কলকাতার বেহালার এক অভিজাত ফ্লাটে থাকেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। গতবছর নভেম্বরের কথা। রাস্তার অসুস্থ কয়েকটি কুকুরদের নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে তার কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের কাছে চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন।

সে একেবারে হুলস্থূল কাণ্ড! অনেক কথা শুনতে হয়েছিলো তাকে। এবার শুধু কথায় নয়, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে থামায় মামলা করে দিয়েছেন তার প্রতিবেশিরা।

কারণ দেশে জাতীয় লকডাউন চলা সত্ত্বেও শ্রীলেখা ঘরের বাইরে গিয়েছেন, কুকুরদের সংস্পর্শে গিয়েছেন।

শ্রীলেখা যে বরাবরই কুকুর ভালবাসেন সেকথা অবশ্য কারও অজানা নয়। লকডাউন পরিস্থিতিতে ওদের খাবার জুটবে কোথা থেকে সে চিন্তায় তার কপালে ভাঁজ পড়েছিল। অতঃপর তাদের খাদ্যসংস্থানের ভার নিজের কাঁধেই তুলে নেন অভিনেত্রী। আশেপাশের বেশ কয়েকটি কুকুরের খাবার দিয়েছেন।

নিজের খাদ্যতালিকা থেকে প্রাতঃরাশ বাদ দিয়েছেন। নিজে নুডলস খেয়ে থাকছেন। কিন্তু রাস্তার কুকুররা যাতে অভুক্ত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখেছেন। রাস্তার কুকুরদের খাওয়াতে গিয়েই বেজায় বিপাকে পড়লেন তিনি।

পোশাকের জন্য আবাসনের বাসিন্দাদের কাছে কদর্য মন্তব্য শুনতে হল তাকে। ‘কেন হাফপ্যান্ট পরে রাস্তায় কুকুরদের খাওয়াতে গিয়েছিলেন?’ প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবেশিরা। এমনকী পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছেন তারা।

এখানেই শেষ নয়। শ্রীলেখা মিত্র ভারতীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, গতকাল একটি ফেসবুক ভিডিওর জন্যও তার দিকে ধেয়ে এসেছে অজস্র কটু মন্তব্য! সেই ভিডিওতে অভিনেত্রীকে হাতে একটি ছুঁড়ি নিয়ে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘দেখি এবার আমাকে কে বাঁধা দিতে আসে! বাঁধা দিতে এলে ম্যায় উসকা খুন পি জায়ুঙ্গি…।’ আর তাতেই বাঁধে গোলমাল। হাতে ছুঁড়ি নিয়ে কেন তিনি এরকম বলবেন? প্রশ্ন তুলে আবাসনের বাসিন্দারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এপ্রসঙ্গে শ্রীলেখা বলেন, ‘নিছক মজার একটা ভিডিওকে ওরা হুমকি বলে ভেবে নিল! পুলিশ ইতিমধ্যেই এসে আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীকে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন যাতে, রাস্তার কুকুরদের ঢুকতে না দেওয়া হয়। আমি কাদের মাঝে বসবাস করছি? অবাক হচ্ছি।’