অর্থের ঝনঝনানি আর গ্ল্যামারের হাতছানি, সঙ্গে মারকাটারি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট; ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে এই তিনটি জিনিস দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়। বর্তমান সময়ে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট এই আইপিএল।

গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল আইপিএলের ১৩তম আসর। কিন্তু গোটা ভারত লকডাউন করে দেয়ায় আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে এবারের আসর। কবে হতে পারে এটি, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত কোন তথ্য আয়োজকদের কাছে।

খেলোয়াড়, কোচ, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সবাই চান ছোট পরিসরে হলেও যেন আইপিএলটা হয় ঠিকঠাক। এর ব্যতিক্রম নন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান সময়ে ধারাভাষ্যকার হিসেবে এগিয়ে চলা কেভিন পিটারসেনও। তিনি বরং এক ধাপ এগিয়ে।

পিটারসেন চান, করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে আইপিএলই হোক সারা বিশ্বে ক্রিকেট শুরুর উপলক্ষ্য। বিশ্ব ক্রিকেটে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তা কাটানর জন্য হলেও আইপিএল শুরু হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক।

স্টার স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি বিশ্বাস করি, আইপিএল হওয়া উচিৎ। ধরে নেই যে, খুব শীঘ্রই হলেও জুলাই-আগস্টে হয়তো হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেট মৌসুমের দুর্দান্ত শুরু হতে পারে এটি। বিশ্বের সব খেলোয়াড় আইপিএল খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।’

খেলাধুলা বন্ধ হওয়ার আগে মার্চ মাসে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে বেশ কিছু ম্যাচ দেখেছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নির্দেশনা মেনে আইপিএলের জন্যও এমন পরামর্শ রয়েছে পিটারসেনের কাছে। তার মতে খেলাগুলো বেশি স্টেডিয়ামে না দিয়ে, মাত্র তিনটি ভেন্যুতে শেষ করা যায়।

পিটারসেন বলেন, ‘এখন এটাকে হয়তো তিন ভেন্যুতে আবদ্ধ একটা টুর্নামেন্ট করা যায়। যেটা আমরা জানি যে, নিরাপদ। এখন দর্শকদের ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক হবে না বলে মনে করি। তাদেরও বুঝতে হবে, এই পরিস্থিতিতে তারা আগামী বেশ কিছুদিন মাঠে বসে ম্যাচ দেখতে পারবে না।

একইসুরে কথা বলেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারও। তিনি বলেন, ‘সব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে আইপিএল শুরু করা উচিৎ। কারণ আপনি যখন আইপিএলের ব্যাপারে কথা বলছেন, তখন এটা অর্থনীতিতেও অনেক সাহায্য করবে। বিষয়টা শুধু মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বা ধোনি, কোহলিদের নয়। অনেক মানুষ আছে যারা আইপিএলের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা উপার্জন করে থাকে।’