পরিমানে সকল খাবার পরিবেশন করতে হবে। এতে করে পরিবারের সবাইকে খাবার খেতে দেখে শিশুও খেতে চাইবে।