দেশে দেশে ভয়াল আগ্রাসন চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। বায়ুবাহিত রোগ হলেও, মানুষের হাতের স্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। এই ভাইরাস বহনকারীর সংস্পর্শে আসলে তার হাঁচি-কাশি মাধ্যমেও নিজের অজান্তে শরীরেও প্রবেশ ঘটে করোনা ভাইরাসের।

এ জন্য মানুষের কাছ থেকে সামাজিক দূরত্ব (অন্তত ছয় ফিট) বজায় রেখে চলার নির্দেশনা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, কারও সঙ্গে হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি না করার জন্যেও। আবার অন্যদের কাছ থেকে দূরে থাকার সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাতের মাধ্যমে মুখমণ্ডলে স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। কারণ চোখ, নাক ও মুখের মেমব্রেনসের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে।

একই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চোখের কাছ থেকে হাতকে দূরে রাখার ব্যাপারেও। কিন্তু কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে চোখের সঙ্গে হাতের সংযোগ প্রয়োজন হয়। যারা নিয়মিত কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, এই সময়ে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথ্যালমোলজি (চক্ষুরোগ) ৩২ হাজার চক্ষুরোগ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শ দিচ্ছে যে, এই সময়ে শুধুমাত্র চশমার ওপরে নির্ভর করতে। কারণ কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের সময়ের হাতের ত্বকে লুকিয়ে থাকা সামান্য করোনা ভাইরাসের জীবাণুও জীবনহানীর সম্ভাবনা রাখে।

এ দিকে, যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ‘চোখ, নাক ও মুখের ভেতরে রয়েছে মিউকোসাল মেমব্রেনস, যা শরীরের ভেতরে ভাইরাস বহন করার রাস্তা হিসেবে কাজ করে। এই পথগুলোর মাধ্যমে ভাইরাস শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার পরেই বিস্তার করতে শুরু করে এবং সর্বশেষ স্তরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।’

এ ব্যাপারে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. সোনালি তুলি জানান, যারা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তাদের উচিত হবে কন্টাক্ট লেন্স সম্পূর্ণ পরিহার করা। অন্যদিকে যাদের চোখের পাওয়ারজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সংকটপূর্ণ এই সময়ে চশমা ব্যবহার করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।