বিশ্বব্যাপী নিজের ভয়াল থাবা বসিয়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস। তাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। ফলে ঘরবন্দি হাজার হাজার মানুষ। তবে বাড়িতেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছি বলে আমরা কি জামাকাপড় বদলানো বা সেগুলো নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্বটা মাথায় রাখছি? যদি তা না করে থাকি, তাহলে কিন্তু সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা।

তাদের মতে, এই সময় নিজেদের যতটা সম্ভব পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজন। শুধু দুই হাত বার বার ভালোভাবে ধুয়ে নিলেই হবে না। তার সঙ্গে নিয়মিত ভাবে জামাকাপড় বদলাতে হবে। কাচতে হবে খুব ভালোভাবে। বাইরে বেরতে হচ্ছে না বলে তেমন ধুলোবালি লাগছে না, এই ভেবে জামাকাপড় বদলানো বা কাচাকাচিতে অনীহা দেখানো মোটেই উচিত হবে না। তাহলে কিন্তু গৃহবন্দি থেকেও আমরা নিজেদেরসহ পুরো বাড়িকে করোনা ছাড়াও নানা ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারব না।

ভারতের বিশিষ্ট মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়িতে থাকলেও দিনে অন্তত দু-একবার জামাকাপড় বদলাতে হবে আমাদের। কারণ, ব্যবহৃত পোশাকে সবসময়েই নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস এসে জমে। এই পরিস্থিতিতে যা খুবই বিপজ্জনক। সারাদিনে একই জামা পড়ে থাকলে সেখান থেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়। তাছাড়া বাড়িতেও বারবার দুই হাত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা উচিত। না হলে সেই হাতে জামাকাপড়, দরজা, জানলা, টেবিল, চেয়ার ছোঁয়ার পর সেখান থেকেও আমার-আপনার তো বটেই, গৃহবন্দি হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির লোকজন সংক্রমিত হতে পারেন।’

এ কারণে চিকিৎসকরা বলছেন, রোজ আগের দিনের ব্যবহার করা সকল জামাকাপড় ভালোভাবে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে কেচে নিতে হবে। ব্যবহার করা জামাকাপড় বাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখলে চলবে না। কাচার জন্য সেগুলিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে।