করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফোন করে বিদেশ ফেরতদের ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও সেনা সদস্যরা সরাসরি বিদেশ ফেরতদের বাড়ি গিয়েও এ অনুরোধ করছেন।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য মাঠে নামে সশস্ত্রবাহিনী। ওইদিন সারাদেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে ডিসিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন সেনা কর্মকর্তারা। পরদিন ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশে কাজ শুরু করে সশস্ত্রবাহিনী।

এরপর থেকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং মানুষকে ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে মাইকিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রচারণা চালান তারা। একইসঙ্গে তারা করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে স্থানীয়দের বিভিন্ন লিফলেট বিতরণসহ স্থানীয় ঈমামদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে জীবাণুনাশক সাবান ও মাস্ক, চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

বিদেশ ফেরতদের ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য ফোন করার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া ডাটাবেজ থেকে বিদেশ ফেরতদের ফোনে এবং কোথাও কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ফুল দিয়ে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টিন মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনীর এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।