খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে খুব বেশি লাল কার্ড দেখেননি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে শেষবার যখন দেখেছেন, তখন তাকে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বাইরেও পেতে হয়েছে বাড়তি শাস্তি। যদিও সেটা গুরুতর কিছু নয়, বরং জুভেন্টাস ক্লাবের নিজেদের করা একটি রীতি।

ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে খেলতে নেমে গত মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন রোনালদো। যার ফলে তাকে বাইরে থাকতে হয় এক ম্যাচের জন্য। একইসঙ্গে নিজ দলের বাকি খেলোয়াড়দের কিনে দিতে হয়েছে দামী উপহার।

জুভেন্টাসের সাবেক কোচ ম্যাক্সিমিলানো অ্যালেগ্রি নিয়ম করে রেখেছেন, যদি দলের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন, তাহলে সেই খেলোয়াড় দলের অন্যান্যদের জন্য উপহার কিনতে বাধ্য হবেন। সাবেক কোচের এ নিয়ম জানতেন না রোনালদো।

এছাড়া তার মতে, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে দেখা লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটিও ছিলো ভুল। ফলে প্রায় দুই মাস ঘুরানোর পর শাস্তিস্বরুপ উপহার কিনে দিতে রাজি হন রোনালদো। সেটিও যেনতেন কোনো উপহার নয়, দলের সবাইকে বিখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাপলের আই-ম্যাক উপহার দিয়েছিলেন রোনালদো।

প্রায় বছরখানেকবাদে এ ঘটনার কথা জানিয়েছেন জুভেন্টাসের গোলরক্ষক ওজসিয়েচ সেজনি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ! আমরা সবাই একটা করে আই-ম্যাক পেয়েছিলাম। এটার জন্য অনেক সময় লেগেছিল, কারণ ও (রোনালদো) বারবার বোঝাতে চাচ্ছিল যে লাল কার্ডে কোনো দোষ ছিলো না। এতে সময় লেগেছিল, তবে দুই মাস পরে হলেও আমরা সবাই আই-ম্যাক পেয়েছিলাম।’

শুধু রোনালদো একাই নয়। দলের সবাইকে উপহার কিনে দিয়েছিলেন সেজনি নিজেও। তবে সেটি আবার লাল কার্ড দেখায় নয়, বরং দলের নিয়ম ভাঙায়। একদিন অনুশীলনে দেরি করেছিলেন সেজনি। আর সে কারণেই বাকি সবাইকে হেডফোন কিনে দিতে হয়েছিল সেজনিকে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম দিনটা হয়তো মঙ্গলবার। তাই আমি অনুশীলনের জন্য বের হইনি। কিন্তু দিনটি ছিলো বুধবার। অ্যালেগ্রি আমাকে কল করে অনুশীলনে নিল, গিয়ে দেখি সবাই চলে এসেছে এবং আমি ত্রিশ মিনিট দেরি করে ফেলেছি। তখন সঙ্গে সঙ্গে বাকিরা বলতে শুরু করলো যে, এবার ওরা উপহার পাবে। শেষপর্যন্ত সবাইকে হেডফোন কিনে দিয়েছলাম আমি।’