খেলোয়াড়ি জীবনে তাকে ফাঁকি দিয়ে যাওয়া ছিলো স্ট্রাইকারদের জন্য অন্যতম কষ্টের কাজ। রাইট ব্যাক পজিশনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখতে রুখতে রীতিমতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার বনে গিয়েছিলেন পেরুর নলবার্তো সোলানো।

কিন্তু খেলা ছাড়ার পর এখন তিনিই ধরা পড়ে গেলেন পুলিশের হাতে। অবশ্য ফাঁকি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাও ছিলো না পেরুর এ কিংবদন্তি ফুটবলারের। ভুলবশত লকডাউন ভঙ্গ করায় গ্রেফতার হয়েছেন সোলানো।

করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের অনেক দেশের মতোই পেরুতেও ঘোষণা করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন। নিয়ম করা হয়েছে রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না কেউই। কিন্ত এরই মাঝে প্রতিবেশীর আমন্ত্রণে সাড়া দিতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন সোলানো।

নিয়মানুযায়ী তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে আটকে রাখা হয়নি দেশের কিংবদন্তি ফুটবলারকে। তবে সোলানো দাবি করেছেন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং বাড়ির বাইরে বের হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতেই পুলিশ স্টেশনে গিয়েছিলেন তিনি। যা শেষে ফিরে এসেছেন বাড়িতে।

এ বিষয়ে সোলানো বলেন, ‘যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি সবসময় নিজেকে সেরা উপায়েই নিয়ন্ত্রণ করি। আমি যেখানে গিয়েছিলাম সেটা কোনো পার্টি ছিল না। প্রতিবেশীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াত ছিলো, যেখানে মাত্র ৫-৬ জন মানুষ ছিলাম। কিন্তু এটি দীর্ঘক্ষণ চলায় দেরি হয়ে যায়।’

তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন সোলানো। সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচেতন হতে, ‘আমি সত্যিই এই ঘটনায় অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমি এ ঘটনায় নিজের পক্ষে যুক্তি দেবো না। বর্তমান পরিস্থিতি সবার জন্যই অনেক কঠিন। তবে স্বাস্থ্যই সবার আগে আসা উচিৎ।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত ক্লাব ফুটবলে ৫৫৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে নিউক্যাসল ইউনাইটেড, অ্যাস্টন ভিলা এবং ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের হয়ে সেরা সময় কেটেছে তার। এছাড়া নিজ দেশের হয়ে ৯৫টি ম্যাচ খেলেছেন সোলানো।