বিশ্বব্যাপী বিরাজ করছে করোনা আতঙ্ক। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৪৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ। এরই মধ্যে বন্ধ হয়েছে স্কুল-কলেজ, সিনেমা হল, নাটক সিনেমার শুটিং। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৫ জন। করোনা প্রতিরোধে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়ছে। বন্ধ করা হয়েছে যোগাযোগ ব্যাবস্থা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে সুন্দরবনে চলছে আবু রায়হান জুয়েল পরিচালিত ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিং। গত ১৪ মার্চ থেকে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সিয়াম আহমেদ, পরীমনি, তানভীর। তাদের সঙ্গে ছবিটিতে ১৪ জন শিশুশিল্পীসহ রয়েছে ৫০ জনের সিনেমা ইউনিট। কথা ছিল টানা ২৫ দিন শুটিং করে তবেই ফিরবেন। কিন্তু করোনার কারণে অবশেষে পুরো শুটিং ইউনিট আটকা পড়েছে সুন্দরবনে।

দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে শুটিং থেকে ঢাকায় ফিরতে পারছেন না বলে জানান ছবিটির নায়ক সিয়াম। শনিবার এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বলতে গেলে আমরা ফেঁসে গেছি। দেশের পরিস্থিতিতে সবাই যেমন বাসায় বন্দি রয়েছে তেমনি আমরাও লঞ্চে বন্দি আছি।’

সিয়াম আরও বলেন, ‘আমরা এখনও খুলনায় আছি। ফেরার চেষ্টা করছি। এখন নৌপথ বন্ধ, ফেরা যাচ্ছে না। যদি কোন ব্যবস্থা হয় তাহলে আমরা শিগগিরই ফিরবো। বাসায় যেতে পারছি না কারণ সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনেকে অনেক কথা বলেছেন তবে ব্যপারটি আসলে এমন না যে আমরা ইচ্ছা করে এখনও শুটিং করছি। সত্যিই আমরা আটকে গেছি। আমরা ১৪ দিন ধরে শুধু এই লঞ্চের মধ্যেই রয়েছি। তারপরও সতর্ক থাকছি প্রতি মুহূর্তে। আমাদের এখানে নতুন কেউ আসেনি, আর কেউ বেরও হয়নি।’

এ সিনেমায় জুটি বেঁধে আভিনয় করছেন সিয়াম-পরীমনি। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন—শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, মুনিরা মিঠু, কচি খন্দকার, আশিষ খন্দকারসহ ১৮ জন শিশুশিল্পী। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে এটি।

প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এটি। প্রথমে চলচ্চিত্রটির নাম ছিল ‘নসু ডাকাত কুপোকাত’ পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন।