করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান ছুটি আরও ৭ দিন বাড়ল। আগামী ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে দুই দিন (১০ ও ১১ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়েছে। তাই ছুটি থাকছে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বুধবার (১ এপ্রিল) ৫ থেকে ৯ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ছুটির প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছুটি বাড়ানোর আদেশে বলা হয়, দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৪ মার্চ প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতায় এ ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে।

জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি প্রয়োজনেও অফিস খোলা রাখা যাবে।

প্রয়োজনে ওষুধ শিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখতে পারবে। মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে রিকশা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যাক্রমে চালু করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

করোনার কারণে দেশে টানা ১৭ দিন ছুটি থাকবে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ছুটি চলছে।

মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের ছুটিটা একটু বাড়াতে হবে। আমরা ১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম এটা ১৪ দিন হতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। ভাইরাসটি থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও একজন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ২৬ জন। আর এতে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।