ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানসহ নানা মজার বিষয় নিয়ে নির্মাণ করা হয় জনপ্রিয় বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে প্রিয় অনুষ্ঠনটি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সারা বিশ্ব। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ জন। মারা গেছেন ৬ জন।

করোনার মোকাবেলা করতে গিয়ে ঘরে বন্দি হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। ফুরিয়ে গেছে অনেকের ঘরের খাবার। এসব মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে অনেক সংগঠন, নাটক সিনেমার শিল্পীসহ আরও অনেকেই। এবার দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ পরিবার।

রাজধানীর মিরপুর-১, ২ ও ১০, টোলারবাগ, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ধানমন্ডি লেক, এ্যালিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, হাতিরঝিল, বেগুনবাড়ি বস্তি, বাড্ডা, রামপুরা, শাহজাদপুর, কুড়িল, কালশীসহ মোট ১৫টি স্থানে অসহায়, দিনমজুর ও অসচ্ছল ২০০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে ইত্যাদি পরিবার। শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসা আরিফ-নাজমুলসহ তাদের স্বেচ্ছাসেবক দল একসঙ্গে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে চলেছে।

২ এপ্রিল ইত্যাদিতে প্রদর্শিত ফেসবুকে সেবাদানকারী মামুন বিশ্বাসের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা সদরের আলহাজ্ব সিদ্দীক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করোনাভাইরাসজনিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যথাযথভাবে ২০০টি অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে।

এর আগেই গত ৩১ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ইত্যাদি। সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেও মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছেন হানিফ সংকেত।

ইত্যাদিতে প্রদর্শিত ‘ওরা ১১ জন’ নামক প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে চারঘাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও বাঘা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং শ্রেণীকক্ষে কখনো অনুপস্থিত না থাকা কক্সবাজারের শিক্ষক নুরুল ইসলামের মাধ্যমে কক্সবাজার ও রামুর ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলিতেও প্রচারণা কার্যক্রম ও কয়েকটি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

ইত্যাদিতে প্রদর্শিত ছাদ কৃষির প্রবর্তক গ্রিন সেভার্সের প্রধান আহসান রনির তত্ত্বাবধানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মোঃ মামুনুর রেজার নেতৃত্বে নওগাঁ জেলার পত্নীতলার ১১টি ইউনিয়ন, মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, তানভীর আনজুম তুষারের নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, শফিকুল ইসলাম সিহাবের নেতৃত্বে টাংগাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, মোঃ আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, সায়েম রাফির নেতৃত্বে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং কে.এম. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে পটুয়াখালী সদর উপজেলার অন্তর্গত ৩টি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

তাদের সবার মুখে একটিই স্লোগান ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’।