করোনায় সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ। বিশ্বের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএলেরও এবারের আসরটি বাতিল হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এবারের আসর। এক দফা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে এ বছর এই টুর্নামেন্ট হবে কি না, সন্দেহ।

তবে এত লাভজনক একটি টুর্নামেন্ট কোনোমতেই বাতিল করতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। তারা চাইছে, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে এবারের আসরটি মাঠে গড়াতে। কিন্তু তখন তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকবে। কি করে সম্ভব?

হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিতের ঘোষণা আসলে সেটি সুখবরই হবে আইপিএলের জন্য। বিসিসিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানালেন, অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে যদি টি-টোয়েন্টি শুরু করা না যায়, তবে সেই সময়টায় আইপিএল আয়োজনের চেষ্টা করবেন তারা।

বিসিসিআইয়ের ওই কর্তার ভাষায়, ‘এ মুহূর্তে সীমান্ত লকডাউন করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া বলছে এটা আগামী ছয় মাস থাকতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে অবস্থা পরিবর্তন হবে হয়তো। যুক্তরাজ্যের সরকারও মহামারি ঠেকাতে একইরকম কাজ করতে পারে। আমাদের সেটাও দেখতে হবে ভারতীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়। এই অবস্থায় একমাত্র নিরাপদ সময় হলো অক্টোবর-নভেম্বর। তবে সেটাও আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি যোগ করেন, ‘তাই যদি আইসিসি এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই কেবল আমরা অক্টোবর-নভেম্বর খালি পাব। কেননা সীমান্তে প্রতিটি দেশের লকডাউন ছয় মাস চললে শেষ হবে অক্টোবরের শুরুতে। তবে সেইসঙ্গে করোনাভাইরাসের বিস্তারও থামতে হবে। সবকিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে এখানে অনেক হিসেব নিকেশ আছে।’

‘সেইসঙ্গে আইসিসির জন্য শেষ উপায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২০ থেকে ২০২২ সালে নিয়ে যাওয়া। কেননা ২০২১ সালে জায়গা খালি নেই। এই মুহূর্তে সব কিছুই অনেক দেরির ব্যাপার। তবে হ্যাঁ, অক্টোবর-নভেম্বরে আইপিএল আয়োজন নিয়ে আমরা ভাবছি। এখানে অনেক অভ্যন্তরীণ বিষয় আছে। এই ভাবনা বাস্তব হতে অনেক কিছু মিলতে হবে।’

এদিকে আইসিসির কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্থগিত করার কোনো সম্ভাবনার কথা বলেননি। তারা বারবার বলে যাচ্ছেন, সূচি অনুযায়ীই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়াবে।