প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এড়াতে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব ব্যাপারটা আসলে কী?

এটা হলো নিজের বাসায় থাকা, ভিড়ে না যাওয়া, একজন অপরজনকে স্পর্শ না করা ইত্যাদি।

* তাহলে কী আমি বাজার করতে যেতে পারব?

হ্যাঁ। অবশ্যই আপনি নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বাজারে যেতে পারেন। তবে কম যাবেন। তাও আবার তখন যাবেন, যখন কম লোক থাকে বাজারে। সেখানে যাবেন, যেখানে কম ভিড় থাকে। ভিড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

তবে বাজার থেকে বের হয়েই হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এসেই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন। বাজার থেকে আনা তরকারি ফলও ধুয়ে নেবেন। এ ক্ষেত্রে খাবার কিনে মজুত করবেন না। কারণ খাদ্যশস্য কম পড়ার কোনো কারণ ঘটেনি।

* এই সময়ে আমি কী খাবার অর্ডার দিয়ে বাসায় এনে খেতে পারব?

অবশ্যই। খাদ্য থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কথা এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। তবে যে প্যাকেটে খাবার আনা হবে, সেটা ধরার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। আর কাঁচা সালাদ-ফল বাইরে থেকে নিশ্চয়ই আনাবেন না। আর যিনি খাবার নিয়ে আসবেন, তাকে বলবেন খাবার দরজার বাইরে রেখে দিতে। দাম ও টিপস দেবেন অনলাইনে।

* করোনার ঝুঁকির মাঝে গণপরিবহন (বাস-ট্রেন ইত্যাদি) ব্যবহার করা যাবে?

যদি সম্ভব হয় গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। তা না হলে সঙ্গে করে স্যানিটাইজার নিয়ে যান। হাতল ধরার পরেই হাত পরিষ্কার করুন। আর নামার সঙ্গে সঙ্গে হাত পরিষ্কার করুন। অবশ্যই মাস্ক ছাড়া বাইরে যাবেন না।

* অফিস তো ছুটি দিচ্ছে না, কী করব?

যতটা সম্ভব সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করুন। দরকার হলে, মাস্ক ব্যবহার করুন।

* আমি কি সব জায়গায় যেতে পারব?

আপনি যতটা পারেন, বাসায় থাকুন। হাসপাতালে, বাজারসদাই করতে যেতে হতেই পারে। সিনেমা, থিয়েটার, প্রার্থনাগৃহ, জাদুঘর—সব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব জায়গায় ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। এখন না।

* আমি কি ভ্রমণ করতে পারব?

না। আপনার এখন ভ্রমণ, দেশের ভেতরে বা বাইরে, করা নিষেধ। বাস, ট্রেন, প্লেন, জাহাজ, লঞ্চ লোকে ভরা থাকে। তবে যাঁদের কাজই ভ্রমণসংক্রান্ত, যেমন এয়ারলাইনসের ক্রু, ট্রেনের চালক, তাদের কথা আলাদা।

* আমি কি মাস্ক পরে থাকব?

সম্ভবত নয়। মাস্ক রোগীদের হাঁচি–কাশির ছিটা বাইরে যেতে দেয় না। কিন্তু বাইরের ভাইরাস আপনার নাকেমুখে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। তবে আপনার নিজের হাঁচি–কাশি থাকলে বাইরে বের হবেন না।

* আমি কি ব্যায়াম করব?

হ্যাঁ। ঘরে বা ঘরের বাইরের ফাঁকা জায়গায়। কিন্তু জিমে নয়।

* আমি কি চিকিৎসকের কাছে যেতে পারব?

খুব বেশি দরকার না হলে নয়। করোনাভাইরাস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করবেন।

* রোগী দেখতে যাব?

না।

* আমি কি প্রবীণ স্বজন-পরিজনদের দেখতে যাব?

না। ফোনে খোঁজ-খবর নিন। তবে বাজারসদাই লাগলে সাহায্য করুন।

* আমার বন্ধুরা কি আমার কাছে আসতে পারবে?

না। ফোনে কথা বলুন। প্রয়োজনে ভিডিও চ্যাট করুন।

* বাচ্চারা কি খেলতে পারবে?

বাইরে একা একা? হ্যাঁ। অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে? না। বাইরের বাচ্চাদের সঙ্গে নয়। কারণ, তারা পরস্পরকে ধরে ফেলবে। হাত ধোয়ার নিয়ম ভুলে যেতে পারে। স্লাইড ইত্যাদি কারও সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই পার্কেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।

* আমি কি আমার সন্তানের কাছে যেতে পারব?

হ্যাঁ। সাধারণভাবে পারবেন। তবে যদি আপনি মনে করেন দু-জনের একজন এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আছে, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখুন।

* আমার রুমমেট হাসপাতালে চাকরি করেন। আমি কি তার থেকে দূরে থাকব?

হ্যাঁ।

* কত দিন এই রকম সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করতে হবে?

কমপক্ষে পাঁচ মাস। তবে পরে আবারও করতে হতে পারে। এটা একেবারে সেরে যাবে না সহসা। ঢেউয়ের মতো আসতে থাকবে।