দেশে দেশে ভয়াবহ আগ্রাসন চালাচ্ছে নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। এতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এরই মধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, মহামারিতে রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণেরা। এছাড়া হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতাসহ দীর্ঘমেয়াদি যাদের রোগ রয়েছে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম, তারাও করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। একই কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)। এ জন্য সংকটপূর্ণ এই সময়ে এসব রোগীদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শরদিন্দু শেখর রায় বয়স্কদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

* বিশেষ জরুরি প্রয়োজন না পড়লে বাড়িতেই থাকা ভালো।
* সব ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।
* ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়মমতো চালিয়ে যাবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
* যেকোনো সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগী থেকে কমপক্ষে তিন ফুট (১ মিটার) দূরে থাকুন। বাড়িতে কারও জ্বর-কাশি হলে তার থেকে অবশ্যই আলাদা থাকবেন।

অন্য সতর্কতা
# সাবান-পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
# নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
# হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। রুমাল বা টিস্যু না থাকলে প্রয়োজনে কনুই দিয়ে নাক–মুখ ঢেকে নিন। তবে হাত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
# মাস্ক ব্যবহার করলে হাতের স্পর্শ নাক-মুখে লাগার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। তাই প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন।

# হৃদরোগীরা যেকোনো ধরনের শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। নিয়মিত বাড়িতে রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা মাপবেন। পাশাপাশি চিকিৎসকের সঙ্গে মুঠোফোনে বা অনলাইনে যোগাযোগ রাখবেন।