অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। করোনাভাইরাস কবে নির্মূল হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, খেলাধুলাই বা কবে মাঠে গড়াবে, আবার কবে মুখরিত হয়ে উঠবে ক্রীড়াঙ্গন- এসব কিছুই অনিশ্চিত। ঘরোয়া খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। বিশেষ করে বিগ বাজেটের ক্লাবগুলোর মাথায় হাত- লিগ স্থগিত দীর্ঘায়িত হলে তাদের বিপাকে পড়তে হবে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ১৩টি। সব ক্লাব মিলিয়ে মোট বিদেশি ফুটবলার ষাটজনের বেশি। সিংহভাগ ক্লাবেরই আছে বিদেশি কোচ। খেলোয়াড়, কোচ, ট্রেনার মিলিয়ে সত্তর জনের বেশি বিদেশি আছেন ক্লাবগুলোতে।

কেবল বিদেশিদের নিয়েই নয়, স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়েও দুশ্চিন্তায় ক্লাবগুলো। দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ থাকলে ফুটবলারদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেয়ার পক্ষে নয় ক্লাবগুলো। তাই এ পরিস্থিতিতে কি করা যায় তা নিয়ে ক্লাবকর্মকর্তারা যেমন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন, তেমন আলোচনা করছেন বাফুফের সাথে। ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিকল্প পথের সন্ধানে নেমেছে ক্লাবগুলো।

কি হতে পারে সেই বিকল্প পথ? গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান জাগো নিউজকে জানালেন,‘আমরা এ নিয়ে বাফুফের সঙ্গে কথা বলবো। ফিফা ও এএফসির কি গাইডলাইন আছে তাও দেখবো। কারণ, পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ নতুন। একেবারেই অনিশ্চিত যে, আবার কবে খেলা শুরু হবে। আমাদের বিদেশি ও স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য। এমন যদি হয় যে, খেলা যখন শুরু হবে তখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ? তখন কি করবো আমরা? এসব নিয়ে আমরা ফিফার নির্দেশনা দেখবো, বাফুফেরও নির্দেশনা দেখবো।’

ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান তো বিকল্প একটা পথের কথা বলেই দিলেন। সেটা হলো মার্চের পর থেকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি স্থগিত করে বেতনও স্থগিত করা। আবার যখন খেলা শুরু হবে তখন তাদের বেতন দেয়া শুরু করা যেতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে ক্লাবকর্মকর্তারা নাকি ফুটবলারদের সঙ্গে কথাও বছেলেন। সার্বিক বিবেচনায় ফুটবলাররাও এ সমাধানে রাজি বলে দাবি করেছেন আমের খান। সাবেক এ ফুটবলার মনে করেন, সবকিছুই হতে হবে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে।