প্রাণঘাতী করোনায় বিশ্বে ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। তবে করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। আর এসব মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার লাশের দাফন করা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মেনেই কাজ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর।

আরো পড়ুন : করোনা ঠেকাতে গোলমরিচ-আদা- কালোজিরা খাওয়ার ধুম

তবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির লাশ দাফনে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্ত এসব রোগীকে ধর্মীয় বিধি মোতাবেক লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞরা কোনো ঝুঁকি দেখছেন না।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে বা এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে অবশ্যই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলার সিভিল সার্জন অথবা সরাসরি আইইডিসিআরে অবহিত করতে হবে।

আইইডিসিআর নিজেদের ব্যবস্থাপনায় লাশের গোসল থেকে শুরু করে প্যাকেট করা এবং পরিবহনের ব্যবস্থাও করে থাকে।

আইইডিসিআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর জানান, কোনো ব্যক্তি যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তা হলে ধর্মীয় বিধি মেনে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। দাফনের আগ পর্যন্ত পুরো সময়টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আইইডিসিআরের প্রশিক্ষিত লোকজনই লাশের গোসল করিয়ে কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে বিশেষভাবে প্যাকেট করবে। যেন ভেতরের কোনো ভাইরাস বাইরে সংক্রমিত না হয়। আর মৃতদেহ বহনকারী ব্যাগটি কাউকে খুলতে দেয়া হবে না।

আরো পড়ুন : করোনাভাইরাস: প্রবীণদের নিরাপদ রাখতে করণীয়

এর পর লাশটি একটি সিল করা বাক্স বা কফিনে করে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দাফন করতে হবে।

লাশ যারা দাফন করবেন, তাদের বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার কথা উল্লেখ করে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, লাশ দাফনের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবেন, তাদের প্রত্যেক প্রতিরোধমূলক পোশাক পিপিই পরিধান করতে হবে।

লাশ দাফনের পর ভাইরাস সংক্রমণের কোনো সুযোগ থাকে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কবরের আশপাশের মাটি বা পাশে কোনো জলাশয় থাকলেও এই ভাইরাস সংক্রমণ হবে না।

আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা এর পরও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কবরের চারদিকে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দেন। তিনি জানান, শুধু দাফনই শেষ কথা নয়। দাফনের আগ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি যে ঘরে ছিলেন, যেখানে গোসল করানো হয়েছে, যে গাড়িতে তাকে তোলা হয়েছে এবং যেসব জায়গায় লাশ রাখা হয়েছে– সব জায়গা জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

লাশ দাফন হয়ে গেলে বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো ঝুঁকি থাকে না। ঝুঁকি যা থাকে সেটি কবর দেয়ার আগে। তাই লাশ দাফনের সময় ভিড় না করে জানাজার সময় অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানান এই আইইডিসিআরের কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা