ধামরাই প্রতিনিধি : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর নির্মিত ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা ও বাটা গেট সংলগ্ন দুটি তোরন ভেঙ্গে পড়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে। এতে মনির হোসেন নামে একপথচারী গুরুতর আহত হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় প্রায় এক ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। এতে উভয়পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গত ২১ মার্চ রাতে ধামরাইয়ে ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় আরেকটি তোরন থানা বাসষ্ট্যান্ডে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে একটি পিক আপভ্যানের উপর। এতে চালকের সহকারী শাহিন নামের এক ব্যক্তি আহত হয়। এ নিয়ে কালের কন্ঠের অনলাইন ভার্সনে সংবাদ ছাপা হয়। ওই সময় গোলড়া ও সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদ্বয় মহাসড়কের উপর তোরন অপসারনের ব্যবস্থা করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তা অপসারন করা হয়নি।


বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে রাজনৈতিক দলের তোরণ। এ তোরণগুলো প্রায় দুই মাস আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে নির্মিত তোরণের রশি ও ব্াঁশ পুরাতন হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে । ফলে যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়ে গেছে। শনিবার রাতে ধামরাইয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের থানা বাসষ্ট্যান্ডে একটি তোরণ ধুমড়ে-মুচড়ে একটি কাচামাল বহনের পিক আপভ্যানের আছড়ে পড়ে। এতে পিকআপ ভ্যান চালকের সহকারী শাহীন আহত হয়। তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান পথচারীসহ মহাসড়কের চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীরা। এসময় প্রায় পৌনে এক ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধামরাইয়ের ইসলামপুর থেকে বারবাড়িয়া পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা ও স্বাগতম লেখা ব্যানার সম্বলিত ইসলামপুর,বাটা গেট,থানাবাসষ্ট্যান্ড, ঢুলিভিটা, জয়পুরা, কালামপুর, বাথুলি,বারবাড়িয়া.শ্রীরামপুর এলাকায় প্রায় ১৫টি বাঁশের তোরণ দন্ডায়মান রয়েছে। এ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় দেড়-দুই মাস আগে। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে তোরণের বাঁশ ও বাধা রশি পুরাতন হয়ে নড়বড়ে হয়ে গেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ তোরনের নীচ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে যাত্রীবাহিবাসসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। এসব তোরণ অপসারণ করা না হলে যেকোন মুহুর্তে তোরণগুলি প্রাণনাশের কারন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকসহ যাত্রীরা।


বাস চালক হায়াত আলী, ট্রাক চালক তোফাজ্জল হোসেনসহ একাধিক চালকরা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে তোরণের নিচ দিয়ে প্রতিদিন যেতে হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তাদের দাবি জরুরীভিত্তিতে তোরণগুলো অসপারণ করা দরকার।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা হাইওয়ে পুলিশের। তাঁরা ইচ্ছে করলে এগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করতে পারেন।


গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ তোরণ অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল বাকী জানান, তোরন অপসারনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, যেসব নেতারা তোরণ নির্মাণ করেছে তাদেরকে গত সপ্তাহেই বলা হয়েছে অপসারণ করতে।
প্রসঙ্গ গত ৯ মার্চ কালামপুর-বালিয়া-মির্জাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মাদারপুর মিলগেট এলাকায় একটি গাছ একটি চলন্ত ইজিবাইকের ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের পাঁচ যাত্রী নিহত এবং চারজন আহত হন।