অসুস্থ ও শয্যাশায়ী মাকে দেখতে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই কয়েকদিন আগে কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়ি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। মাকে দেখে অল্প কিছুদিন বাড়িতে থেকে আবার ফিরে এসেছেন ঢাকায়।

কিন্তু হায়! সেটাই শেষ দেখা হয়ে রইল মমতাময়ী মায়ের সঙ্গে। গর্ভধারিণী মা জননীর সঙ্গে আর দেখা হবে না জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়কের। রাজধানী ঢাকায় বসে পেলেন পরম দুঃসংবাদ।

আজ (শনিবার) দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন হাবিবুল বাশারের মা রিজিয়া বেগম (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।

পিতাকে হারিয়েছিলেন আগেই। মেজ ভাই সাবেক নামি ফুটবলার এবং ঢাকা মোহামেডানের এক সময়ের গোলকিপার একরামুল বাশার তুহিনও দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগে ইহলোক ত্যাগ করেছেন কয়েক বছর আগে।

অসুস্থ মা’ই ছিলেন হাবিবুল বাশারের বড় অবলম্বন। তাকে দেখতে মাঝে মধ্যে কর্মব্যস্ততার ভেতরেও কুষ্টিয়া ছুটে যেতেন জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার। কিন্তু আজকের পর থেকে বাড়িতে গেলেও মাকে আর পাবেন না তিনি।

তার আরেক বড় ভাই, ক্রিকেট কোচ এমদাদুল বাশার রিপন জানিয়েছেন, ‘মা কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে শরীরটা বেশি খারাপ হয়ে যায়। আজ (শনিবার) দুপুর ১টার অল্প সময় পরে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।’

হাবিবুল বাশার জানান, তিনি গত ২২ মার্চ অসুস্থ মাকে দেখে কুষ্টিয়া থেকে রাজধানী ঢাকা ফিরেছেন। বর্তমান করোনাভাইরাস আতঙ্কে মা’কে শেষবার দেখতে যাওয়ার জন্য মনটা আকুল হয়ে আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আত্মীয়-পরিজনদের বেশিরভাগই যেতে না করছেন।

এখন হাবিবুল বাশার নিজেই বুঝে উঠতে পারছেন না কী করবেন? মাকে শেষবার চোখের দেখা দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। ওদিকে করেনাও মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে মাঝে দাঁড়িয়েছে। এখন কী করবেন? কুষ্টিয়া যাবেন নাকি না ঢাকার বাসায় বসেই মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন- এ নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন হাবিবুল বাশার।