প্রথমেই খটকা লাগতে পারে। মানে কি? গুগল তাহলে কিসের জন্য? সার্চ ইঞ্জিনে যদি খুঁজতেই না পারলাম তাহলে এই সার্চ ইঞ্জিনের সার্থকতা কই রইল? কিন্তু না সার্চ ইঞ্জিনে সব কিছুই সার্চ করতে হবে এমন কোন নিয়ম নীতি নেই। তবে কিছু জিনিস খোঁজা থেকে বিরত থাকাটাই মঙ্গলজনক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

১. যে বিজ্ঞাপনগুলো আপনি পপ আপে দেখতে চান না: বন্ধুর বাচ্চার ডায়াপার এলার্জির বিষয়ে আপনার কাছে হয়ত বিদঘুটে প্রশ্ন থেকেই থাকে। কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করতে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

কিন্তু যদি আপনি ভুলে একবার সার্চ করেই ফেলেন তাহলে আপনাকে আর কে বাঁচাবে! এরপর থেকে যতবারই আপনি নতুন কোন অনলাইন পেজ ওপেন করবেন ততবারই ডায়াপার র‍্যাশ নির্মূলের ওয়েন্টমেন্ট বা মলম বিজ্ঞাপন আপনার সামনে ভেসে উঠবে। কি ব্যাপার টা ভাবতে পারছেন তো?

২. বিব্রতকর বিষয়: অজানা অচেনা কিংবা নিষিদ্ধ বা বিব্রতকর বিষয়ে আমাদের সকলেরই জিজ্ঞাসা থেকে থাকে। কিন্তু আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়গুলোকে আপনার বিপক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব তাহলে এসব সম্পর্কে গুগলে সার্চ করা থেকে বিরত থাকুন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা অবাঞ্ছনীয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এসভিয়া এক্কার্ট এবং আন্দ্রেজ ডিউয়েজ এর মতে, আপনি যদি ব্রাউজিং এর পর পুরো হিস্টোরি কিংবা ইতিহাস ও মুছে দেন তারপরেও আপনি রেহাই পাবেন না। তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ জার্মান নাগরিকের ব্রাউজিং হিস্টোরি তাদের অজান্তেই সংগ্রহ করেছেন। এমনকি তাঁরা বিখ্যাত সেলিব্রেটি ও বিচারকদের প্রাইভেট ব্রাউজিং হিস্টোরিও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি আপনি কিন্তু কখনোই চাইবেন না আপনার কাজের সময়ে এসব বিষয় সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দায় ভেসে আসুক।

৩. যেসব কারণে আপনি দোষী হতে পারেন: আপনি যদি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে আইনের বিপরীতে থাকা কোন কাজ বা বিষয়ে গুগলে সার্চ না করাটাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। 

ক্রিমিনাল ডিফেন্সের একজন আইনজীবী ব্রায়ান ম্যাককোনি কিউসি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে টেলিফোনের পাশাপাশি কম্পিউটারের যাবতীয় বিষয় তথ্যও যাচাই বাছাই করা হয়’।

তিনি এও বলেন, ‘যদি আপনার খোঁজা এমন কোন বিষয় এখানে থেকে যায় তাহলে সেটা আপনাকে চরম শাস্তির বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করতে যথেষ্ট’।

৪. চর্মরোগ বা ত্বকের অবস্থা: মুখে বা গালে নতুন করে বেড়ে উঠা ব্রণের মত জিনিসটা আসলে কি? এমন জিজ্ঞাসা আমাদের সকলের মনে হরহামেশাই চলে আসে। কিন্তু এর জন্য কি আপনি গুগলের সার্চবারে যেতে চাচ্ছেন? তাহলে এখনি থেমে যান। আপনি যখন গুগলে গোলাকার লাল বৃত্তাকার বস্তু কি লিখে সার্চ করবেন তখন সেটি আপনাকে বিব্রতকর কিছু ছবি তথ্যের সামনে নিয়ে যাবে।

৫. ওয়ার্মস/ কেঁচো: আপনার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কর্মযোগ নিশ্চিতে কোন ধরণের কেঁচো বা ওয়ার্ম প্রয়োজন সে ব্যাপারে আপনার পরিষ্কার ধারণা ও তথ্য জানা থাকতে হবে। তা না হলে আপনি যখন গুগলে ওয়ার্মস লিখে সার্চ দিবেন তখন আপনি কিছু ভয়ংকর চেহারার কিংবা মুটিয়ে থাকা অদ্ভুতুড়ে কিছু ছবি ও তথ্য দেখতে পাবেন যা আপনাকে আরও অস্থির করে তুলবে।

৬. পণ্যের গুণগত মান: নিত্যদিনের ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স বস্তুর ব্যাপারে কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ এর যাচাই বাছাইয়ে আমরা সবাই ই কম-বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একে জিজ্ঞাসা করি ওকে জিজ্ঞাসা করি। ইন্টারনেট বিস্তৃত মাধ্যম। তাই একেকজনের মতামত একেকরকম হবে। এটাই স্বাভাবিক।

উদাহরণস্বরূপ: কোন কসমেটিক্স আপনার ত্বকের জন্য ভালো আর কোনটি খারাপ এ ব্যাপারে একেক পক্ষের একেক রকম মতামত থাকবে। কেউ হ্যাঁ বলবে কেউ বলবে না। এই দুই পক্ষের মতামতে আপনি বিভ্রান্তিতে পড়বেন। যদি সঠিক ও কার্যকর তথ্য জানতে চান তাহলে আপনার ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করুন এবং পণ্যের ব্যাপারে জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করাটাই ভালো।

৭. শারীরিক ভাবভঙ্গি/ বা প্রদাহের লক্ষণ: জ্বর বেশী হওয়ার কারণ কি? কেন মাথা ব্যথা করে? ব্রণ দূর করার উপায়, পেটে ব্যথার কারণ, এসব বিষয়ে গুগলে সার্চ করা থেকে বিরত থাকাটাই ইতিবাচক। কারণ এর ফলাফলে যা আসবে তা আপনাকে আরও অসুস্থ করে তুলবে। এর থেকে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো।

৮. আপনার পছন্দের জিনিস ও ক্যান্সার: ক্যান্সার মারাত্মক ব্যাধি। এবং এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত। কিন্তু আপনি জানেন কি পোষা কুকুর থাকাকেও ক্যান্সারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? হ্যাঁ এ ব্যাপারে রিসার্চও রয়েছে। যেখানে আপনার আদরের কুকুরকে এই রোগের সংক্রমণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এর জন্য আপনি আপনার পোষা কুকুরকে যে পরিত্যাগ করবেন সেটা বলা হচ্ছে না। কেন এ রোগ হয় বা কি কারণে হয় এ সংক্রান্ত তথ্য খোঁজার পরিবর্তে আপনার পাপ্স এর জন্য সুন্দর বাড়ির খোঁজ করুন। এতে আপনার আদরের বন্ধুর সুন্দর ঘরও হয়ে যাবে আর আপনিও চিন্তামুক্ত হবেন।