করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে ঘর থেকে না বের হওয়াটাই এখন একমাত্র সমাধান ও সুস্থ থাকার উপায়। ঘরে বসে সব মিললেও রোদ কীভাবে মিলবে? টানা এভাবে গায়ে রোদ একদমই না লাগালে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই আসবে ভিটামিন ডি এর অভাব।

ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান, এর অভাবে হাড়ের স্বাস্থ্যক্ষয় হতে পারে। ফলে কোমরে বা হাঁটুতে প্রবল ব্যথা অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে ভিটামিন ডি এর অভাবে ডিপ্রেশন বাড়ে। তার চেয়েও বড়ো সমস্যা হলো, এই ভিটামিনের অভাবে কমবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ফলে ঠান্ডা লাগবে বারবার, সর্দি-কাশিতে ভুগবেন। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না আপনার শরীর।

তবে সুবিধের দিকটা হচ্ছে, এই সমস্যার সমাধানের উপায়টাও আমাদের হাতেই আছে। আমাদের শরীর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করে নেয়। তাছাড়া মাছ, বিশেষ করে যেসব মাছে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি এবং দুধজাতীয় খাবার থেকেও তা পাওয়া যায়।

শুধু ডায়েট থেকে আপনার প্রয়োজনের সবটুকু মিলবে না। তার জন্য দরকার রোদে অন্তত কিছুটা সময় কাটানো। নানা কাজে আমরা যখন বাড়ির বাইরে যাই, তখনই সে প্রয়োজন মিটে যায়। কিন্তু ঘরবন্দি অবস্থায় তো তা সম্ভব নয়। তার উপর এখন খেতে হচ্ছে একেবারে হিসেব করে। এই পরিস্থিতিতে দিনের শুরুতে আর শেষে অবশ্যই খানিকক্ষণ খোলা জানলার ধারে বা বারান্দায় কাটান।

বয়স্কদেরও শরীরে একটু রোদ লাগাতে হবে। ঘরে রোদ না এলে ভোরে আর বিকালে ছাদে খানিক হাঁটাহাঁটি করুন। মিনিট ১৫ এমন করলেই দেখবেন বাড়তি শক্তি পাচ্ছেন, চনমনে লাগছে ভেতর থেকে, কেটে যাচ্ছে মনখারাপও। তবে এই সময়টায় সানস্ক্রিন লাগাবেন না।

যদি মনে হয়, এই রুটিন মানার পরেও খুব ক্লান্ত লাগছে বা কোনো কাজ করার উৎসাহ পাচ্ছেন না, বেজায় মন খারাপ হচ্ছে, পেশিতে ব্যথা হচ্ছে তা হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। তবে ভিটামিন ডি ফ্যাটে দ্রবীভূত হয়, তাই দুপুর বা রাতের খাবার খাওয়ার পরে খাওয়া উচিত।