করোনাভাইরাস: সামাজিক দূরত্ব কেন ও কীভাবে বজায় রাখবেন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দুটি করণীয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একটি হলো নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। দ্বিতীয়টি হলো সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়া। এর একটা উপায় হলো বাড়িতে থাকা, যতটা সম্ভব বাইরে না বেরুনো। আর যদি বেরুতেই হয় তাহলে অন্য মানুষদের চাইতে অন্তত দুই মিটার বা ৬ ফিট দূরে থাকা।

কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, ঠিক এই দুই মিটার দূরত্বে থাকার কথাই কেন বলছেন বিশেষজ্ঞরা? কারণ হলো, লোকের হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে আপনার দেহে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায় – যদি আপনি কমপক্ষে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে পারেন।

কীভাবে তা সম্ভব তারও ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দুটি প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর এবং ঘন ঘন শুকনো কাশি। বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে হাঁচি-কাশির সাথে একজন মানুষের মুখ দিয়ে সবেগে বেরিয়ে আসে অগণিত পানির বিন্দু মিশ্রিত বাতাস – যে বাতাসটা আসছে ফুসফুস থেকে। আর করোনাভাইরাস বাসা বাঁধে তার শরীরের আর কোথাও নয়, এই ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রেই।

সুতরাং যদি এই কাশি দেয়া লোকটি ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়ে থাকেন – তাহলে জানবেন, তার প্রতিটি কাশির সাথে বাতাসে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য করোনাভাইরাস। এবং এই ভাইরাসের বাহন হলো কাশির সাথে বেরিয়ে আসা অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দুগুলোই – যাকে ইংরেজিতে বলে ড্রপলেটস।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানী নাতালি ম্যাকডারমট বলছেন, কেউ যখন হাঁচি কাশি দিচ্ছে তখন এই ড্রপলেটসগুলোর বেশিরভাগই দু মিটারের বেশি যেতে পারে না। দু-চারটা অবশ্যই যায়, কিন্তু ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হয় – যদি আপনি ড্রপলেটসগুলোর দু’ মিটারের মধ্যে থাকেন।