করোনাভাইরাসের হাত থেকে নিজেকে ও পরিবারের সকলকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হল সঙ্গরোধে (কোয়ারেন্টাইন) থাকা। এর সাথেই আসবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার মত অন্যান্য বিষয়গুলো।

সঙ্গরোধে থাকাকালীন সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখাটা খুবই জরুরি। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ এর হাত থেকেই নয়, অন্যান্য ফ্লুজনিত সমস্যা থেকেও নিজেকে সুস্থ রাখা বেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুন : সাবধান: চিনি ছাড়াও ছয় খাবার ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়

এ সময়ে নিয়মিত উপকারী উষ্ণ পানীয় পান সবদিক থেকেই উপকারিতা বয়ে আনবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বাড়বে, অসুস্থতা থেকে ততই দূরে থাকা সম্ভব হবে। এছাড়া দীর্ঘদিনের ঠান্ডার সমস্যাকে তাড়াতেও প্রয়োজন উষ্ণ পানীয়ের। জেনে নিন সঙ্গরোধে থাকাকালীন সময়ে কোন চারটি পানীয় পান করা যেতে পারে।

গোলমরিচ-আদা চা

উষ্ণ পানীয়ের মাঝে গোলমরিচ হয়ত এমন একটি উপাদান যা আপনি কোনভাবেই ভাবতে পারেন না। কিন্তু এই মসলাটি শুধু পানীয়ের স্বাদকে বাড়িয়ে দিবে না, সাথে বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও। অন্যদিকে উপশমকারী উপাদানের মাঝে আদাকে সবসময় উপরের দিকে রাখা হয় এর প্রদাহবিরোধী উপাদানের জন্য। যা অনেকটাই NSAIDs (Non-steroidal anti-inflammatory drugs) এর ন্যায় কাজ করে। যেকোন ধরনের ফ্লু, ঠান্ডার সমস্যা কাটাতে আদা খুবই উপকারী উপাদান।

আরো পড়ুন : অকাল মৃত্যুঝুঁকি থেকে বাঁচতে নিয়মিত হাঁটুন

হলুদ চা

চা

প্রাকৃতিক উপাদান হলুদে থাকা অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি তথা প্রদাহবিরোধী উপাদানের জন্য পুরো বিশ্ব জুড়েই রয়েছে এর পরিচিত। এতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্ব ফ্রি রেডিক্যাল অ্যাকটিভি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দৃঢ় করতে কাজ করে। হলুদে থাকা অ্যাকটিভ উপাদান কারকিউমিন হল মূলত এক ধরনের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান। হলুদ চা তৈরির জন্য গরম পানিতে আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

গ্রিন টি

চা

উপকারি বহু পানীয়ের মাঝে উপকারিতার জন্য গ্রিন টি সবার কাছেই সমাদৃত। জিরো ক্যালরি সমৃদ্ধ এই পানীয়টির একটি কিংবা দুইটি উপকারিতা সবার কাছে পরিচিত হলেও, প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেট সম্পন্ন গ্রিন টি নাসারন্ধ্রকে পরিষ্কার রাখতে খুব ভালো কাজ করে।

লেবু-মধু চা

লেবু-মধুতে তৈরি চা কে বলা হচ্ছে ‘উপশমকারী পানীয়’। এই চা শরীরকে ডিটক্স প্রভাব এনে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেয়। সাধারণভাবে কাশির সমস্যা কমাতে মধু খাওয়া হয়, কারণ এতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ঠান্ডাজনিত কাশির সমস্যা দূর করতে খুবই উপকারী। অন্যদিকে লেবুতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-সি সার্বিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে কাজ করে।